শনিবার ২৩ মে ২০২৬
সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর নাব্য সঙ্কট
বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল বন্ধ
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৭:২২ পিএম   (ভিজিট : ২৬১৫)
এককালের প্রমত্তা যমুনা নদীর নাব্য হারিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর বুকে বিভিন্ন স্থানে এখন ধূ ধূ বালি চরে পরিণত হয়েছে। মাইলের পর মাইল হেঁটে চরে বসবাসরত মানুষকে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে চলাচলে চরম দুর্ভোগ ছাড়াও বিভিন্ন নৌপথে মালামাল বহন বন্ধ হয়ে গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দির ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী এক সময় খবুই গভীর ছিল। বছরজুড়ে নদী পথে বড় বড় পাল তোলা নৌকা ছাড়াও জাহাজ চলাচল করত। এখন সেই যমুনার গভীরতা হারিয়ে গেছে। ফলে একদিকে যেমন বর্ষা মৌসুমে অল্প পানিতেই নদীর কুল উপচে পড়ে বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। আবার সেই সঙ্গে প্রবল স্রোতে নদী ভাঙনে ব্যাপক বিস্তৃর্ণ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ হয়ে পড়ে গৃহহীন। নদী পথ চালু রাখতে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে সে নদীর গভীরতা হারিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, এক সময় যমুনা নদীর গভীরতা থাকায় বিভিন্ন সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে জাহাজ, কার্গো ও পাল তোলা বড়বড় নৌকা দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত। এ কারণে পণ্য পরিবহনে খরচ কম হতো এবং উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য সহজে ও অল্প খরচে দেশের শিল্প এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হওয়ায় কৃষকেরা পণ্যের নায্যমূল্য পেতেন। আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ যমুনা নদীর কালীতলা ঘাট থেকে শ্যালো মেশিন চালিত নৌকা ও খেয়া নৌকায় বিভিন্ন চরে যাতায়াত করেন। কিন্তু যমুনা নদীতে নাব্য সঙ্কট দেখা দেওয়ায় চর জেগে ওঠেছে। নদীর বুকেই হচ্ছে চাষাবাদ। নদীর মাঝখানে এখন সরু খালের মতো। কোথাও হাঁটুপানি, হেঁটেই পার হওয়া যায় এপাড় থেকে ওপাড়। নদীর তীরে পড়ে আছে নৌকা। এছাড়া লোকজন হাঁটু পানি ভেঙে নদী পারাপার হচ্ছেন। আবার কিছু নৌকা চলাচল করলেও তা গন্তব্যে যেতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে একদিকে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি বাড়তি ভাড়া দিয়ে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। বন্যার পর পরেই নদীতে নতুন নতুন চর জেগে উঠায় নৌকা আর চলে না। বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে হাট-বাজার, অফিস আদালত, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজে সময়মতো আসা তাদের জন্য দুরহ হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদী নাব্য হারিয়ে যাওয়ায় চরে তাদের বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীতে না চলছে নৌকা আবার ধূ ধূ বালুতে না চলছে কোনো যানবাহন। মাইলের পর মাইল তপ্ত বালুতে না যাচ্ছে হেঁটে পথ চলা। ডুবো চরের ভয়ে সন্ধ্যার পরপরেই নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

পাকুরিয়া চরের মাসুদ হাসান, সাবজল হোসেন, আব্দুল মান্নান, আফজাল হোসেন, রহমত আলী জানান- আগে এ যমুনা নদীর পথে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে তেল সারসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে জাহাজ চলাচল করায় এটা জাহাজ গড়ান নদী হিসাবে আমাদের কাছে পরিচিত রয়েছে। নদীর গভীরতা হারিয়ে যাওয়ায় গত বছরের বন্যার পর থেকে আর কোনো জাহাজ কার্গো উত্তর দিকে যাতায়াত করছে না। এখন নদীর এমন অবস্থা জাহাজ তো দুরের কথা পণ্য বোঝাই নৌকা নিয়ে হাটে ঘাটে যাওয়াই কঠিন। 

কাজলা ইউনিয়নের চকরথিনাথ চরের সাহের আলী, বেণীপুর চরের আব্দুস সালাম জানান- নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পায়ে হেঁটে বালু পথ পাড়ি দেয়া দূরহ হয়ে পড়েছে। সারিয়াকান্দি সদরে আসতে আগে সকালে বাড়ি হতে বের হয়ে আবার দুপুরের মধ্যেই বাড়ি ফেরা যেত। আর এখন সকালে বাড়ি হতে বের হয়ে রাতের আগে বাড়ি ফেরা যায় না। এ কারণে আমরা সাত আট মাস ধরে সারিয়াকান্দি হাটে আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। 

নয়াপাড়া চরের সেকেন্দার আলী জানান, বাড়ির ঘাটে নৌকা ভিড়ায় আগে বাড়ি থেকেই স্কুলে লেখাপড়া করত। কিন্তু এখন অনেক পথ হেঁটে চর পাড়ি দিয়ে স্কুলে পৌঁছা কঠিন হয়ে পড়ায় ছাত্রছাত্রীদের অন্যের বাড়িতে রেখে পড়া শিখাতে হচ্ছে। 

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, প্রতিবছর উজান থেকে এসে পলি জমে, এতে নদীর বুকে চর জেগে উঠে। নদীর পানি প্রবাহ ও তীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সমীক্ষা চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে নদী ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত যমুনা নদীতে প্রতিবছর পলি জমে। যার কারণে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, খুব দূত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌ পথটি নৌ চলাচলের জন্য পুনরায় সচল করা হবে।

আজকালের খবর/ওআর







আরও খবর


Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft