মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেনের রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহত ১৭
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম   (ভিজিট : ০)
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষে অন্তত ২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মস্কো-নিয়োজিত গভর্নর জানিয়েছে, রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সিমফেরোপল থেকে মস্কোগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

রুশ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ম্যাক্সে ইয়েভগেনি বালিতস্কি জানিয়েছেন, সিমফেরোপল-মস্কো রুটে চলাচলোকারী একটি যাত্রীবাহী বাস শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ৩১ জন যাত্রী ছিল বাসটিতে। তাদের মধ্যে ১ জন নিহত হয়েছেন। হামলাটি প্রিমোর্স্ক শহরের কাছে ঘটেছিল। আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সরাসরি জরুরি সেবা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি জানিয়ে তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন হয়নি, তাদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কিয়েভের পরিবহন অবকাঠামো, খারকিভ অঞ্চলের একটি লজিস্টিক সেন্টার এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত নৌযান লক্ষ্য করে স্থলভিত্তিক অস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এখন অত্যন্ত জটিল মোড় নিয়েছে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে। যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই উভয়পক্ষের সামরিক কৌশল ও লক্ষ্যবস্তু প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় মিত্রদের সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিধি বিস্তৃত করেছে। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো ইউক্রেনের দূরবর্তী এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যাকে 'শহরের যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক বছরে রাশিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের প্রাথমিক সামরিক ঘাঁটি এবং ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র কারখানাগুলো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের অস্ত্র উৎপাদন ও ড্রোন সংযোজন কেন্দ্রগুলো দেশের বিভিন্ন ছোট-বড় শিল্প কারখানা এবং সাধারণ গুদামঘরে ছড়িয়ে দেয়। ইউক্রেনের এই কৌশলগত স্থানান্তরের জবাবে রাশিয়াও তাদের আক্রমণের নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যেকোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক স্থাপনা যা ইউক্রেন সামরিক ড্রোন বা সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে, তা সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহু শিল্পকারখানা হামলার মুখে পড়েছে এখন।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে যেসব কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারে গোলাবারুদ রাখা হতো, সেগুলো ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হওয়ায় ইউক্রেন তাদের গোলাবারুদের মজুদ দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় স্থানান্তর করেছে। এমনকি পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আসা আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রও এ ধরনের অস্থায়ী কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে এসব স্থানে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে, তা অনেক সময় পাশের আবাসিক এলাকার জন্য তৈরি করছে মারাত্মক ঝুঁকি। 

আজকালের খবর/বিএস 







আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft