রবিবার ● ১ নভেম্বর ২০২৬
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা চিরতরে খারিজ
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম   (ভিজিট : ০)
মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা মানহানির মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। শনিবার এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ড্যারিন পি. গেইলস মামলাটি খারিজ করলেন।

এবার মামলাটি খারিজ করা হয়েছে চিরতরে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে লেখা ট্রাম্পের নাম সম্বলিত একটি কুরুচিপূর্ণ জন্মদিনের চিঠি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জেরে ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ২০ বিলিয়ন ডলারের মানহানীর মামলা করেছিলেন। 

শনিবার বিচারক ড্যারিন পি. গেইলস তার রায়ে বলেছেন, রুপার্ট মারডকের মালিকানাধীন সংবাদপত্রটি যখন এই খবরটি প্রকাশ করে, তখন তারা প্রকৃত বিদ্বেষ নিয়ে কাজ করেছিল; ট্রাম্প তা যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। চিঠিটি লেখার বিষয়টি ট্রাম্প অস্বীকার করার পর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের উচিত ছিল প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করা— প্রেসিডেন্টের এমন যুক্তি খারিজ করে দিয়ে গেইলস বলেন, এই ধরনের বাধ্যবাধকতা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীকে লঙ্ঘন করবে।

বিচারক লিখেছেন, যদি এটিই আইন হতো, তবে যেকোনো জনপরিচিত ব্যক্তি বা তার দল কোনো অভিযোগ অস্বীকার করলেই সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে নেতিবাচক বা বিপরীতমুখী সংবাদ প্রকাশ করা থেকে অবরুদ্ধ হয়ে যেতেন।

এই রায়টি আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের আইনি লড়াইয়ে আরেকটি বড় ধাক্কা এবং ট্রাম্পের এই মামলার নিন্দা জানানো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর কাছে নিশ্চিতভাবেই উদযাপনের একটি বিষয়।

এর আগে এপ্রিল মাসে বিচারক গেইলস এই ২০ বিলিয়ন ডলারের মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। তখন তিনি রায় দিয়েছিলেন যে, ট্রাম্পের মূল অভিযোগে বিদ্বেষের যে দাবি করা হয়েছিল তা ছিল ’প্রথাসিদ্ধ’ এবং কোনো জনপরিচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ডের আশেপাশেও ছিল না।

তবে সে সময় বিচারক মামলাটি ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্ন না করে খারিজ করেছিলেন, যা ট্রাম্পকে সেই ত্রুটিগুলো সংশোধন করে একটি সংশোধিত অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ দিয়েছিল। শনিবারের রায়ে গেইলস দেখতে পান যে, ট্রাম্পের সংশোধিত অভিযোগটি এখনও সেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেনি এবং এবার তিনি মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করে দেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মূল প্রতিষ্ঠান ডাউন জোন্সের একজন মুখপাত্র সিএনএন-কে বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট।’ তবে ট্রাম্পের আইনি দল ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে। একজন মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং অন্যান্য সমস্ত বিবাদীদের বিরুদ্ধে তার এই শক্তিশালী মামলা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখবেন।

যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ চিঠিটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্প দ্য জার্নাল, এর মূল সংস্থাগুলো, মারডক এবং দুজন প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ট্রাম্প চিঠিটি লেখার কথা অস্বীকার করেন এবং জার্নালের বিরুদ্ধে জেনেশুনে একটি মিথ্যা গল্প প্রকাশের অভিযোগ তোলেন। মামলাটি বিশেষভাবে অস্বাভাবিক ছিল কারণ ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় এটি দায়ের করেছিলেন। সিএনএন-এর সাথে কথা বলা আইনি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কোনো দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট তার বিরুদ্ধে হওয়া প্রতিবেদনের জন্য কোনো সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন; এমন অন্য কোনো ঘটনা তারা মনে করতে পারছেন না। তবে এটি ট্রাম্পের একটি পরিচিত এবং দীর্ঘদিনের আচরণের অংশ; তার সম্পর্কে অপ্রীতিকর খবর প্রকাশের জন্য সংবাদ সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আদালতের ব্যবহার করা।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সংবাদ প্রকাশের জেরে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে একটি ১৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলাও দায়ের করেছেন। গত বছর একজন বিচারক মূল অভিযোগটি খারিজ করে দিলেও ট্রাম্পকে আবার তা দায়ের করার অনুমতি দেন। জুলাই মাসে বিচারক টাইমসের মামলা খারিজের আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন এবং ট্রাম্পকে তার অভিযোগটি আবার সংশোধন করার নির্দেশ দেন, যা তিনি আগস্টে করেছিলেন।

গত বছরের শেষের দিকে, ক্যাপিটল হিলে হামলার বিষয়ে একটি তথ্যচিত্রে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ভাষণের সম্পাদনার জেরে ট্রাম্প বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেন। ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি আদালতে মামলার বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা জানিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস আগে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের কয়েকদিন আগে প্রকাশিত একটি জরিপের জেরে ট্রাম্প আইওয়ার ভোট গণনাকারী জে. অ্যান সেলজার, তার পোলিং কোম্পানি, দ্য ডেস মইনেস রেজিস্টার এবং এর মূল সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সেই জরিপে দেখা গিয়েছিল যে তিনি আইওয়াতে ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রার্থী কমলা হ্যারিসের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। একজন বিচারক গত সেপ্টেম্বরে সেই মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করে দেন।

আইনি বিশেষজ্ঞরা এই মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন এবং ত্রুটিযুক্ত বলে মনে করছেন। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে জয়লাভ করা হয়তো ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য নয়; মামলার প্রচার এবং দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ের হুমকি সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং তাদের আক্রমণাত্মক সাংবাদিকতাকে স্তিমিত করে দিতে পারে। সূত্র: সিএনএন

আজকালের খবর/বিএস 







আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft