পেটের সমস্যায় আমরা প্রায়ই ভুগে থাকি। পেট খারাপ কমতে শুরু করলে এবং ধীরে ধীরে ক্ষুধা ফিরে এলে তিনটি সহজ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। শরীরের এই পর্যায়টি বেশিরভাগ সময় একটি দ্বিধার সৃষ্টি করে। আপনার হয়তো ক্ষুধা পেতে পারে, কিন্তু একইসঙ্গে এই চিন্তাও হতে পারে যে ভুল কিছু খেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে।
আরামদায়ক কিছু খাবার রয়েছে, যা সেরে ওঠার এই পর্যায়ে খাওয়া সহজ হতে পারে। তার মধ্যে একটি হলো সেদ্ধ আপেল বা নাশপাতি। ফলটি কেটে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পানিতে সেদ্ধ করে নরম করে নিতে হবে। এরপর এটি ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী গরম বা ঠান্ডা খাওয়া যেতে পারে।
এ ধরনের ফলে থাকা পেকটিন বা দ্রবণীয় ফাইবার পেটকে শান্ত করতে এবং ধীরে ধীরে ক্ষুধা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। এগুলোর পলিফেনল এবং স্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদের কথাও উল্লেখ করেছেন, যা মন ভালো করতে সাহায্য করতে পারে।
এই তালিকার দ্বিতীয় খাদ্যগোষ্ঠী হলো দই এবং বাটারমিল। এগুলোতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে এবং এটি পেট শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে। তিনি পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা হজমের সাধারণ অস্বস্তিতে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এগুলো খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
পেট খারাপের সাথে যদি মনমরা ভাব, হালকা মাথাব্যথা বা সর্দি-কাশির মতো উপসর্গও থাকে, তাহলে দই বা বাটারমিল্কের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃতীয়টি হলো আমাদের দেশের সবচেয়ে আরামদায়ক খাবার- ভাত। সামান্য লবণ এবং গোলমরিচ দিয়ে সেদ্ধ করে রাইস স্যুপ হিসেবে খেতে পারেন। এছাড়াও সাধারণ ডাল-ভাত, খিচুড়ি বা শুধু লবণ এবং সামান্য ঘি দিয়ে ভাত খেতে পারেন। এগুলো হালকা, সহজে হজমযোগ্য আরামদায়ক খাবার যা সেরে ওঠার পর্যায়ে উপযুক্ত হতে পারে।
পেট খারাপ থেকে সেরে ওঠার সময় কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে কোল্ড ড্রিংকস, চিপস, চকোলেট, প্যাকেট জুস, এনার্জি ড্রিংকস এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়। প্রথম ৪৮ ঘণ্টা পনির, ডিম এবং আমিষ খাবারের পাশাপাশি কাঁচা সালাদও এড়িয়ে চলতে হবে। পাকস্থলী সেরে উঠতে শুরু করার সময় সহজ ও সাধারণ খাবার গ্রহণ করলে তা অস্বস্তি এড়াতে সাহায্য করবে।
আজকালের খবর/বিএস