
বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের বিষয়ে আগ্রহী নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাটাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে, তাই কোনো ধরনের যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো বিলাসিতা বাংলাদেশের নেই।
শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন এক জটিল নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর প্রভাব সবাইকে ভোগ করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সমস্যা সহজে শেষ হওয়ার নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পেছনে রয়েছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা।
এ সময় ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনা করে তিনি জানান, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে দুই দেশ প্রায় একই অবস্থানে থাকলেও চীন উৎপাদনমুখী শিল্পে এবং ভারত সেবা খাতে মনোযোগ দেওয়ায় চীনের অগ্রগতি বেশি হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি দায়িত্বশীল অংশ এবং দেশটি সব সময় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা চায়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো পরাশক্তিগুলো বড় বড় দ্বন্দ্ব সামলাতে পারলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও ভোক্তা দেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাবে দেশের সঙ্গে সম্পর্কহীন যুদ্ধের দায় হিসেবেও বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব মোড়লরা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক সহযোগিতা করবে। এ দেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত পরিশ্রমী উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষের শান্তিতে কাজ করার জন্য কেবল একটি স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সিজিএস আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন। তিন দিনব্যাপী এই কনভারসেশনে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন, যা আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব