রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মালয়েশিয়াকে ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ মনে করে বাংলাদেশ, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম   (ভিজিট : ১০৫)
মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়াও এই সম্পর্কের প্রতি বাংলাদেশের বিশেষ গুরুত্বেরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।

মালয়েশিয়ার রাস্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা টিভির ‘দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরটি ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের হলেও এটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্বে উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে কতটা গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে এটি এই বার্তাও দেয় যে, বাংলাদেশ সবসময় মালয়েশিয়াকে একটি বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে দেখে এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, গত মাসে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর ঢাকা-কুয়ালালামপুর সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন নতুন খাতে সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করেছে।

হাইকমিশনার জানান, দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে উৎপাদন করে আসিয়ান বাজারে পণ্য রপ্তানির সুযোগ নিতে পারেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রায় ৩২ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়। এফটিএ কার্যকর হলে এই শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, উন্নত উৎপাদন শিল্প এবং ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

হাইকমিশনার জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ছিল মালয়েশিয়ার বৈশ্বিক পর্যায়ে ২৮তম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ওই বছর দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি উৎস।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যার বড় অংশই ছিল পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আমদানির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ১০ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যার প্রধান পণ্য ছিল তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও পাদুকা।

আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সমর্থন প্রত্যাশা করছে।
তার ভাষায়, এই ভূমিকায় বাংলাদেশ অর্থবহ অবদান রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আজকালের খবর/এমকে







আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft