সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও পরিচিত করে তোলা, পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ ও অর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হবে 'কুয়াকাটা পর্যটন ফার্নিভাল ২০২৬'।
এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে কার্নিভালের কর্মসূচি ও আয়োজন সম্প্যাক গণমাধ্যমকে অবহিত করার লক্ষ্যে আগারগাঁও পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে সিট দি প্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) ও (গ্রেড-২) মো. গনী উল আজম।
মিট দি প্রেস অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দিবস ভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে বলেন, কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য। একই স্থান থেকে সুর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের অনন্য সুযোগ, সমুদ্রসৈকতের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, উপকূলীয় প্রকৃতি, স্বস্থানীয় সংস্কৃতি, রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের জীবনধারা সব মিলিয়ে কুয়াকাটার রয়েছে একটি স্বতন্ত্র পর্যটন বৈশিষ্ট্য।
তিনি বলেন, কুয়াকাটর এই বহুমাত্রিক পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণকে পর্যটন অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদার করা গেলে একদিকে যেমন তাদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারাও পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬' শুধুমাত্র একটি বিনোদনমূলক আয়োজন নয়; এটি কুয়াকাটাকে একটি বহুমাত্রিক, টেকসই ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই কার্নিভালের মাধ্যমে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, পণ্য, খেলাধুলা ও জীবনধারাকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, কার্নিভালের বিডির আয়োজনে সাননীয় মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের সম্মানিত সংসদ সদস্যৰূপসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
দুই দিনব্যাপী এই কার্নিভালে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় আয়োজন। ২৩ অক্টোবর সকালে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিচ ফুটবল খেলার মাধ্যমে কার্নিভালের কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে থাকছে সী-ফুড ও আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল, বিচ ফুটবলের ফাইনাল, রাখাইন সম্প্রদায়ের পরিবেশনা, দেশীয় ফ্যাশন নো এবং মিউজিক কনসার্ট।
২৫ অক্টোবর দিনের শুরু হবে বিচ ম্যারাথন আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরপর গলামতির চনে সূর্যোদয় দর্শন ও পিঠা উৎসব, চর বিজয়ের উদ্দেশ্যে আনন্দ ভ্রমন, সেলিব্রিটি বিচ ক্রিকেট এবং সন্ধ্যায় বাউল গানের আসর, দেশীয় ফ্যাশন শো, স্থানীয় স্কুলের শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিল্পী ও দর্শকদের অংশগ্রহণে কমেডি শো এবং শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনার আয়োজন রয়েছে। সবশেষে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে কার্নিভালের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
আজকালের খবর/বিএস