গাজীপুর মেট্রো সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান (এলিস) বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত বিজয়ের মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এ আন্দোলন ছিল জনগণের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি আন্দোলনে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা, যথাযথ পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ কর্তৃক আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক-শহীদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৬ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপি ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। ওই সময় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন গুম খুন করা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গাজীপুরের রাজনৈতিক নেতা অধ্যাপক এম. এ. মান্নানসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দেয়া হয় এবং দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে কাজী আজিমউদ্দিন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কাজী মাহবুব-উল-হক গোলাপের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- এস. এম. মাসুদ রানা (আতাউর), মো. কামরুজ্জামান শামীম, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ অহিদুল ইসলাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজন।
আলোচনা শেষে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহিদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আজকালের খবর/বিএস