শনিবার ২৩ মে ২০২৬
প্রিন্ট সংস্করণ
বৈধভাবে রপ্তানি হবে সাপের বিষ: গড়ে উঠবে খামার
শিগগিরই আসছে বিধিমালা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১, ১:২৭ এএম   (ভিজিট : ২০৪১)

কোটি কোটি টাকার সাপের বিষ পাচার, এর সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারি গ্রেপ্তারের খবর অহরহ। তবে এবার থেকে এই সাপের বিষই বৈধভাবে রপ্তানি হবে। গড়ে তোলা হবে সাপ চাষের বাণিজ্যিক খামার। এ বিষয়ে কাজ করছে বন অধিদপ্তর। এ সংক্রান্ত বিধিমালা শিগগিরই আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।  
জানা গেছে, সাপের খামার ব্যবস্থাপনা বিধিমালা নিয়ে কাজ করছে বন অধিদপ্তর।  এ প্রসঙ্গে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, সরকার সাপ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চায়। সাপের খামার ব্যবস্থাপনা বিধিমালা' যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সারা দেশ থেকে নিয়ে আসতে হয়। করোনার কারণে কিছুটা সময় লাগছে। দ্রুত সবার মতামত নিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা সম্ভব হবে। সরকারও চাচ্ছে বিধিমালা চূড়ান্ত হলে এর আওতায় বাণিজ্যিকভাবে সাপ চাষের দায়িত্ব খামারিদের দেওয়া যেতে পারে।
জননিরাপত্তার হুমকি যেন না আসে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই বাণিজ্যিকভাবে সাপ চাষের বিধিমালা প্রণয়নের কথা জানিয়ে বিআইএসএসের পরিচালক (গবেষণা) ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে পারে, এ বিষয়টি মাথায় রেখে এখনো বিধিমালা প্রণয়ন হয়নি। সেটি করা হলে ব্যাপক আকারে সাপের বিষ রপ্তানি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যেত। সাপের বিষের রপ্তানিমূল্য অনেক।
জানা গেছে, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাপের বিষ মূল্যবান কাঁচামাল। তাই এটি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিষধর সাপের দংশনের চিকিৎসার সুযোগ অনেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেই। সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসায় যে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন লাগে, সেটা বানাতেও দরকার হয় সাপের বিষ। কিন্তু সাপ চাষ ও বিষ আহরণের আধুনিক ব্যবস্থা নেই দেশে। তবে স্বল্পপরিসরে কিং কোবরা, রাসেল ভাইপার, বন্ডেড ক্যারেট, গোখরাসহ নানা ধরনের সাপের চাষ হচ্ছে বাংলাদেশে। অনেকেই নিজ উদ্যোগে সাপের চাষ শুরু করলেও সরকারিভাবে এখনো এর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে সাপের চাষ উদ্বুদ্ধ করতে বিধিমালা নিয়ে কাজ করছে বন অধিদপ্তর।
রাজশাহী, ফরিদপুর ও বরিশালসহ বেশ কিছু জায়গায় অনেকেই নিজ উদ্যোগে সীমিত আকারে সাপ পালন করছেন। এমনই একজন বরিশালের সাপের খামারি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ২০০০ সাল থেকে বড় ২৭টি ও ছোট ৩২০টি সাপ নিয়ে শুরু হয় তার খামার। বিশ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে খামারটি চালিয়ে আসছেন। অনুমোদনের জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বন বিভাগে আবেদন করেছেন। সাপের বিষ আহরণ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে বিক্রির সুযোগ পেলে এ খামার লাভের মুখ দেখতো। তাই খামারের অনুমোদন ও বিষ সংগ্রহের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন আবদুর রাজ্জাক। তবে কোনো আশার আলো দেখেননি এতোদিন।
সাপ ও সাপের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরো গবেষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম নিয়ামুল নাসের। তিনি বলেন, সাপের খামার কিংবা সাপ নিয়ে গবেষণার জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট করার সময় হয়েছে। সাপের বিষ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বানানো হচ্ছে। তার বিভাগের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের দুটি বিষাক্ত সাপের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক নিয়ামুল নাসের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের আওতায় সাপ নিয়ে গবেষণা করছে টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, তাদের উদ্দেশ্য সাপের বিষের চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা। সাপের বিষ যদি পরিমিত মাত্রায় সংগ্রহ করা যায়, তবে শুধু ওই ভেনমগুলো থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রক্রিয়ায় যেতে পারবো। এটা দীর্ঘ গবেষণার কাজ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যালস অব কেমিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাক্তার শাহ আরমান বলেন, দেশে সাপের বিষ থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরি নিয়ে গবেষণার সংখ্যা কম। তবে, দেশের কোনো ওষুধ প্রতিষ্ঠানে সাপের বিষ ব্যবহার হচ্ছে না।
এদিকে গত রবিবার র‌্যাব-১০ ব্যাটালিয়ানের একটি দল সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধিন ইসদাইর এলাকা থেকে দুই চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমান সাপের বিষের চালান উদ্ধার করে। অভিযানকালে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এই চক্রটির অন্যরা পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা কামাল (৫৫) ও চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার প্রাকপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান (৪৩) মধু। অভিযান শেষে র‌্যাব গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে রাতে ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় র‌্যাব-১০ এর নায়েবে সুবেদার শেখ মনিরুজ্জামান বাদি হয়ে চারজনকে আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, রাজধানীর লালবাগে র‌্যাব-১০ ব্যাটালিয়ানের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইসদাইর এলাকায় মোস্তফা কামালের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় একটি কার্টনের মধ্যে কাঁচের জারে সংরক্ষিত (দুইটিতে তরল ও চারটিতে পাউডার জাতীয়) দুই কেজি ৯০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধার করে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাবের কর্মকর্তারা। সাপের বিষ চোরাচালানির অভিযোগে মোস্তফা কামাল ও তার সহযোগী মিজানুর রহমান মধুকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করে। এর আগেও এ ধরনের অভিযান ও গ্রেপ্তারের অনেক ঘটনা ঘটেছে। এনএমএস।










Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft