গরুর মাংসের খুচরা বাজারমূল্য প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনতে বাণিজ্যিক আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ আইনি নোটিশ দেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই মুসলিম এবং তাদের অন্যতম প্রধান ও পছন্দের খাদ্য উপাদান হলো গরুর মাংস।
অথচ বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এই কৃত্রিম ও আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো গরুর মাংস কেনা প্রায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে, যা সাধারণ নাগরিক এবং বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এক ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রোটিন ঘাটতি এবং পুষ্টিহীনতা তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উন্মুক্ত বাণিজ্যিক আমদানি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম কমে কেজিপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকায় নেমে আসবে। এতে সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমবে, শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতি চাঙা হবে।
আইনি নোটিশে আগামী পনেরো দিনের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফায়েড হালাল ফ্রোজেন বা চিল্ড মাংস আমদানির সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং শুল্ক যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস