সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অন্তরালে থেকেই না ফেরার দেশে মিঠু মুখোপাধ্যায়
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫১ পিএম   (ভিজিট : ৪)
শেষ দেখা গিয়েছিলো ‘আশ্রিতা’ সিনেমায়। ব্যস ওখানেই ফুলস্টপ দেন ক্যারিয়ারে। এরপর রুপালী পর্দায় যেমন তেমনি শোবিজের সঙ্গেও সম্পর্ক সাঙ্গ করে থিতু হন মুম্বাই শহরে। সকলের অন্তরালে সেখানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সুচিত্রা পরবর্তী উত্তমের নায়িকা মিঠু মুখোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে গুণী এই অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর। 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই মিঠু ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন, তবে তা প্রকাশ্যে আনেননি চিরকালীন ব্যক্তিত্বসম্পন্না এই অভিনেত্রী। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বহু বছর হল মুম্বইয়েই থাকতেন তিনি। এমনকি দক্ষিণ কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। গত এক বছর ধরে মুম্বইয়েই চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। রবিবার রাতে মৃত্যু হয় তার।

একটা সময় বাংলা ছবির পর্দায় মিঠুর উপস্থিতিই ছিল আলাদা আকর্ষণ। মিষ্টি মুখ, সাবলীল অভিনয় আর চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা— অল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই একাধিক মনে রাখার মতো চরিত্র উপহার দিয়েছিলেন তিনি। বাংলা ছবির পাশাপাশি কাজ করেছেন হিন্দি এবং ওড়িয়া ছবিতেও। ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত বিস্তৃত তার অভিনয়জীবন। বাসু চ্যাটার্জীর চারটি সিনেমায় কাজ করে আলাদা সম্মানও অর্জন করেন।

১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ দিয়ে বড়পর্দায় তাঁর অভিষেক। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সমিত ভঞ্জ। তবে প্রথম ছবির পরেই যে সাফল্য এসেছিল, তা নয়। ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ তাঁকে দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে। আলিবাবার পরিচারিকা মর্জিনার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিঠু। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন দেবরাজ রায়। এই ছবির সাফল্যের পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

এর পরেই আসে ‘নিশিকন্যা’। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের এই ছবিতে মিঠুর বিপরীতে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ১৯৭৪ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে। নীপা চরিত্রে মিঠু এবং সিতেশের ভূমিকায় রঞ্জিত মল্লিকের জুটি দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়। ছবিতে অবশ্য শুধু এই জুটি নয়, ছিলেন উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুপকুমার, চিন্ময় রায়, রবি ঘোষের মতো শিল্পীরাও।

‘মৌচাক’-এর পর রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ফের জুটি বাঁধেন ‘স্বয়ংসিদ্ধা’য়। ১৯৭৫-এর এই ছবিটিও তাঁর অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ। এর আগে ‘কবি’ ছবিতে দেবরাজের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন মিঠু। পরের বছর ‘চাঁদের কাছাকাছি’ এবং ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এর মতো ছবিতে কাজ করেন।

এই সময়েই বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও পা রাখেন মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহের ‘খান দোস্ত’ ছিল তাঁর হিন্দি ছবিতে অভিষেক। শত্রুঘ্ন সিন্হার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন রাজ কাপুরও। এর পর বাসু চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’-তে দেখা যায় তাঁকে। ‘দিল্লাগি’-তে আবার শত্রুঘ্নের বিপরীতে ছিলেন মিঠু।

বাংলা ছবিতেও তখন তাঁর ব্যস্ততা অব্যাহত। ১৯৭৭ সালে ‘প্রতিমা’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন মিঠু। ছবিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর ভূমিকায় ছিলেন সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। এই ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছিল।

বিভিন্ন ভাষার ছবিতে অভিনয় করলেও, প্রায় দুই দশকেরও কম সময়ের তাঁর অভিনয়জীবন। কিন্তু সেই সময়েই মিঠু কাজ করেছেন উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেবরাজ রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, রাজ কাপুর, বিনোদ মেহরা, নবীন নিশ্চল, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপকুমার, মহুয়া রায়চৌধুরী-সহ বাংলা ও হিন্দি ছবির বহু বিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে।

বর্ষীয়ান অভিনেত্রী পর্দা থেকে সরে গিয়েছিলেন অনেক আগেই। কিন্তু ‘মৌচাক’-এর নীপা, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’-র মর্জিনা কিংবা ‘আশ্রিতা’-র চরিত্র হয়ে তিনি রয়ে গিয়েছিলেন দর্শকের মনে।

আজকালের খবর/আতে









Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft