শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ইচ্ছে
আশরাফ উদ্দীন আহমদ
প্রকাশ: শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৩:২৮ PM
অনেক রাত্রে পটলা আর পচা ফাঁক-ফোকর দিয়ে যাত্রাপ্যান্ডেলের ভেতরে ঢুকে যায়। এলাহি সে কাণ্ডকারখানা দেখে নিজেরাই আঁতকে ওঠে। বিশাল মঞ্চ, রঙিন আলোর ঝকমারি, তার ওপরে ডানাকাটা পরীদের হুলুস্তুল শরীর দোলানো নাচ। হাজার-হাজার মানুষের লোভাতুর দৃষ্টি, হাততালি-হই-হুল্লোড়... আজব আরেক দুনিয়া। চোখ ছানাবড়া দুজনেরই। ধুম নাচের তালে-তালে মানুষ যেন পতঙ্গ, নারী শরীরের বাহার, নাচের তান্ডবে আরো উন্মুক্ত ডানাকাটা পরীদের বিহঙ্গশরীর। শরীর নয় যেন মোমের পুতুল সব, চাবি ঘুরিয়ে দিচ্ছে আর এলোপাথারী নাচছে, নাচ সে নাচ নয় শরীরের অংশগুলোকে আরো খানিক উন্মুক্ত করে দেখানো। রূপের রানি সোনার রানি রাজকুমারি চন্দ্রাবতি... রাজকুমারি পদ্মাবতি... মহুয়া সুন্দরী.... আহা নামের আর শেষ নেই।
মঞ্চের তিনধারে লোকের সমুদ্র, হাজারে-হাজারে মানুষের এই সমাবেশ। সমস্ত মধুলোভীদের দৃষ্টি ওই নরম মাংসের দিকে। বিকট শব্দ আর ফুলভলিউমের মিউজিক এবং গানের পরিবেশ আরো উন্মাতাল। এতো মানুষ একজায়গায় কখনো দেখেনি পটলা-পচা। এতো মানুষ ছিলো বা কোথায়, নারী শরীরের নাচ দেখবার জন্য মানুষ এতো শীতের মধ্যেও ছুটে এসেছে খোলা এই মাঠে। আহা নারী তুমি কতো ভাগ্যবতি...
নিজেদের চোখকে ওরাই বিশ্বাস করতে পারছে না, এ কোন্  দুনিয়ায় এলো আজ। চোখে ওদের  উন্মুক্ত নারীশরীর, যা আবৃত ছিলো এতোকাল কিন্তু কি কঠিন সময়, সেই শরীরই আজ চোখের সামনে।
দেলুয়াবাড়ি বাজার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমমুখো হেঁটে এলেই তাবুর অস্তিত্ব চোখে পড়ে। তাবু অনেক-অনেক তাবু, রাত্রে সেগুলো ঝলমলিয়ে ওঠে। শুধু চোখ মেলে চেয়ে থাকতে আকাক্সক্ষা জাগে না, ভেতরে যেতেও খায়েশ মনের কোণে উঁকিঝুকি মারে। কী হয় ভেতরে কী এমন কারসাজি আছে এর মধ্যে! আসলে সবই ফানুস, রঙের ফানুস যাকে বলে। সেই অদৃশ্য ফানুসই আজ দেলুয়াবাড়ীতে এসেছে সবার মন রাঙাতে। মন আজ রঙের ছোঁয়ায় সপ্ত আকাশ পাড়ি দিয়ে উড়ে যাবে, আহা নারী তুমি সঙ্গি হবে কার? চারদিকে হল্লা ওঠে, নারী তুমি আমার-আমার...
গত দুদিন হালকা বৃষ্টিও ঝরেছে, সন্ধ্যের পর থেমেও গেছে বলে রক্ষে। এবার শীতও বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে, হাড় কাঁপুনি শীত যাকে বলে। কিন্তু ওই গান আর বাদ্য এবং হাইভলিউমে মাইকের শব্দে শীত কোথায় পালিয়ে যায়। হয়তো শীতই কাথার তলায় মুখ লুকিয়ে শরীর মুড়িয়ে শুয়ে ঘুমোচ্ছে।
খোলা মাঠের বুকে অর্থাৎ অবারিত ধানক্ষেত্র যাকে বলে। শীতের আগে রোপাধান গোলায় ওঠে গেছে, এখন শীষের গোড়া জমিময় যত্রতত্র মুখ বাড়িয়ে আছে। সেখানে মেলা বসেছে সপ্তা দুয়েক হতে যাচ্ছে, মাসখানিক চলবে অথবা আরো বেশি। মানুষের পদভারে মেলা হবে আরো প্রসারিত। তখন আরো ব্যবসা জমে যাবে, দোকানিদের মনও ভরে যাবে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষগুলো কেউ কলা বেচবে কেউ বা রাঁধা-কৃষ্ণ লীলা দেখে মন ভরিয়ে বাড়ি ফিরবে। মজার জীবনটা আরো মজে যাবে। মানুষ মত্ত হবে আরো খানিক তারপরও।
গুড়ের-চিনির জিলিপি নানা আকৃতির, নানা ধাঁচের তৈরীতে বিশেষ পারদশি মুইজুল, উত্তরের টিয়াটুঙি গ্রামের গোয়ালা। ওর সাথে আছে পটলা, আর নমোশংকরতলা দেবাষিশ এসেছে পুতুলনাচের দল নিয়ে। সঙ্গে এসেছে তরুণ-রসুল-ঘণা-পচা আর তেতলে। তবে পচা এবং পটলা  দুজনই একই গাঁয়ের বলে সম্পর্ক একটা গড়ে উঠেছে কয়েকদিনেই। শুধু একই গ্রামের বললেও খানিক ভুল হবে, বয়সও ওদের কাছাকাছি, সে কারণে সম্পর্ক মজবুত হয়েছে এরমধ্যেই। মাঝে নাকি ওরা একই স্কুলে কিছুদিন গেছে, কিছু পড়াশুনা করেছে বলেও জানা যায়।
মাঝরাত্রের এমন চোখ ঝলসানো দৃশ্য দেখে ঘুম যেন কোথায় পালিয়ে যায়। নাচের তালে-তালে শরীর যে ওমনভাবে দুলছে, সে তো শরীর নয় যেন তাবৎ দুনিয়া কাঁপছে। পচার জবান বন্ধ হয়ে যায়, পটলা নির্বিকার। সজ্জিত প্যান্ডেল লক্ষ-কোটি নক্ষত্রখচিত আকাশ মনে হয় পচা-পটলার কাছে। আর চারধারের মানুষগুলো হামলে পড়ছে ওদের ওপর, মনে হয় কাছে পেলে যে কী করবে!
—এতো সুন্দরী ডানাকাটা পরীর মতো মেয়েগুলো কোথা থেকে এলো রে?
পচার প্রশ্ন শুনে পটলা জানায়, এগুলো তো কোনো মেয়ে নয়, আসলেই আকাশ থেকে নেমে এসেছে একঝাঁক ডানাকাটা পরী।
—পরী না হাতি, এগুলো প্যান্ডেলের ভেতরেই ছিলো, আমি কাল ওদের ঠিক খোঁজ নেবো।
—খোঁজ নিবি কি রে, ওই হোঁচকা কালো মতো লোক দুটো আছে না, সারাদিন তাবুর নীচে বসে থেকে পাহারা দেয় আর গাঁজায় দম দেয়, ওই যদি তোকে দেখতে পায় তো একেবারে খেয়ে ফেলবে।
—আরে রাখ্ তোর ভয়, খেয়ে ফেলবে, তুই দেখে নিস, আমি কীভাবে ওই প্যান্ডেলে ঢুকে দেখি।
—তা যা করতে পারিস করিস, ওই দেখ্ পরনের কাপড় তো একেবারে খুলে ফেলবে মনে হচ্ছে, চল্ এবার পালাই আমরা।
—কোথায় যাবো, দেখবো আর কতোখানি খোলে।
—যাহ্ আমার খুব লজ্জা লাগছে।
—সবাই তো দেখছে, তোর লজ্জা লাগছে কেনো রে গাধা, চল্ আমরা আরেকটু ভেতরে ঢুকে দেখি।
—না রে আমি পালাই...
—পালাবো কোথায় ওদের দেখবোই!
অনেক রাত্রি এখন। আরেকটু পরে ভোরের আজান দেবে। কিন্তু এখনো সমান তালে নাচ-গান চলছে, মানুষের এতোটুকু কমতি নেই। মানুষের হৈ-হলে¬াড় আর মাইকের গানে সরব এখনো। মঞ্চে চলছে অপেরা, হয়তো শেষ অংশটুকু, ‘বউ হলো রঙের রাধিঁকা’ মানুষ তো নাচের দর্শক, কেউই আর অপেরা দেখবে না। আস্তে-আস্তে ফাঁকা হতে চলছে, পচা-পটলা একটা আসন পেয়ে বসে যায়। সাজঘর থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রী আসছে, সেদিকেই ওদের দৃষ্টি, একঝাঁক ডানাকাটা পরী কোথায় গেলো। নিশ্চয় ওই সাজঘরের ভেতরেই আছে ওরা। পচা-পটলার মন কিছুতেই বসতে চায় না, একবার যদি ওখানে যাওয়া যায়, তাহলে দেখা যাবে। ডানাকাটা পরীদের মুখোমুখি হতে প্রচণ্ড ইচ্ছে করলেও সাহসে কুলোয় না। মনের মধ্যে সাহস সঞ্চয় করে তারপর এগিয়ে যেতে থাকে। বুকের ভেতর খচখচ করতে থাকে, কী একটা শঙ্কা, তারপরও দেখবার নেশা পেয়ে বসেছে ওদের। দেখতেই হবে, এতো এতো সুন্দরী মেয়েগুলো কোথা থেকে এলো... মাটির পুতুলের মতো দেখতে, নাকি ওরা মোমের তৈরী পুতুল।
নমোশংকরতলার দেবাষিশের পুতুলনাচের দল বেশ কামাই করছে মেলায়, পচার কাজ ফাইফরমায়েস খাঁটা, মাঝে-সাঝে ওস্তাদের গায়ে-পায়ে তেল ঘষে দিতেও হয়, কাজটা নেহাৎই পছন্দের নয়, কারণ ওস্তাদ লোকটা বড় ফাজিল। খুব খারাপ-খারাপ কথা বলে, ইঙ্গিতে-আকারে কী সব বোঝায়, পচা সবই বোঝে, একদিন রাত্রে বুকের মধ্যে চেপে ধরেছিলো, আর কি কি সব করতেও চেয়েছিলো চোখ মেরে।
পচা বলেছিলো, আর থাকবো না এখানে।
সেদিন থেকেই একটু নিস্তার পেয়েছে সে। তবে মানুষটার অনেক দোষ, দেবাষিশ মালিক হলেও সে তো পুরো ঠুটো জগন্নাথ। ওস্তাদ কাজ না করলে পুতুলনাচ মুখ থুবড়ে পড়বে। আর সে কারণে বড় বেশি তোষামদ করে, তবে পচাকে যারপরনাই দেবাষিশ ভালোবাসে। ওর বাপ রঙখালি গাঁয়ের রঙের মানুষ অর্থাৎ যাত্রাদলের জোকার ছিলো, বছরের ছয়টি মাস দেশ-গ্রাম গ্রামান্তরে যাত্রাদলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতো। কী তুখোড় জোকারই না ছিলো, মানুষকে হাসাতে পারতো প্রাণভরে। লোকে বলতো যাদু জানে রঙখালির রণক মিত্রি। আর ছয় মাস পেটের ধান্ধায় নছিমন চালাতো। কখনো ঘরামি খাটতো, কখনো বা পরের জমিতে দিনমজুরের কাজ করতো। পানচাষী হিসেবে সাত অঞ্চলে বেশ সুনাম ছিলো, কখনো বেকার থাকতো না মানুষটা অথচ একদিন এই ভালো মানুষটাকে ওপরওয়ালা কেড়ে নিলো। জমির আলের ওপরেই মৃতদেহ পড়ে ছিলো। প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির মাঠে ঘন-ঘন বাজ পড়ছিলো, মানুষটার শরীর জ¦লেপুড়ে একেবারে কয়লা হয়ে যায়। তারপর সেই লাশ কবরও হয় কিন্তু দু’রাত না যেতেই কবর থেকে লাশ উধাও। যারা যাদুটানা বশিকরণ তুকতাক করে, সেই সমস্ত গুণিনরাই এমন কাজটা করেছে। অনেক চেষ্টা করেও আর সেই লাশের হদিশ মেলেনি তারপর। গুণিনকেও ধরতে পারেনি।
আর পটলা ভালোই আছে মুইজুলের কাছে। জিলিপির স্বাদ আর নানা লোকের ভীড়ের ভেতর নিজেকে ঘুরে-ফিরে দেখে প্রতিদিন। পটলার মনে কোনো দুঃখ নেই। ওর মা একরাত্রে কোন এক ভন্ড লোকের হাত ধরে বাড়ি ছাড়ে, বাপটাও তেমন ধাতের। তিনদিন না যেতেই নতুন আরেক মাগি ঘরে আনে। তারপর সরাসরি জানায়, কাল থেকে তোর নিজের পথ নিজে দেখবি। বাপের মুখে এমন কথা শুনে কোনোরকম প্রতিবাদ করেনি। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। পথে-পথে অনেকদিন ঘুরে তারপর মুইজুলের নাগাল পায়। সাথে নিয়ে নেয়। পেটে ভাতে আর কিছু উপরি পেলে আর কি! পটলা আর পচার বাড়ি একেই গাঁয়ে হলেও পটলার তো আর গাঁয়ে ফেরা হবে না। মনটাও এজন্য খারাপ লাগে না। সবই মেনে নিয়েছে। তবে পচা জানিয়েছে, বাপটাকে ওই মাগি একেবারে ভাড়ুয়া করে ফেলেছে। রাতদিন ঘরে আলগা লোক তোলে। পচার কথা আর পটলা শুনতে চায় না। নিজের মাও তেমন, কোথায় তলিয়ে গেছে তার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। কী হবে ওসব ফালতু খবর নিয়ে। যার যা ভালো লাগে করুকগে। বরং যে জীবন পেয়েছে তা বা কম কীসের। একটা জীবন মানে তো অনেক কিছু। বেঁচে থাকাই মানুষের লাভ।
তাবুর ভেতরের দৃশ্য দেখে মন তাদের ভালো হয়ে যায়। কতো রঙ আর রূপের খেলা। মানুষ এসব দেখে টাকা খরচা করে রাত্রি জেগে। পটলাকে একদিন মুইজুল বলেছিলো, পুরুষ মানুষ তো এসবই দেখে! টাকা থাকলে সে হলো হিরো। মেয়ে মানুষের স্বাদ না নিলে কীসের টাকা কামানো রে!
কথাটা পটলার মনে আজো গেঁথে আছে। এই মেয়ে মানুষের জন্যই বাপটা তাকে বাড়ি থেকে খেঁদিয়েছে, আর মাও ছিলো তেমন। পুরুষের সাথে ঢলাঢলি না করলে পেটের ভাত হজম হতো না।
দুনিয়াতে নারী-পুরুষের এই খেলা ওরা এখনো তেমন না বুঝলেও যাত্রাদলের ওই সমস্ত উর্বশী তম্বীদের শারীরিক গড়ন দেখে অনুমান করে আজকাল। সাপের মতো বীনার তালে যখন ওরা নাচে মঞ্চে, মনে হয় স্বয়ং শঙ্খিনী নাচছে সকলের সমুখে। নাচ তো নয় শরীরের খেলা। ধনুকের মতো শরীরটাকে বেঁকিয়ে কীভাবে যে ওরা নাচে পচা-পটলা হতবাক হয়ে যায়। মেয়েমানুষ যেন ক্রমেই রহস্য হয়ে ওঠে ওদের চোখে। শরীরের ভেতরের এতো রহস্য জানতো না ওরা কোনোদিন। কেন রাজ্যের মানুষের এই হুড়হুড়ি, আজ সবই কেমন খোলসা হয়ে যায় ওদের কাছে। তারপরও ভালো লাগে না কিছুই।
সেদিন রাত্রের পর পচা আর পটলা কোথায় যে হারিয়ে যায়, কেউই জানে না। মুইজুল এবং দেবাষিশ অনেক খোঁজে এদিক ওদিক। কেউই তাদের কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। দু’দুটো কিশোর কীভাবে অদৃশ্য হলো জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হলেও, সে খবরটা নিয়ে তেমন কোনো উচ্চবাক্য কেউই করেনি। কারণ পত্রিকার ভেতরের ওই কয়েক শব্দের সংবাদ কার বা আর নজর কাড়ে। তারপরও আমরা একটা টিম নিয়ে সেখানে হাজির হলেও আমাদের সে ব্যাপারে কেউ তেমন উৎসাহ দেখায়নি। অর্থাৎ কিশোর দুটো কোথায় মিলিয়ে গেছে, সে ব্যাপারে মোটাদাগে কেউ আর সংবাদ দেয়নি।
মুইজুল বা দেবাষিশ যেভাবে তাদের ব্যবসা চলছে তা চালিয়ে যায়। একদিন ঘনা আর রসুল জানাই, এভাবে ওদের খুঁজে-টুজে লাভ নেই। ঝাঁকের কই ঝাঁকে মিশে গেছে...
কথাটা শুনে মনে একটা হোঁচট খেলাম। এভাবে বলার কারণই কী। তরুণ আর তেঁতলে বললো, হয়তো আমরাও ওভাবে একদিন হারিয়ে যাবো। যে হারিয়ে যায় নিজের থেকে তাকে কি খুঁজে পাওয়া যায়। নাকি তার পেছনে সময় দিতে হয়। ওমন তো কতোই হচ্ছে...
গল্পটা হয়তো ওখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু প্রশ্ন দেখা দেয় নানা রঙ্গিন। জিলিপির সাইজ নিয়ে বা পুতুলনাচের নানান ফিরিস্তি নিয়ে কথা ওঠে, পুতুলনাচের ইতিকথা নামে একটা উপন্যাস আছে বলেও কেউ কেউ গল্প ছড়ায়, জিলিপির প্যাঁচ নিয়েও প্রশ্নের শেষ নেই, সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা কিশোর দুজনকে কোথায় খুঁজবো! কোনো উত্তর না পেলেও একদিন রঙের হাটের বাজারে পটলাকে আবিস্কার করি।
তার ঠিক কয়েক মাস পরেই করমদির হাতিডোবা পুকুরের ঝোঁপের ভেতর অষ্টাদশী এক যুবতির লাশ দেখে ক্যামেরা সেদিক যায়। মানুষ সব ভুলে আবার নতুন জিনিসের পেছনে সময় ব্যয় করে। কোথা থেকে যুবতি এখানে এলো, আর কীভাবে লাশ হলো। সুরতহালের জন্য উপজেলা হাসপাতালে লাশ গেলেও সাধারণ মানুষ সে খবর আর কেউই পায়নি। যুবতির লাশ বেওয়ারিশ হয়েই লাশকাটা ঘরে পড়ে রইলো, আর মুন্নার মতো কোনো বিকৃত লালসার যুবক ওই যুবতির লাশের সঙ্গে সঙ্গম...
বৌকুড়ুনির হাটে সেবার তাবু পড়েছিলো মেলার। মানুষের সমাগমে আমি তরুণের দেখা পেয়েছিলাম। তরুণ বলেছিলো, দেশগ্রামের মানুষ এখন বড় পাল্টে গেছে, আমিও ছেড়েছি ওই যাত্রাপেরা।
কথাটা শুনে আর কোনো প্রশ্ন করেনি। ঘনা-রসুলরা হয়তো আছে এখনো। জীবন যখন চলমান, তখন তো মানুষও কিছু একটা করে চলবে। নয়তো কি নিয়ে মানুষ থাকবে। এরপর আর কোনো কথা থাকতে পারে না। অন্ধকার সমুদ্রে হাঁটতে থাকি। কোথায় যাই জানি না। কিন্তু হাঁটতে থাকি। 

আজকালের খবর/আরইউ








সর্বশেষ সংবাদ
বইমেলায় ইসরাত জাহান নিরুর ‘৩০ পয়সার ৩ লক্ষ স্মৃতি’
রাশিয়ার পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
মায়ের দাফন শেষে বাড়িতে এলো প্রবাসী ছেলে ও জামাতার লাশ
আমাকে জেলে পাঠাতে পারে: জার্মান গণমাধ্যমকে ড. ইউনূস
প্রবাসী প্রেমিককে সামনে আনলেন অধরা খান
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
শান্ত সীমান্ত পরিস্থিতি, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের দাবি
নোটিশ ছাড়াই ফার্মেসি ভাঙচুর: ইউএনও জকির বিরুদ্ধে মানববন্ধন
সাংবাদিকদের এমপি বানানোর কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
বাউবি থেকে বিএ পাশ করলেন ভ্যান চালক হায়দার আলী
বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ৪
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft