‘আজকে মুজতবা সউদ যে সম্মান পাচ্ছেন তা অনেকেই পাননি, এজন্য সউদকে সৌভাগ্যবান মনে করি। প্রত্যাশা থাকবে অনেক বরেণ্যজন আমাদের মাঝে নেই তাদের জন্য যেন আমরা স্মরণসভার আয়োজন করতে পারি’- চলচ্চিত্র সাংবাদিক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা মুজতবা সউদ স্মরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন বরেণ্য অভিনেতা ও প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল।
রবিবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) জহির রায়হান কালার ল্যাব মিলনায়তনে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান ও কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন সহকর্মী, চলচ্চিত্রকর্মী ও সংস্কৃতিজনেরা। পরে মুজতবা সউদের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উজ্জল বলেন, মুজতবা নানান গুণে একজন গুণী মানুষ, যিনি আমার ক্যারিয়ারে সবেচেয়ে কাছের মানুষদের একজন ছিলেন। তার স্মরণসভায় কথা বলছি যা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। তবে যা সত্য তা মেনে নিতেই হবে। তিনি বলেন, মুজতবা সউদের মতো খান আতা, সুভাষ দত্ত, এহতেশাম, আনোয়ার হোসেন, খান জয়নুল এমন অনেক গুণীজনরা প্রয়াত হয়েছেন, আমরা তাদেরও স্মরণ অনুষ্ঠান যেন করতে পারি, করা উচিৎ।
মুজতবা সউদের লেখনী সংগ্রহ করে বই আকারে বের করার ওপর তাগিদ দেন বরেণ্য অভিনতা ও প্রযোজক আলমগীর।
আমিন খান তার স্মৃতিচারণায় বলেন, মুজতবা সউদ ভাই কেবল একজন গুণী সাংবাদিক বা চিত্রনাট্যকার ছিলেন না, একজন ভালো মানুষও ছিলেন। তার এই বিশেষ গুণের কারণে বয়সে ছোট হয়েও বন্ধুর মতো ভালোবাসা পেয়েছিলাম।
বাচসাস-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফুল আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্মৃতিচারণা করেন, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান, বাপ্পারাজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, সিনিয়র সাংবাদিক ও শিক্ষক চিন্ময় মুৎসুদ্দি, চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদ, শাহ আলম কিরণ, রায়হান মুজিব, মুশফিকুর রহমান গুলজার, সৈয়দ হারুন, আক্তার ফেরদৌস রানা, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, অভিনেত্রী ফাল্গুনী হামিদ ও ম. হামিদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মুজতবা সউদ চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পাশাপাশি কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনায় ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছিল। ব্যক্তি হিসেবেও তিনি ছিলেন সর্বজন সমাদৃত।
অন্যান্যের মধ্যে পরিচালক মশিহউদ্দিন শাকের, চিত্রনায়িকা রনজিতা, হাবিুবল ইসলাম হাবিব, সিনিয়র সাংবাদিক ও সহকর্মী ইমরুল শাহেদ, সিনিয়র সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল খোকন, শপথ চৌধুরী, প্রযোজক ফরমান আলী, এফ আই মানিক, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, বাচসাস সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মতিহার, প্রযোজক আব্দুল মতিন, মাস্টার শাকিল, সিনিয়র সাংবাদিক ফরিদ বাশার, তুষার আদিত্য, কামরুজ্জামান বাবু, প্রমুখ গুণীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মুজতবা সউদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
মুজতবা সউদের স্মরণসভায় সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ।
মুজতবা সউদ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাহিনি ও সংলাপ রচনা করেন। ‘চাঁদের মতো বউ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ২০০৯ সালে শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজতবা সউদ মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁকে মিরপুরের কালশী কবরস্থানে দাফন করা হয়।