বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মালয়েশিয়া সবার, কেউ পিছিয়ে থাকবে না
মালয়েশিয়া দিবসে ঐক্য-সম্প্রীতি ও সমতার আহ্বান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩ এএম   (ভিজিট : ২১)
কোনো অঞ্চল বঞ্চিত নয়, কোনো জনগোষ্ঠী বিচ্ছিন্ন নয়, কোনো নাগরিক পিছিয়ে থাকবে না’ এই অঙ্গীকারে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বৈচিত্র্যের শক্তিকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। মালয়েশিয়া দিবস উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

১৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া দিবস উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির অস্তিত্ব দাঁড়িয়ে আছে সরকার ও জনগণ, বিভিন্ন অঞ্চল ও ফেডারেশন এবং আনুগত্য ও ন্যায়বিচারের মধ্যকার পারস্পরিক অঙ্গীকারের ওপর। তাই এ দিনটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণের দিন নয়; এটি জাতীয় অঙ্গীকার নতুন করে নবায়নেরও দিন।

আনোয়ার বলেন, দেশের দীর্ঘ পথচলায় এমন সময়ও এসেছে, যখন জাতিগত ইস্যুকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য বাড়তে দেওয়া হয়েছে এবং মতপার্থক্যকে বিভেদের দেয়ালে পরিণত করা হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

দেশটির ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সমুদ্র মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় স্বপ্নকে আলাদা করতে পারে না। ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘সমুদ্র আমাদের আলাদা করতে পারে, কিন্তু আমাদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও আশাকে নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্যরাও মালয়েশিয়া দিবসে ঐক্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল বলেন, মালয়েশিয়া কোনো একক রাজ্য, অঞ্চল বা জনগোষ্ঠীর গল্প নয়। উপদ্বীপ, সাবাহ ও সারাওয়াক সব মিলেই দেশটির অভিন্ন ইতিহাস। ‘সেগুলাই সেজালাই’ বা একসঙ্গে পথচলার চেতনায় ইতিহাসকে সম্মান, জাতীয় ঐক্য রক্ষা এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেন, আজকের মালয়েশিয়ায় শান্তি ও সম্প্রীতি আগের প্রজন্মের আত্মত্যাগ এবং বর্তমান প্রজন্মের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল। জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের পার্থক্যকে দুর্বলতা নয়, বরং দেশের শক্তি ও পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ খালেদ নরদিন বলেন, মালয়েশীয় হওয়া শুধু একটি পরিচয় নয়; এটি শান্তি, সম্প্রীতি ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার যৌথ দায়িত্ব। ঐক্যবদ্ধ মানুষ, পারস্পরিক আস্থা ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমেই শক্তিশালী মালয়েশিয়া গড়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান বলেন, ভিন্ন জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশ থেকে এলেও মালয়েশীয়দের মাতৃভূমি, আশা ও ভবিষ্যৎ অভিন্ন। ‘মালয়েশিয়া সবার’ এই চেতনায় জাতীয় সংহতি জোরদার এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ডা. জুলকেফলি আহমাদ বলেন, মালয়েশিয়া দিবস শুধু উপদ্বীপ, সাবাহ ও সারাওয়াকের একীভূত হওয়ার স্মরণ নয়; এটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার অঙ্গীকারও নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। জাতি, ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার ন্যায়সংগত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তামন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ সাবু বলেন, জাতীয় ঐক্যের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষক, ধানচাষি, জেলে ও পশুপালকদের কল্যাণ রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নারী, পরিবার ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী দাতুক সেরি ন্যান্সি শুকরি বলেন, সাবাহ, সারাওয়াক ও উপদ্বীপের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে। শহর, গ্রাম কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল সব জায়গার মানুষকে উন্নত জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতিমন্ত্রী দাতুক সেরি টিয়ং কিং সিং বলেন, উপদ্বীপ থেকে সাবাহ ও সারাওয়াক পর্যন্ত বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ভাষা, রীতিনীতি ও ঐতিহ্য মালয়েশিয়ার বিভাজনের কারণ নয়; বরং দেশের সমৃদ্ধ পরিচয়ের অংশ। ‘মালয়েশিয়া মাদানি: কল্যাণ সবার জন্য’ চেতনায় জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

কাজমন্ত্রী দাতুক সেরি আলেকজান্ডার নান্তা লিঙ্গি বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ সৌহার্দ্য, ঐক্য ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ। সাংস্কৃতিক, জাতিগত ও সামাজিক পার্থক্য থাকলেও সবাই একটি মালয়েশীয় পরিবারের সদস্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মালয়েশিয়া দিবস উপলক্ষে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মালয়েশিয়া দিবস উপলক্ষে কুয়ালালামপুরের দ্য টুন রাজাক এক্সচেঞ্জের (টিআরএক্স) রেইনট্রি প্লাজায় আয়োজিত ‘কেরেতাপি সারং ২০২৬’ কর্মসূচিতে ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সারং পরে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

কুয়ালা পার্লিসের জলসীমায় আয়োজিত ‘সমুদ্রযাত্রা কনভয়ে’ অংশ নেয় ৮০টি নৌযান। এতে প্রায় ৭০০ মানুষ অংশ নেন। প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নৌযাত্রা শুরু হয় মালয়েশিয়ান ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির জেটি থেকে। জাতীয় পতাকা ‘জালুর জেমিলাং’ দিয়ে সাজানো নৌযানগুলো কনভয়ে অংশ নেয়।

প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া দিবস পালিত হয়। ১৯৬৩ সালের এই দিনে মালয়েশিয়া ফেডারেশন প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করা হয়। দিবসটি দেশটির ফেডারেল কাঠামো, জাতীয় সংহতি এবং উপদ্বীপ, সাবাহ ও সারাওয়াকের অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

আজকালের খবর/ এমকে








আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft