মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষে রাজকীয় ক্ষমা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কারাগারে থাকা বাকি সাজা তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় ভোগ করতে পারবেন। তবে এ সুবিধার জন্য তাকে ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বিভাগের আইনবিষয়ক বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, কুয়ালালামপুর, লাবুয়ান ও পুত্রজায়ার ফেডারেল টেরিটরিজের জন্য গঠিত ক্ষমা বোর্ডের ৬৪তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠকটি শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। এর আওতায় নাজিবকে তার কারাদণ্ডের অবশিষ্ট সময় ২৩ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এর সঙ্গে ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
ক্ষমা বোর্ডের সচিবালয় জানিয়েছে, রাজকীয় ক্ষমার সঙ্গে যুক্ত সব আইনগত শর্ত নাজিবকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। নির্ধারিত কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে এই শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে তাকে অবিলম্বে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে অবশিষ্ট সাজা ভোগ করানো হবে।
নাজিব ১এমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার মধ্যে এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল দুর্নীতি মামলায় ২০২০ সালে দোষী সাব্যস্ত হন। একই মামলায় তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ২১ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছিল।
আপিলের সবশেষ সুযোগও শেষ হওয়ার পর ২০২২ সালের আগস্টে তিনি কাজাং কারাগারে সাজা ভোগ শুরু করেন। পরে ২০২৪ সালের শুরুতে ফেডারেল টেরিটরিজ ক্ষমা বোর্ডের এক পর্যালোচনায় তার কারাদণ্ড ১২ বছর থেকে কমিয়ে ছয় বছর করা হয়। একই সঙ্গে ২১ কোটি রিঙ্গিতের জরিমানা কমিয়ে ৫ কোটি রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়।
সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে নাজিবের অবশিষ্ট সাজা কারাগারের পরিবর্তে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর সুযোগ তৈরি হলো। তবে গৃহবন্দি অবস্থায় তার ওপর আর কী কী নির্দিষ্ট শর্ত থাকবে, সে বিষয়ে আইনবিষয়ক বিভাগ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এদিকে, নাজিবের বিরুদ্ধে ১এমডিবি-সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক কী সে বিষয়েও বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
আজকালের খবর/এমকে