নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে এখন পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগের নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিকতায় একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও একই ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তী সময়ে শেরপুর ও বগুড়ার দুটি উপনির্বাচনেও এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিজিবি, এসআরপি ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মনিটরিং করা হবে। বডি ক্যামেরার পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশের বডি ক্যামেরা এবং বিজিবির ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, এই সার্ভিলেন্স রেখে আমরা এখান থেকে মিনিট বাই মিনিট মনিটরিং করব।
তিনি জানান, ভোটের দিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদ পোর্টালে প্রকাশিত খবর এবং তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইসি সচিব বলেন, কেননা প্রত্যেকটা নিউজের পেছনে কিছু না কিছু ভালো উপাত্ত পাওয়া যায়। সেই উপাত্তটা আমাদের জন্য গ্রহণীয় এবং সেই উপাত্ত অনুযায়ী আমরা যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই, তাহলে নেওয়ার দায়িত্বটা আমাদের।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে আরও ভালো নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আখতার আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে তাদের সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন তিনি। সাংবাদিকরা কমিশনের কার্যক্রম দেখলে ও বুঝলে নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন। একটি ভালো কাজকে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিতে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান।
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ এবং সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে ইসি সচিব বলেন, কোনো অভিযোগকেই ছোট করে দেখার পক্ষপাতী নন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক অবস্থানও নিতে চান না।
আখতার আহমেদ বলেন, প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে আমার কী বলা যেতে পারে, ডিফেন্সিভও না। প্রতিটি অভিযোগের আমি একটু আগে বলেছি, প্রতিটি খবরেরই কোনো না কোনো মূল্যায়ন আছে। আমরা আগামীকালকেই প্রমাণ পাব যে কোনটা ঠিক আর কোনটা ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কাজেই কাল পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতেই হবে।
তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের পরিস্থিতি হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পরদিন ভোট গ্রহণ শুরু হবে কিনা। তখনো তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের পর ফলাফল প্রকাশের সময়ই প্রমাণ পাওয়া যাবে কোনটি সত্য আর কোনটি ভুল।
ইসি সচিব বলেন, আমরা একটু অপেক্ষা করি। কালকে সকাল আটটা পর্যন্ত।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সব শ্রেণির ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, সেই পরিবেশ রয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
আখতার আহমেদ বলেন, এখনো পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ আমরা পাইনি এবং ইনশাল্লাহ পাব না।
আজকালের খবর/বিএস