বৃহস্পতিবার ● ১ অক্টোবর ২০২৬
পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পিএম  আপডেট: ৩০.০৯.২০২৬ ১:১৮ পিএম  (ভিজিট : ১২)
অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

বরখাস্তকৃতরা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান এবং গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এস এম মেহেদী হাসান ডিএমপির (ট্রাফিক-দক্ষিণ) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। পরবর্তীতে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ই-মেইলে নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি কর্মস্থলে হাজির হননি। 

মেহেদী হাসান ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে ‘পলায়ন’ এর আওতাভুক্ত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ অধিদপ্তর থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়। এ প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৯ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

জবাব দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি জবাব দাখিল করেননি। 

একইসঙ্গে তিনি সময় বৃদ্ধিরও কোনো আবেদন করেননি। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এবং অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপযোগ্য হবে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় অভিযোগসমূহ তদন্তের জন্য ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। 

তদন্ত শেষে দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে ‘পলায়ন’- এর অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। বিধি মোতাবেক চলতি বছরের ৪ জুন দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়। তিনি দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশেরও জবাব দাখিল করেননি।

এস এম মেহেদী হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। 

এরপর এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। সরকারি কর্মকমিশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় মর্মে পরামর্শ প্রদান করে। 

‘পলায়ন’ এর অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। 

অপর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী গাজীপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এ কর্মরত থাকাকালে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক তাকে দুই মাসের বিশ্রামের পরামর্শ দেন। বিশ্রাম শেষে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি যোগদান করেননি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য তার স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ জারি করা হলেও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

তিনি ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি  থেকে কর্মস্থল থেকে প্রস্থান করে অদ্যাবধি কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এ ধরনের কর্মকান্ড সরকারি দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা এবং ‘অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’-এর আওতাভুক্ত যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ অধিদপ্তর হতে পত্র প্রেরণ করা হয়। বিধি অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তিনি জবাব দাখিল করেননি। একইসঙ্গে তিনি সময় বৃদ্ধিরও কোনো আবেদন করেননি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের গুরুত্ব বিবেচনায় এবং অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপযোগ্য হবে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’'-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে মতামত প্রদান করা হয়েছে। তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

তিনি দ্বিতীয় কারণ দর্শানে নোটিশেরও জবাব দাখিল করেননি। মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরে সরকারি কর্মকমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। সরকারি কর্মকমিশন তাকে ‘চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় মর্মে পরামর্শ প্রদান করে। 

বিধি অনুসারে, অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

আজকালের খবর/ এমকে








আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft