দিনাজপুর জেলার বিরামপুর পৌর শহরের কৃষ্টচাঁদপুর মহল্লায় ধানের জমিতে ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে ভাইয়ে-ভাইয়ে মারামারির ঘটনায় ছোট ভাই মুকুল হোসেনের (৩৫) এর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর পৌরশহরের কৃষ্ণ চাঁদপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুকুল হোসেন (৩৫) বিরামপুর পৌর শহরের কৃষ্টচাঁদপুর মহল্লার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিরামপুর পৌর শহরের কৃষ্ণ চাঁদপুর মহল্লায় ছোটভাই মুকুলের ধানের জমিতে বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন (৫০) ও মেজো ভাই এটিএম শামসুজ্জামান মাস্টার (৪৫) ময়লা ফেলতেন। ধানের জমিতে ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে তিন ভাইয়ের মারামারি একপর্যায়ে বড় ভাই দেলোয়ার হোসেনের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই মুকুল হোসেনের (৩৫) এর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের মুকুলের স্ত্রী মাহমুদা বেগমের অভিযোগ, ওইদিন ধানের জমিতে ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে আমার স্বামী তাঁর বড়ভাইদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে বড় ভাই দেলোয়ার ও মেজো ভাই শামসুজ্জামান মাস্টার উভয়ে আমার স্বামীকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এসময় আমার স্বামী মুকুল হোসেনের বুকে গুরুতর আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এসময় আমি ও স্থানীয় লোকজন আমার স্বামীকে উদ্ধার করে অজ্ঞান অবস্থায় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করেন। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাবার প্রস্তুতিকালে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও হাসপাতালেই আমার স্বামী মুকুল হোসেনের মৃত্যু হয়।
এঘটনায় বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ বিরামপুর থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসেন এবং পুলিশ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে মৃতদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। এবিষয়ে বিরামপুর থানায় একটি হত্যা হয়েছে। মামলা নং ০৩, তাং ০৬/১০/২৬ইং। এঘটনায় থানা পুলিশ নিহত মুকুলের বোন নুরছাফা (৪৭) কে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘ছোট ভাইয়ের ধানের জমিতে ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে বড়ভাই ও ছোটভাই তর্কবিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি উভয়ের মারামারিতে ছোট ভাই মুকুল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়লা তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।এঘটনায় নিহতের বোন নুরছাফাকে গ্রেপ্তার করা হয়ে। বাঁকী আসামীদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আজকালের খবর/ রাশেদুল মিলন