কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা দ্বীপে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) জমিতে নির্বিচারে প্যারাবন কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকটি সংঘবদ্ধ গ্রুপের বিরুদ্ধে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এসব প্যারাবন কেটে মাছের ঘের ও লবণ চাষ করা হচ্ছে ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধলঘাটা দ্বীপের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বেজার জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্যারাবন উজাড় করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। প্যারাবন কেটে কোথাও মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও লবণ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান , এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কেউ কেউ নিজেদের বিএনপির লোকজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে প্যারাবন কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শাহজাহান, সিরো, তাজউদ্দীন, ইউসুপ কুড়ি, জসিম উদ্দিন জসু, নাছির হায়দার, লম্বা বখতিয়ার, নুরুল আলম পুতু, ইকবাল বাহার, আব্দুল জব্বার, আবু তাহের, অনিক, বোরহান, দিলদার, নজরুল ও জিল্লুরসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বন বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্যারাবন নিধন ও জমি ব্যবহারের এ কার্যক্রম চলে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উপকূলীয় এলাকায় প্যারাবন ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের ঢেউ থেকে বসতি ও জনপদকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে এসব বন কেটে ফেলা হলে ভবিষ্যতে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তাদের দাবি, বেজার জমিতে প্যারাবন নিধন ও অবৈধভাবে মাছের ঘের কিংবা লবণ চাষের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে উজাড় হওয়া এলাকায় পুনরায় প্যারাবন সৃজন এবং বেজার জমি দখলমুক্ত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এব্যাপারে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ( বেজা) বলছেন, প্যারাবন নিধন ও দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে কয়েকজনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। আবার অনেকেই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
আজকালের খবর/বিএস