
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সবাই ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবেন। সকল শিক্ষককে এ সুবিধা দিতে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও শিথিল করে গতকাল বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে।
আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯ জারির পূর্বে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে যারা এখনো কর্মরত আছেন, তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলপূর্বক বেতন গ্রেড নির্ধারণে অর্থ বিভাগের সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো। এ আদেশের ফলে সব শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে (১১০০০-২৬৫৯০ টাকা) বেতন পাবেন।
প্রসঙ্গত, শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম বেতন গ্রেড নির্ধারণ করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ১২ তম গ্রেড সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ১১তম গ্রেড প্রধান শিক্ষকদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সরকার ২০১৪ সালে ৯ মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গ্রেডে উন্নীত করে। সে অনুযায়ী বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেতন পান ১১তম গ্রেডে (১২৫০০ টাকা বেতন স্কেল) আর প্রশিক্ষণবিহীন ১২তম গ্রেডে (১১৩০০ টাকা বেতন স্কেল)। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে (১০২০০ টাকা বেতন স্কেল) ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষক ১৫ তম গ্রেডে (৯৭০০ টাকা বেতন স্কেল) বেতন পান। ২০১৪ সালে নির্ধারিত নতুন বেতন গ্রেডে শিক্ষকদের মধ্যে বেতন বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
এতদিন প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছিলেন। অন্যদিকে প্রশিক্ষণ পাওয়া সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছিলেন। কিন্তু পরিবর্তিত নিয়োগবিধি ও যোগ্যতার কারণে বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাতে অসংখ্য শিক্ষক বঞ্চিত হতে যাচ্ছিলেন। কারণ, ২০১৯ সালের নিয়োগবিধি জারি হওয়ার আগে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল, পরে তা বাড়ানো হয়। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এখন আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদেরও শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩-এর সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তের আদেশ জারি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি দূর হলো বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষকরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী ১০ম গ্রেডে বেতন পেলেও প্রধান শিক্ষকরা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। ৩৪তম বিসিএস থেকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশকৃতরাও ১০ম গ্রেড বেতন পান। আর সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকদের তিন ধাপ নিচের গ্রেডে বেতন পান। এ বৈষম্য নিরাসনের দাবিতে ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকরা অনশন করেন। দুই দিন পরে তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর বাসভবনে শিক্ষকদের ডেকে দাবি মানার আশ্বাস দেন। শিক্ষকরা বাড়ি ফিরে যান। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ন্যায্যতার ভিত্তিতে বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। গত বছর অক্টোবরে শিক্ষকরা ফের আন্দোলন করলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারি শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে বেতন র্নিধারনের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রনালয়ে পাঠালে তা নাকোচ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৩তম গ্রেড নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এনএমএস।