বাবা-মা কেউ নেই। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চার ভাই-বোন। নিজেদের উপার্জনের সামর্থ্যও নেই। ছোট দুটি বাড়ির একটিতে বড় ভাই থাকেন, অন্যটিতে অসহায় চার ভাই-বোনের বসবাস। অভাব-অনটনের এমন বাস্তবতায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় ওই পরিবারের বাড়িতে যান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। এ সময় তিনি প্রতিবন্ধী চার ভাই-বোনের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে চাল, ডাল, আটা, তেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
অসহায় চার ভাই-বোন হলেন, আকবর আলী, বেবিয়া খাতুন, আদম আলী ও আবু মুসা। তারা সবাই জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের বাবা মৃত লজিবর আলী আকন্দ। প্রায় এক বছর আগে তিনি মারা যান। এর একযুগ আগে মারা যায় তাদের মা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোট ছয় ভাই-বোনের মধ্যে বড় ভাই রফিকুল ইসলাম এবং এক বোন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন। অন্য চারজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর চার ভাই-বোনের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে বড় ভাই রফিকুল ইসলামের ওপর। তাদের নিজেদের সামান্য কিছু কৃষি জমি রয়েছে। সেই জমিতে চাষাবাদ করে রফিকুল ইসলাম। এতে যা আয় হয় তা দিয়েই রফিকুল ইসলাম নিজের সংসার চালানোর পাশাপাশি চার ভাই-বোনেরও ভরণপোষণে সহযোগিতা করেন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকবর আলী একসময় বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এর কিছুদিন পর স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে আকবর আলীর ছেলে অটোভ্যান চালিয়ে সংসার চালায় এবং বাবাকে দেখেন।
চার ভাই-বোনের থাকার জন্য রয়েছে দুটি ছোট বাড়ি। একটি বাড়িতে বড় ভাই রফিকুল ইসলাম থাকেন। অন্য বাড়িটিতে থাকেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চার ভাই-বোন। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও তারা পেয়ে থাকেন। তবে সেসব সহায়তা ও বড় ভাইয়ের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবন কাটছে।
স্থানীয়রা জানান, চার ভাই-বোন দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বসবাস করছেন। জন্মগত প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করে আয় করার সুযোগ নেই। বাবা-মা হারানোর পর তাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বড় ভাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের দেখাশোনা করলেও পরিবারের আর্থিক সংকট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন তাদের বাড়িতে পৌঁছিলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তিনি চার ভাই-বোনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাপনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তাদের জন্য খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আলেকজান্ডার, সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন, ভাটগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসেম আলী, পৌর কৃষকদলের সভাপতি সুশান্ত কুমার সরকার শান্ত, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম মজনু, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম রাব্বানী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শাহীন, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরনবীসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আজকালের খবর/ এমকে