ঢাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সিনেমাহল ‘চিত্রা মহল’ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঈদুল ফিতরের মাঝামাঝি সময় ভাঙার কাজ শুরু হয়ে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে কারণে প্রথম বারের মতো ‘চিত্রা মহল’ কেন্দ্রিক পুরান ঢাকাবাসী সিনেমা উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জানা গেছে, চিত্রা মহল ভাঙার প্রস্তুতি বেশ কয়েক বছর আগের থেকেই নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঝে প্রদর্শক সমিতির অনুরোধে লোকসানের মুখে চালু রাখে চিত্রা মহল। অল্প দিনের ব্যবধানে হলটি লাভের মুখ দেখায় কর্তৃপক্ষ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরমধ্যে পাঁচ বছর কেটে যায়। অবশেষে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে চলছে ভাঙার কাজ।
এ ব্যাপারে প্রদর্শক সমিতি থেকে জানানো হয়- এক বিঘা জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠো চিত্রা মহল ভাঙা হলেও এখানে গড়ে উঠবে বিশাল অট্টালিকা। সেখানেই চারটি অত্যাধুনিক সিনেপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বর্তমান হলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সাগর (কাজী জহিরের ছেলে)।
বিষয়টি নিয়ে কাজী সাগরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি। তবে পুরান ঢাকায় সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানকার স্থানীয় দোকানীরা জানায়, ভেতরে রাতদিন ভাঙার কাজ চলছে। এখানে বিশ তলা মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং হবে। তার ওপর হবে চারটি সিনেপ্লেক্স, সুইমিংপুল, কিডজ জোন।
১৯৮৩ ‘চিত্রা মহল’-এর যাত্রা শুরু হলেও এটি মূলত ‘নাগর মহল’ নামে তাঁতীবাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নাগর পোদ্দার হলটি চালু করেছিলেন। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন শত্রু সম্পত্তি হিসেবে সরকারের তত্ত্বাবধানে ছিল। পরবর্তীতে এটিকে বধূ বিদায়’খ্যাত চিত্রপরিচালক কাজী জহির হস্তগত করেন। স্ত্রী তৎকালীন অভিনেত্রী চিত্রা সিনহার নামে হলের নাম রাখেন ‘চিত্রা মহল’। প্রথম সিনেমা হিসেবে খান আতাউর রহমানের ‘আরশি নগর’ সিনেমাটি দেখানো হয়।
আজকালের খবর/আতে