বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬
নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম   (ভিজিট : ৪)
শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে অনুষ্ঠানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মান বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে আরো ভালো নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
 
সিইসি বলেন, একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করেই কমিশনের দায়িত্ব শেষ হবে না। ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও একই মান বজায় রাখতে নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সিইসি জানান, কমিশন কোনো পক্ষের চাপ ছাড়াই কাজ করছে। কর্মকর্তাদের পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও জরুরি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন এবং প্রবাসী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কারাবন্দীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন থাকতে পারে। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন সিইসি। এ লক্ষ্যে নভেম্বরের মধ্যেই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় কমিশন। সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় এ নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি দেখা গেছে। তাই আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা থাকবে।
 
সিইসি বলেন, আচরণবিধি বাস্তবায়নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর লাগতে পারে বলে জানান সিইসি। প্রথমে ইউপি নির্বাচন, এরপর পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসএসসি পরীক্ষা ও বর্ষা মৌসুমের সম্ভাব্য বন্যা বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিইসি। এ লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
 
সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সুযোগ, নির্বাচনী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা এবং তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ওপরও গুরুত্ব দেন সিইসি।

তিনি বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা চান তিনি।

আজকালের খবর/বিএস 







আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft