বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬
প্রিন্ট সংস্করণ
বয়সের প্রবিধান বাতিল হচ্ছে শিক্ষার্থীদের
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ১:২৬ এএম   (ভিজিট : ১২০৮৫)

শিক্ষার্থীদের বয়স কমানোর সুযোগ শেষ হচ্ছে। বাতিল হচ্ছে পাকিস্তান আমলের ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর ভর্তি এবং বদলি সংক্রান্ত’ প্রবিধানটি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিধানটি বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর ভর্তির সময়ে জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই সনদ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের সব পরীক্ষার নিবন্ধন ও ফরম পূরণ করতে হবে। কোনোভাবেই জন্মনিবন্ধন সনদের বাইরে বয়স নির্ধারণ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সূত্র জানায়, প্রতি মাসে একটি জেলায় জন্মনিবন্ধনের বয়স কমাতে চার থেকে পাঁচশত আবেদন জমা পড়ে। এতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ওপর অযথা কাজের চাপ বাড়ে। মূল কাজ ব্যাহত হয় এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হয়। এই নীতি বর্হিভূত প্রবাণতা রোধকল্পে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু তাতেও অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে করণীয় নির্ধারণের অনুরোধ জানায়।
মাঠ প্রশাসনের অনুরোধে জন্ম নিবন্ধনের বয়স কমানোর বিষয়ে গত ১০ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জেনারেল রেজিস্ট্রার মানিক লাল বনিক জানান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইনের এই নির্দেশনা অনুসরণ করেছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভর্তির সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করা হলেও পাবলিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চম, অষ্টম বা নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণ হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং শিক্ষাগত সনদে জন্ম তারিখের মধ্যে গরমিল দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষানীতি-২০১০ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স হবে ছয় বছরের উপরে। সে হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর ১১ বছরের বয়সে পিএসসি, ১৪ বছর বয়সে জেএসসি এবং ১৬ বছরের বেশি বয়সে এসএসসি পাশ করার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, শিক্ষানীতি এবং ভর্তি নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং পাবলিক পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পরবর্তী সময়ে পাবলিক পরীক্ষার সনদ দাখিল করে বয়স কমানোর জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধনের আবেদন করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বয়স দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত কমানোর নীতিবর্হিভূত প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর অধীনে ১৯৬৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে ঢাকা গেজেটের  প্রথম খণ্ডে প্রকাশিত শিক্ষার্থীর ভর্তি এবং বদলি সংক্রান্ত প্রবিধানে ১২ বছরের নিচে কোনো শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না উল্লেখ রয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ভর্তি নীতিমালার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রবিধান কার্যকারিতা হারালেও কোনো কোনো শিক্ষক এমনকি শিক্ষাবোর্ডের কোনো কোনো কর্মকর্তা মনে করেন, এই প্রবিধান অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী ১৪ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারে। এটি একটি ভুল ব্যাখ্যা; যা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর পরিপন্থি। এই ভ্রান্তি নিরসনের জন্য উপযুক্ত প্রবিধান বাতিল করা প্রয়োজন মর্মে সভায় সিদ্বান্ত হয়েছে।
তারা আরো জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণ, সংরক্ষণ ও পাবলিক পরীক্ষার  রেজিস্ট্রেশনকালে এবং ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং নীতিবর্হিভূতভাবে শিক্ষার্থীর বয়স কমানোর প্রবণতা ঠেকাতে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর অধীনে ১৯৬৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে ঢাকা গেজেটের  প্রথম খণ্ডে প্রকাশিত শিক্ষার্থীর ভর্তি এবং বদলি সংক্রান্ত প্রবিধানটি পরীক্ষান্তে বাতিল করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চিঠি পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর ভর্তি এবং বদলি সংক্রান্ত প্রবিধানটি বাতিল’ এর জন্য পরীক্ষান্তে মতামত দিতে মাউশিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর মো. বেলাল হোসাইন বলেন, পৃথিবীর সর্বত্র ছয় বছরের বেশি শিশুদের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। শিক্ষানীতি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আমাদের দেশেও প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালায় বয়স ছয় বছরের বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর আদালতের নির্দেশে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে বয়সের সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে এটি থাকবে কি-না আমরা বসে নির্ধারণ করবো। বয়সের প্রবিধান বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি শিক্ষাবোর্ডের বিষয়। জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের সব নিবন্ধন হওয়া উচিত মতামত দিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।  
প্রসঙ্গত, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির বয়সসীমা ১১ বছরের ঊর্ধ্বে নির্ধারণ করে ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একট প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনেরর গ্যাঁড়াকলে পরে অনেক শিক্ষার্থী চলতি শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারছিল না। কারণ, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়স হতে হবে ছয় বছরের বেশি। এই হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির বয়স হতে হবে ১১ বছরের বেশি। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের মিজানুর রহমানের সন্তানের জন্ম ২০১১ সালের ৩০ জুলাই। এই হিসেবে ওই শিক্ষার্থীর বয়স হচ্ছে সাড়ে নয় বছর। সরকারের ওই সিদ্ধান্তের কারণে অনলাইনের সফটওয়্যারে ওই শিক্ষার্থীর আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে ওই শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মিজানুর রহমান ২০১৭ সালের জারি করা ভর্তির নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া ১১ বছরের ঊর্ধ্বে নির্ধারণ করা নীতিমালাটি  গত ২৯ ডিসেম্বর স্থগিত করেছেন আদালত। এ বছর ১১ বছরের কম বয়সের শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছে। এনএমএস।










Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft