কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও বাজিতপুরে হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়া শিয়ালের কামড়ে দু'দিনে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। শিয়ালের আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি গবাদিপশুও।
গুরুতর আহত হয়েছে তিনটি ছাগল ও দুটি গরু। শিয়ালটি এখনও ধরা না পড়ায় কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ঈশা খান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদীর মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পাড়া মন্ডলভোগ গ্রামে একটি শিয়াল প্রথমে দুটি গরুকে কামড় দেয়। গরু দুটিকে রক্ষা করতে মালিকেরা এগিয়ে গেলে শিয়ালটি তাদের ওপরও আক্রমণ করে। পরে একে একে নয়জন নারী-পুরুষকে কামড়ে আহত করে।
আহতরা হলেন- ছকিনা বেগম (৫০), শামসুন্নাহার (৪৫), হারিছা বেগম (৩৪), পারভীন আক্তার (৩০), জোছনা আক্তার (৩৮), জরিনা বেগম (৩৭), সবুজ মিয়া (৫৫), কাশেম আলী (৪৫) ও বোরহান মিয়া (৩৮)।
বোয়ালিয়া তাহেরা নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আবু সিদ্দিক বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং দুজনকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউনিয়নের বামনগাঁও, ছয়পাইকা, কালিকাপুর, ইন্দুরদাইরসহ বিভিন্ন গ্রামে শিয়ালের কামড়ে আরও নয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাইম মিয়া (২৫), উসমান মিয়া (৩৫), টেনাই মিয়া (৪৫), ইমন মিয়া (২৫), রুকসানা (৩৫), সখিনা খাতুন (৩৫), আকলিমা খাতুন (৪০), আনোয়ারা (৫০) ও জামাল মিয়া (৪৫) রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে আক্রান্ত গ্রামগুলোতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যার পর অনেকে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিয়ালটিকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ঈশা খান বলেন, মঙ্গলবার রাতে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি জলাতঙ্কের টিকা দেয়া হয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস