মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫০ এএম   (ভিজিট : ৭)
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কীভাবে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বৈঠকে স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান। এই সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশকে কাজ করে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

ভারতীয় হাইকমিশনার যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সফল। এই খাতে ভারত জিপার, মেশিনারি, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে পারে।

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজকালের খবর/এমকে








আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft