বুধবার ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
জাবি শিক্ষার্থী রাচি মৃত্যুর ঘটনায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:২৫ পিএম
রিকশাচালক রফিকুল। ছবি: সংগৃহীত

রিকশাচালক রফিকুল। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের নভেম্বরে অটোরিকশার ধাক্কায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচির মৃত্যুর ঘটনায় আটক রিকশাচালককে নির্দোষ দাবি করেছেন পরিবার। রাচির মৃত্যুর ঘটনায় রিকশাচালক তো জড়িত ছিলেনই না, বরং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফাঁসিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। 

গতকাল শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে আটক রিকশাচালকের পরিবার এই দাবি করেন।

রিকশাচালকের মেয়ে আরজিনা আক্তার দাবি করেন, তার বাবা একজন টেইলারিং কাটিং মাস্টার। এর পাশাপাশি তিনি পুরাতন অটোরিকশা ক্রয় করে সেটাকে রং করে, সংযোজন-বিয়োজন করে লাভে বিক্রি করেন। যেদিন জাবি শিক্ষার্থী রাচি রিকশার ধাক্কায় নিহত হয় সেদিন তার বাবা (রিকশাচালক) সেখানে ছিলেন না বলে দাবি করেন আরজিনা।

আরজিনা বলেন, এই ঘটনার তদন্তে ২৩ নভেম্বর আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে একজন ব্যক্তি আমার বাবাকে ফোন করে প্রক্টর অফিসে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে সকল সাক্ষীদের সামনে আমার বাবাকে বিভিন্ন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করে আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে আমার বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একইদিন রাত ১০টার দিকে আমার বাবা এবং আমাদের ড্রাইভার রফিকুল এক সঙ্গে বসে রাতের খাবার মুখে দিবে, সেই সময় কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা না করে আনুমানিক ১০/১৫ জন লোক আমাদের ঘরে প্রবেশ করে এবং জিজ্ঞেস করে তোমাদের মধ্যে রফিকুল কে? তোমাকে ফোন দেই ফোন ধরো না কেন? তাদের প্রশ্নের জবাবে রফিকুল বলে, ‘স্যার আমার ফোনে কোনো কল আসেনি। আমি রফিকুল। আপনি চেক করতে পারেন আমার ফোন।’

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে তারা আবার সেই নাম্বারে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হয় যে তারা যে মানুষকে খুঁজছে আসলে এটা সেই রফিকুল না। ওই নাম্বারের রফিকুলের বাড়ি গোপালগঞ্জ। তারপর তারা আমাদের ঘরের কালো রঙের হুডি এবং কালোর মধ্যে লাল চেকের ট্রাউজার খোঁজার জন্য সকল কাপড় এবং জিনিস উলটপালট করে। কিন্তু তারা কোনো কিছুই পায়নি। আমার বাবা হুডি পরে না। একপর্যায়ে আমার বাবাকে দুর্ঘটনার দিন কোথায় কোথায় ছিল সেটা জানার জন্য ইসলামনগর বাজার সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কেট কামরুলের দোকান এবং শাহাদাতের দোকানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে নিয়ে যায়। কিন্তু, তারা সেখানে না নিয়ে প্রথমে প্রক্টর অফিসে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরবর্তীতে তারা ইসলামনগর বাজার সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কেটে যায় সত্যতা যাচাইয়ের জন্য। 

আরজিনা জানান, ঘটনার সময় তার বাবা কামরুলের দোকানে বসেছিলেন। এর সিসিটিভি ফুটেজ তারা দেখে। কিন্তু এই ফুটেজ তারা মেমোরি কার্ডসহ সঙ্গে করে নিয়ে আসে। ঘটনার সময় তার বাবা ক্যাম্পাসে ছিল না, এর সত্যতা জানার পর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু, পরদিন রাত ১১টার দিক আরজিনার বাবার ফোনে একটা ফোন আসে যেখানে তিনি যার কাছে রিকশা বিক্রি করেছিল তাকে ও রিকশাটি দেখতে চাওয়ার কথা বলা হয়। পরে তার বাবা রিকশাসহ মালিককে ফোন করে ডেকে নিয়ে আসে। আরজিনার পিতা যে রিকশা বিক্রি করেছিল সেটি দুর্ঘটনার ২ দিন পূর্বে বিক্রি করা হয়েছিল। তবে সেই লোকটা হয়ত ভয়ে বলেছিল তার বাবা রিকশা দুর্ঘটনার ২ দিন পর বিক্রি করেছে। আর ওই রিকশা বিক্রি করার কয়েকদিন পর রিকশার কাগজ করে দেওয়া হয়।

আরজিনা বলেন, আমরা জানি ২৪ নভেম্বর দিবাগত রাতে আমার বাবাকে রিকশা দেখানোর জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে শুনি আমার বাবার নামে অজ্ঞাতনামা মামলা হয়েছে। এমনকি তারপরের দিন সকালেই কোর্টে তোলা হয়েছে। এই মামলায় বলা হয়েছে আসামির অটোরিকশায় আবুল হায়াত ও নাহিদ আলী নামের ২ জন যাত্রী ছিলেন। এছাড়া ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিকুল উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। আমরা ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি কি সত্যি সেই দিন আরজু মিয়াকে দেখেছিলেন? তখন ঝালমুড়ি বিক্রেতা বলেছিলেন, ‘না আমি দেখিনি, তবে আমাকেও ফাঁসানো হয়েছে সাক্ষী দেওয়ার জন্য।’

রিকশাচালক পরিবারের দাবি, যখন অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে তখন আনুমানিক ৬টা ৫০। অর্থাৎ সে সময় অনেক অন্ধকার ছিল যেহেতু তখন শীতকাল। রিকশাচালক লোকটা কালো হুডি পরা ছিল বলে তারা জেনেছেন। ক্যাম্পাসে লাইটিং ব্যবস্থাও তেমন ভালো ছিল না। আর দুর্ঘটনার পর রিকশা যদি দাড়াইতো, তাহলে মেয়েটাকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেত।

তার পরিবার প্রশ্ন রেখে বলেন, দুর্ঘটনার পর ওই ২ যাত্রী তখন কেন চালককে আটকালো না? আর তারা যদি ওই রিকশায় থাকতো তাহলে নিশ্চয়ই চালকের চেহারা স্পষ্ট ভাবে দেখেছে। তাহলে আগেই কেন আরজু মিয়াকে শনাক্ত করতে পারলো না? দুইবার যখন আরজু মিয়াকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাকে কেন শনাক্ত করতে পারলো না। কিন্তু যেদিন গ্রেপ্তার করা হলো সেদিন কীভাবে তাকে শনাক্ত করলো আর দোষী সাব্যস্ত করলো?

আটক রিকশাচালক আরজু মিয়ার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা শক্তিশালী নই বলে আমাদের সঙ্গে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েকবার ভিসি স্যারের দপ্তরে গিয়েছি। আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। একজনের কাছে গেলে আরেকজনের কাছে যেতে বলে। এভাবে গত তিনমাসে অনেক দফতর ঘুরেছি। আমার স্বামী খুবই অসুস্থ। আমি তার মুক্তি চাই। আমাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোন দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে আগামীকাল দুপুরে আমার অফিসে আসবেন।
 
আজকালের খবর/ওআর








http://ajkalerkhobor.net/ad/1751440178.gif
সর্বশেষ সংবাদ
মস্কোর কাছে বিধ্বস্ত রুশ সামরিক কার্গো বিমান, নিহত ৭
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ, যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা
বিমান বাহিনীকে যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে ইতালি, সম্মতিপত্র সই
নন্দীগ্রামে বেগম রোকেয়া দিবসে ৫ জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান
জরুরি প্রেস ব্রিফিং ডেকেছেন উপদেষ্টা আসিফ, পদত্যাগের গুঞ্জন
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
বিমান বাহিনীকে যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে ইতালি, সম্মতিপত্র সই
পূর্বাঞ্চলে আরএনবি প্রধানের বদলীতে আতংকিত আস্থাভাজন সদস্যরা
পাতাকা উত্তোলন ছাড়াই চলছে লালমনিরহাট পাসপোর্ট অফিস
জরুরি প্রেস ব্রিফিং ডেকেছেন উপদেষ্টা আসিফ, পদত্যাগের গুঞ্জন
বিশেষ একজন ছাড়া সবাই খারাপ, এই ধারণার পরিবর্তন জরুরি: তারেক রহমান
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft