পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাহসী ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোশিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) থেকে টানা পঞ্চমবার ‘সাহসী সাংবাদিকতা’ সম্মাননা পেলেন প্রবাসী সাংবাদিক ও বাংলা প্রেস সম্পাদক ছাবেদ সাথী।
ফোবানা সম্মেলনের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্বাহী কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিরোধ এবং সংগঠনটির ইতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘ফোবানা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করা হয়। এর আগে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও একই সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলের বলরুমে তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ছাবেদ সাথীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন সম্মেলনের পুরস্কার ও অতিথি নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার শুরু হওয়া ৪০তম ফোবানা সম্মেলন শেষ হয় ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার।
কোভিড-১৯ মহামারির পর ফোবানার নির্বাহী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বহিষ্কার ও পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটে। নির্বাচনে পরাজিত একটি পক্ষ পরবর্তীতে পাল্টা কমিটি গঠন করে পৃথক ফোবানা সম্মেলনের আয়োজন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসব ঘটনা নিয়ে ছাবেদ সাথীর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফোবানার অভ্যন্তরীণ সংকট, অনিয়ম ও দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো উঠে আসে। তার অনুসন্ধানী ও সমালোচনামূলক লেখার কারণে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে মামলার হুমকি দেওয়া এবং দফায় দফায় আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফোবানা বিভিন্ন সময় নানা সংকট ও বিরোধের মুখোমুখি হয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে সংগঠনটিকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে।
২০২৩ সালের ২৪ জুলাই ফোবানার নির্বাহী কমিটি গঠনতন্ত্রবিরোধী ও সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ আমেরিকান উইমেন অ্যাসোসিয়েশন অব টেক্সাস এবং ইউনাইটেড বাংলাদেশ আমেরিকান কমিউনিটি অব টেক্সাসকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের পর সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে ফোবানার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে।
ফোবানা সম্মেলনের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্বাহী কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিরোধ এবং সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে সংবাদ প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে এবারও ছাবেদ সাথীকে ‘সাহসী সাংবাদিকতা’ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২২ সালে শিকাগো, ইলিনয়; ২০২৩ সালে ডালাস, টেক্সাস; ২০২৪ সালে ভার্জিনিয়া এবং ২০২৫ সালে আটলান্টা, জর্জিয়ায় অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে তাকে একই সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক ও বাংলা প্রেস সম্পাদক ছাবেদ সাথী বলেন, সাংবাদিক হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল ঘটনাকে যেভাবে দেখেছেন, সেভাবেই পাঠকের সামনে তুলে ধরা। প্রশংসার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে কঠিন প্রশ্নও করেছেন তিনি। তার মতে, সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত ব্যক্তি নয়, সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা।
ছাবেদ সাথী বলেন, অনেক সময় তার লেখা কারও কাছে অস্বস্তির কারণ হয়েছে, আবার অনেকেই সেই লেখায় নিজের বক্তব্যের প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন। যুক্তি ও তথ্যভিত্তিক সমালোচনা কোনো সংগঠনের শত্রু নয়; বরং তা একটি সংগঠনকে আরও পরিণত ও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি শুধু বিশ্বকে থামিয়ে দেয়নি, প্রবাসী সংগঠনগুলোকেও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। ফোবানাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছিল। সেই সময়ে তিনি নীরব দর্শক হয়ে থাকেননি। একজন সাংবাদিক হিসেবে যা দেখেছেন, যাচাই করেছেন এবং কমিউনিটির জন্য প্রয়োজনীয় মনে করেছেন, সেটিই লিখেছেন।
ছাবেদ সাথীর ভাষায়, “সেই কঠিন সময়ে কলম ছিল আমার একমাত্র শক্তি, আর সত্য ছিল আমার একমাত্র সাহস।”
আজকালের খবর/এমকে