পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ বলেছেন, সৌদি আরব বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং আরো বেশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, ‘যেসব খাতে সৌদি আরবের উল্লেখযোগ্য দক্ষতা রয়েছে, বাংলাদেশের সেসব খাতে তারা বিনিয়োগে আগ্রহী। আমাদের আলোচনায় এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।’
রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ আবদুল করিম এল-খেরেইজির সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শামা বলেন, সৌদি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি তাদের আস্থা পুনর্ব্যক্ত এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
তিনি বলেন, ‘এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
আমাদের অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষ শ্রমবাজারে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করেছে। এ সময় সৌদি আরব আরও বেশিসংখ্যক দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
শামা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, অদূর ভবিষ্যতে সৌদি আরবে একটি যৌথ বিনিয়োগ সভা আয়োজনের আশা করছে বাংলাদেশ।
এতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ-সৌদি রাজনৈতিক পরামর্শ সভা এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী পর্যায়ে উন্নীত হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছে।’
উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি যুবরাজ ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশও সৌদি যুবরাজকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যা কয়েকটি দেশেই রয়েছে। তবে এটি আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল না।
তিনি বলেন, ‘জেদ্দা ও রিয়াদে আমাদের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দল বারবার জোর দিয়ে বলেছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা শুধু একটি খাতে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘তারা বারবার বলেছে, তারা শুধু একটি খাতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। সৌদি আরব ও বাংলাদেশ বহু খাতে একসঙ্গে কাজ করুক, সেটিই তারা চায়। আলোচনার মূল বিষয় ছিল এটিই।’
আজকালের খবর/ এমকে