উৎসবমুখর পরিবেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বস্তরের অংশগ্রহণে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহত্তর নোয়াখালী ব্যাংকার সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা। গত ২৪ আগস্ট সোমবার রোমের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত ‘কাসাল দি মারতিনিয়ানো’য় দিনব্যাপী এ আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রবাস জীবনের কর্মব্যস্ততার মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজন যেন ইতালিপ্রবাসী নোয়াখালীবাসীর জন্য এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়।
সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম (সিমনে)-এর সভাপতিত্বে এবং প্রধান সমন্বয়কারী মো. বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের স্থায়ী কমিটির প্রধান হাজী আব্দুল ওয়াহাব। প্রধান বক্তা ছিলেন ১ নম্বর সম্মানিত সদস্য সোহেল চৌধুরী। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সমিতির উপদেষ্টা শাহ তৌহিদ কাদের। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. সুমন মিয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম, আইয়ুব আলী, সিরাজ পঞ্চায়েত, মো. বাহার, এ. কে. আজাদ, হাফেজ আহমেদ, শিমুল চৌধুরী, মো. সোহাগ, আলী খান, তোফায়েল আহমেদ, আবুল কালাম খোকন ও আলমগীর কবিরসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দিনব্যাপী আয়োজনে নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য ছিল নানা আকর্ষণীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। পুরুষদের সাঁতার প্রতিযোগিতা, নারীদের ঐতিহ্যবাহী বালিশ খেলা এবং শিশুদের দৌড়ঝাঁপে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৬০ ইঞ্চি ফ্ল্যাট টেলিভিশন দেয় বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি ইতালি এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৪০ ইঞ্চি ফ্ল্যাট টেলিভিশন দেয় বৃহত্তর নোয়াখালী নারী কল্যাণ সংঘ ইতালি।
এ ছাড়া সাবেক ফেনী জেলা সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. বাহার ও ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর সৌজন্যে তিনটি স্মার্টফোন, ব্যবসায়ী হারুন পাটোয়ারীর সৌজন্যে একটি বিশেষ লাক্স পুরস্কার এবং ‘বিএমপি এসআরএলএস অত্তাভিয়ানো’-এর পক্ষ থেকে আরও ২৯টি উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
নারীদের বালিশ খেলায় বিজয়ীদের জন্য আলেকজান্ডার গ্যারেজের স্বত্বাধিকারী আলেকজান্ডার মেকানিকের সৌজন্যে ৩২ ইঞ্চি ফ্ল্যাট টেলিভিশন, মাহফুজুর হক টিপুর সৌজন্যে মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং আবুল খায়েরের সৌজন্যে স্মার্টফোন প্রদান করা হয়।
পুরুষদের সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে স্মার্টফোন দেন শিমুল চৌধুরী ও সিরাজ পঞ্চায়েত। তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে টেবিল ফ্যান দেন বেলাল হোসেন। শিশুদের বিনোদন ও ক্রীড়া পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জসিম উদ্দিন রুবেল।
রোমের দূরদূরান্ত থেকে আগত প্রবাসীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়। কর্নেলিয়া, অত্তাভিয়ানো, লার্গো প্রেনেস্তে, মেট্রো গারবাতেল্লা ও তোরপিনাত্তারার নির্ধারিত পয়েন্ট থেকে বাসগুলো অতিথিদের অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসে। বাসগুলোর সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন নুরুল আমিন ওমর ফারুক সিন্নু।
অনুষ্ঠানের সফল ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মো. মাসুদ, আব্দুল মজিদ বাবুল, হাসান মামুন, কামাল উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, মো. বাতেন, মোজাম্মেল হক, মো. শিপন, সোহেল রানা, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, মো. ইব্রাহিম, মো. মোতালেব, ইকরামুল হক, হারুন উদ্দিন, মো. আলী মোহন, মো. পলাশ, মো. সিরাজুল হক (জামাল), রেজাউল হক মিন্টু, জসিম উদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর, আবুল কাশেম, মো. রিপন, আব্দুল মান্নান রাসেল ও মো. মাসুদ।
এ ছাড়া সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো. সাইফুল ইসলাম পারভেজ, মো. মাহবুবুল হক টিপু, আলিউল্লাহ, মো. সোহাগ, মো. মাসুদ, আলাউদ্দিন পারভেজ, আশরাফ উদ্দিন হৃদয়, কামরুল ওয়াহাব, তাসফিক এলাহী, মো. ইয়াছিন, মো. সোলায়মান, জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর সরদার, স্বপন মিয়া, মো. সাইফুল ওয়াহাব, মো. সোহেল, দিদার উল্লাহ ও আবুল আহসান মিনু।
আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সুদূর প্রবাসে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আঞ্চলিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
ভোজপর্ব, আড্ডা ও স্মৃতিচারণে ভরপুর এ আয়োজন ইতালিপ্রবাসী নোয়াখালীবাসীর মাঝে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানান আয়োজকরা।
আজকালের খবর/এমকে