বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬
ক্ষেন্তি-পুঁইমাচা এবং বিভূতিভূষণ
প্রকাশ: শনিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৩, ৩:১২ পিএম   (ভিজিট : ১০৭১৮)
বাংলাসাহিত্যে ‘পথের পাঁচালী’ এমনই একটি রচনা, যা দিয়েই বাঙালি হৃদয় দখল যেমন করতে পেরেছেন, তেমনি আবার বিশ্বজোড়া সুনাম এবং স্বীকৃতি লাভ করেছেন। মূলত বিভূতিভূষণ দিগন্তজোড়া খ্যাতি অর্জন করার জন্য ‘পথের পাচালী’র মতো এমন একটি জীবনঘনিষ্ঠ উপন্যাস রচনা করেননি, করেছেন জীবনকে উপলব্ধি করে, জীবনের কাছে কিছু দায় মেটানোর প্রয়াসে, জীবনকে এতোখানি কাছ থেকে দেখা বা স্বাদ আস্বাদন করার সৌভাগ্য বিশ্বের ক’জন সাহিত্যিকের হয়েছে, বিভূতিভূষণ পেরেছেন বাংলার গ্রামীণ আপামর জীবনকে তুলে আনতে সাহিত্যে এবং তা অবশ্যই স্বার্থক হয়েছে তার কলমের পরম ছোঁয়ায়। বিভূতি নাগরিক বা রঙ মেশানো মানুষের শাহরিক গল্প তেমন একটা লেখেননি, আজীবন গ্রামে বাস করেছেন স্কুল শিক্ষক হিসেবে এবং দেখেছেন দারিদ্র আর কষ্টের নির্মম কষাঘাত এবং ওইসব ধুলোমাটি মাখা হতশ্রী দরিদ্র মানুষদের আত্মার আত্মীয় হয়ে তাদেরই জীবনকথা লিখেছেন, প্রকৃতির অনাবিল কোলে নিজেকে অর্পণ করেছেন। আর তাই তার গল্পের কথক তিনি নিজেই কখনো। ভাষা ব্যবহার বা অনুপ্রাস-উপমা ব্যবহারেও তার জুড়ি মেলা ভার। রচনাগুলো কখনো মনে হয়েছে এক একটি দীর্ঘ কবিতা, জীবন থেকে ছেঁকে বের করে আনা। পড়তে-পড়তে কখনো মনে হবে না কাহিনীর কতোটা গভীরে চলে গেছেন, হয়তো জীবন মানেই এই যে তার কোনো তল বা তলানি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিভূতিভূষণ সহজ-সরল গ্রাম্যজীবনের ছবি যেমন আঁকতে পারেন আটপৌরে, সেইসঙ্গে পাঠককে প্রাকৃতিক নিসর্গের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেন কাকতালীয়ভাবে। তার অজস্র ছোটগল্পের মধ্য থেকে একটি হিরকখণ্ড তুলে আনতে পারি, ‘পুঁইমাচা’, গল্পটির আবেদন-আকুতি কি ভোলা যায়? মানুষের ভেতরে জাল দিয়ে তিনি যেন প্রকৃত মানুষকে সন্ধান করে গেছেন, সে মানুষের আদিরূপ প্রকৃতি, প্রকৃতির অঙ্গে এতো রূপ এতো সুধা, মুখোমুখি না দাঁড়ালে হয়তো অজানা রয়ে যেতো। ক্ষেন্তি-সহায়হরি-অন্নপূর্ণা কালের সাক্ষি হয়ে আছে ‘পুঁইমাচা’য়, কাহিনীকে যদি এভাবে বিশ্লেষণ করা যায়-

প্রথম পিঠেখানা কাঁনাচে ষাঁড়া-ষষ্ঠীকে ফেলে দিতে যায় পুঁটি-রাধী, অন্নপূর্ণা যখন জানতে চায়, ফেলে দির্লি? পুঁটি তখন তার মাকে আগের বছরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখান থেকে লেবুর চারা তুলে এনেছিলে, সেখানে ফেলে দিলাম।

‘তারপর সে রাত্রে অনেকক্ষণ কাটিয়া গেলো, পিঠে গড়া প্রায় শেষ হইয়া আসিয়াছে...রাত তখন খুব বেশি। জ্যোৎস্নার আলোয় বাড়ির পিছনের বনে অনেকক্ষণ ধরিয়া একটা কাঠঠোকরা পাখি ঠক-ঠ-র-র শব্দ করিতেছিলো, তাহার স্বরটাও যেন ক্রমে তন্দ্রালু হইয়া পড়িতেছে...দুই বোনের খাইবার জন্য কলার পাতা চিরিতে-চিরিতে পুঁটি অন্যমনস্কভাবে হঠাৎ বলিয়া উঠলো, দিদি বড় ভালোবাসতো!’

এই একটি মাত্র কথায় মনটা কেমন হাহাকার করে ওঠে, দিদি মানে ক্ষেন্তি, আমাদের পরিচিত সেই মেয়েটি।

অন্নপূর্ণা এরপর আর কী বলতে পারে, তার বড় মেয়ে ক্ষেন্তি যে গতবছরও এই বাড়িতে ছিলো, তার স্মৃতি বাড়ির পাতায়-পাতায় শিরায়-শিরায় জড়িয়ে আছে, কতো সাধের নিজের হাতে পোঁতা পুঁইগাছটি মাচা জুড়ে বেড়ে উঠেছে আজ, অথচ ক্ষেন্তি নেই, সে হারিয়ে গেছে, কথাটি অবিশ্বাস্য লাগলেও বাস্তবিক, সে যে না ফেরার দেশে চলে গেছে।

‘পুঁইমাচা’ গল্পটিতে দেখা যায় ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে যে অসামঞ্জস্য সমাজ ব্যবস্থা, দারিদ্র্যের কষাঘাত এবং ভূমিহীন মানুষের যে বেঁচে থাকার আকুতি, সেই চিত্র বিভূতিভূষণ চিত্রায়ণ করেছেন, গ্রাম বাংলার মানুষ কতোটা অসহায় এবং নির্যাতিত, রাষ্ট্রযন্ত্রের চাকায় পিষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত তাই পাঠক দেখে গল্পের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে।
সহায়হরি চাটুয্য একজন কুলীন ব্রাহ্মণ, অতি দরিদ্র এবং আরামপ্রিয়, কিছুটা অলস, কাজের কোনো ধান্দাও নেই, কপালের ওপর নির্ভর করে বাঁচতে চায়, মাছ মেরে-তাস খেলে-পরের জিনিস না বলে আনা হলো তার কাজ। ঘরে স্ত্রী অন্নপূর্ণা ছাড়াও তিন তিনটে মেয়ে- ক্ষেন্তি-পুঁটি-রাধী, বড় মেয়ে ক্ষেন্তি এই গল্পের প্রধান চরিত্র। তাকে ঘিরেই কাহিনী আর্বতিত হয়েছে, বয়স তার ১৪-১৫ বছর, মুখ লম্বা-গোলগাল চেহারা-চোখ দুটো ডাগর এবং শান্ত। মেয়েকে সহায়হরি খুব ভালোবাসে, সে ভালোবাসা প্রাকৃতিক, অথচ ভালো দুটো খেতে দিতে পারে না, এমনই হতদরিদ্র পিতা, নিজেকে তার জন্য অপরাধীও ভাবে না কখনো, কিন্তু মেয়েকে একটু আস্কারা দেয়। একদিন ক্ষেন্তি এক বোঝা পুঁইশাক নিয়ে বাড়ি ঢুকলো, কোথায় কে ফেলে দিয়েছে, নাকি কার বাড়ির জঙ্গল পরিষ্কার করে ক্ষেন্তি তা নিয়ে এসেছে, যা পাকা পুঁইডাটা কাঠ হয়ে গেছে, অন্নপূর্ণা ঝাঁঝে রেগে ওঠে, ফেলে দিতে বললো, অবশেষে ছোট মেয়ে রাধীকে দিয়ে আপদগুলো ফেলে দেওয়া হলো। স্ত্রী অন্নপূর্ণাকে বরাবরই সহায়হরি বড় ভয় করে, না জানি কী বলতে কী হয়, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ বেঁধে যায়। একজন আপাদমস্তক ভীতু এবং শান্ত মানুষের চরিত্র অংকন করেছেন বিভূতি, যার মেরুদণ্ড সোজা করার কোনো হিম্মত নেই যেন, কারণ সে আয়-রোজগারের চেয়েও প্রাচীন আভিজাত্যের আর বংশগৌরব নিয়ে বেশি আত্মতৃপ্ত। যার কারণে অলস-আরামবিলাসী, কাজের প্রতি  নির্লিপ্ত, ঘরে যে তার তিন তিনটে মেয়ে সেদিকেও ভ্রƒক্ষেপ নেই, যা অন্নপূর্ণার অভিযোগ প্রায়শ।

কিন্তু দুপুরে ক্ষেন্তি পাতে পুঁইশাকের চচ্চড়ি দেখে বিস্মিত ও আনন্দপূর্ণ ডাগর চোখে মায়ের দিকে তাকায় ভয়ে-ভয়ে। অন্নপূর্ণা জানে পুঁইশাকের প্রতি তার এই মেয়েটির কিরূপ লোভ, মেয়ের দিকে তাকিয়ে মন তার ভালো হয়ে যায়, বিভূতিভূষণ ‘পুঁইমাচা’ গল্পের ক্ষেন্তির চরিত্র অংকন করতে গিয়ে গ্রামবাংলার বাঙালি মেয়েদের চরিত্র চিত্রায়ণ করে ফেলেছেন, যে একজন সত্যিকার অর্থেই নরোম এবং শান্ত।

সহায়হরি এবং ক্ষেন্তি একদিন শাবল নিয়ে বরোজপোতার বনের মধ্যে থেকে মাটি খুঁড়ে পনেরো/ষোলো সের ওজনের একটা মেটে আলু বের করলো, এবং সহায়হরি তা ঘাড়ে করে বাড়ি এলো, তারপর রাজ্যের মিথ্যে কথা, আসলে মেটে আলু যে চুরি করে এনেছে, একথা তো অন্নপূর্ণার অজানা নেই। কিন্তু তার অভিযোগ হলো বিয়ের যোগ্য একটি মেয়েকে কেনো ওভাবে চুরি শেখানো, অন্নপূর্ণা কিন্তু কঠিন বা কঠোর হলেও প্রকৃতপক্ষে সে স্নেহময়ী, মেয়েদের জন্য সংসারের জন্য অঢেল ভালোবাসা তার বুকেও আছে, কিন্তু সে প্রকাশ করে না, স্বামীর জন্য করুণা হয়, রাগ হয়, তারপরও কিছুই বলতে পারে না বলেই জেদ-ক্ষোভে নিজেই যেন ফেটে পড়ে।

আরেকদিন বিকেলে ধুলোমাটি মাখা হাতে ক্ষেন্তি এবং ওর ছোটবোনকে নিয়ে উৎসাহে শীর্ণকার একটা পুঁইশাকের চারা লাগালো, অন্নপূর্ণা মেয়েদের এমন কাণ্ড দেখে হেসে উঠলো, দূর-পাগলী, এখন পুঁইডাটার চারা পোঁতে কখনো, বর্ষাকালে পুঁততে হয়। কিন্তু মেয়েরা অনড়, প্রতিদিন জল ঢেলে তারা গাছটিকে সতেজ রাখবে এবং পুষ্ট করবে, এমনই আশ্বাসবাণী দেয়, তখন অন্নপূর্ণা বলে, দেখ, লেগেও যেতে পারে!

আরেকদিন পাটিসাপটা পিঠে করতে মা-মেয়েদের সৌহাদ্যতা পাঠক লক্ষ্য করে, অন্নপূর্ণা যে কতো বড় মাপের মাতৃহৃদয়ের অধিকারী তার রূপ দেখতে পাওয়া যায়, ক্ষেন্তির স্বভাব কতোটা লাজুক আর সরল তাও বিভূতিভূষণ অংকন করেছেন, বাঙালি মেয়েদের চরিত্র কি এমনই হয়, এমনই সহজ-সরল আর নিরাভরণ। কিন্তু এখানে আরো স্পষ্ট হয়, বৈশাখ মাসের প্রথমে সহায়হরির এক দূর-সম্পর্কীয় আত্মীয়ের ঘটকালিতে ক্ষেন্তির বিয়ে হয়ে যায়। পাত্রের বয়স ক্ষেন্তি অপেক্ষা অধিক, কিন্তু ভালো ব্যবসা করে হাতে দুটো পয়সা আছে, এই সান্ত্বনা গরীবের বড় পুঁজি।

অন্নপূর্ণা বরাবরই ক্ষেন্তিকে একটু বেশিই ভালোবাসতো, তার এই মেয়েটি এতো শান্ত আর নিরীহ, একটু বেশি মাত্রায় ভোজনপটু, এমন ভালোমানুষ, কাজে কর্মে বকো-মারো-গাল দাও...একটা টু শব্দটি পর্যন্ত করবে না কখনো, উঁচু কথা কখনো কেউই শোনেনি, এমন মেয়ে যার ঘরে যাবে তাদের অনেক সুখ দেবে, অন্নপূর্ণার বড় ভয় ছিলো বরাবর, পরের ঘরে অপরিচিত মহলে পাঠাতে, একটু ভোজনপটু মেয়েটিকে কি অপরে ঠিক বুঝবে।

যৌতুকপ্রথা যে কি নির্মম তার স্বরূপ পাঠক ‘পুঁইমাচা’ গল্পে প্রত্যক্ষ করেছে, বাবা সহায়হরি নিজের কাছে মেয়েকে আনার জন্য জামাইবাড়ি যায়, কিন্তু মেয়েকে তো ওরা দেয়নি, উপরন্ত ক্ষেন্তি একটু বেশি খায় বলে কথা শুনিয়েছে, হাভাতে ঘরের ছোটলোকের মেয়ে...সহায়হরিকে দু’চারটে অশ্রাব্য ভাষায় অপমান করে, কিন্তু মেয়েকে বাপের বাড়ি পাঠাইনি, আড়াইশ টাকা আন্দাজ বাকি আছে যৌতুকের সেই টাকা, ও টাকা না হলে মেয়েকে দেবে না জানায় সরাসরি। যৌতুকের যে নির্মম ছোবল তার সঠিক চিত্র বিভূতি তুলে ধরেছেন, এমনও একটা মেয়েকে যৌতুকের বলী হতে হয়। কারণ ক্ষেন্তির বসন্ত হলো ফাল্গুন মাসে, ওর গায়ের গয়নাগুলো খুলে টালায় দূর-সম্পর্কের কোনো একটা আত্মীয় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়, চিকিৎসা যে কতোটুকু করেছিলো অথবা করেছিল কিনা আন্দাজ করা যায় না। ক্ষেন্তি মরে গেল বসন্ত রোগে, এখানে একটা মেয়ে ক্ষেন্তি নয়, যেন সমস্ত বাঙালি নারীর একটা চরিত্র, এরা মরতে পারে, মরতে এসেছে, স্বামীর বাড়ির লোকেদের অপমান-অপবাদ কাঁধে নিয়ে ক্ষেন্তি মরে প্রমাণ করেছে যৌতুকের পৈশাচিকতাকে, পুরুষশাষিত সমাজব্যবস্থায় ক্ষেন্তিদের মৃত্যু যেন বা অনিবার্য। যৌতুকের বলী হয়ে কতো মেয়ে জীবন দিচ্ছে এখনো, এই অভিসাপ থেকে আর যেন পরিত্রাণের কোনো রাস্তা নেই, প্রতিনিয়ত গ্রাম বাংলার আঁনাচে-কাঁনাচে শহরে-নগরে কতো শত ক্ষেন্তি নীরবে মরে যায় কচুর পাতার বুকে একবিন্দু শিশিরের মতো, তার সংবাদকে রাখে। রবীন্দ্রনাথ এজন্যই হয়তো বলেছিলেন, পৃথিবীতে কে কার!

বিভূতিভূষণ ‘পথের পাচালী’তে দূর্গাকে যেভাবে চিত্রায়ণ করে অসময়ে তার মৃত্যু ঘটিয়ে পাঠককে কাঁদিয়ে ছেড়েছেন, তেমনি ‘পুঁইমাচা’ গল্পে ক্ষেন্তির মৃত্যুও একটি মর্মান্তিক ঘটনা, এমন মৃত্যু কেউই প্রত্যশা করে না, কিন্তু তারপরও তাকে চলে যেতে হয়েছে, হয়তো বিধাতা তাকে সহায়তা করেছে, যারা তার কোনো মূল্য দেয়নি, তার সরলতাকে ভিন্ন চোখে দেখেছে, বসন্ত রোগের কারণে তার কাছ থেকে গয়নাগুলো কেড়ে নিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে, বাপের হাতে মেয়েকে দেয়নি কারণ সেই যৌতুকের টাকা সহায়হরি এখনো যে দিতে পারেনি। এই তো ক্ষেন্তির শ্বশুরবাড়িতে স্থান! এমনই অপরাধের অপরাধি বাংলাদেশের কতো-শত সহায়হরি-ক্ষেন্তি, তারা কেউই অনাত্মীয় নয়, বিভূতির সবাই আত্মীয় হয়ে গেছে, তাদের বুকের যন্ত্রণা-কষ্টকে তুলে ধরেছেন লেখনির মাধ্যমে। মৃত্যু হয়েছে ক্ষেন্তির, সে নেই, চলে গেছে অনেক-অনেক দূরে, আর কখনো সে আসবে না সহায়হরির সংসারে, সবাই তাকে ভুলে গেছে, মা-বাবা- প্রিয় মেয়ের মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারে না, তারপরও তো মানতে হয়, মানুষ মরণশীল কিন্তু জীবন প্রবহমান, সে তো নদীর মতো শুধু চলতেই জানে। আবার পৌষ আসে, পিঠের আয়োজন হয়, ক্ষেন্তি যে নেই, কিন্তু ওই ছোট-ছোট দুটো মেয়ে, পুটি আর রাধী, ওরা ভুলতে পারে না, কারণ গতবছর যে ছিল সঙ্গে আজ সে শুধুই স্মৃতি! চোখ ভিজে যায়, মনটা কেমন কষ্টে ভরে ওঠে। ঘরে বাইরে লতায়-পাতায় শিরায়-শিরায় ক্ষেন্তির স্মৃতি যে দগদগ করে জ্বলছে, ছোট বোনদের ছোট বুক কষ্টে কেঁদে ওঠে, তাদের বড়দিদি সেই ভোজনপটু মেয়েটি, যার সঙ্গে পিঠাপিটি বড় হয়েছে, আজ সে নেই, তাদের ছেড়ে কোথায় চলে গেছে, পিঠে খাবার ধুম হলে সেই মেয়েটি একটু বেশি খেতে চাইতো, আর তাই আজ মনে হয় পুটি-রাধীর, তাই মনের মধ্যে আকুপাকু করে স্মরণ হয়, ‘দিদি বড় ভালোবাসতো...!’

গল্পটিতে বিভূতিভূষণ গ্রামবাংলা এবং গ্রাম্যজীবনের একটা ছবি তুলে এনেছেন। গভীর একটা কষ্ট, শব্দহীন একটা প্রতিবাদ ‘পুঁইমাচা’কে প্রাণ দিয়েছে নিসন্দেহে। নীরব হাহাকারের মধ্যে অনেক না বলা প্রশ্ন পাঠকের মনে উদয় হয়, কিন্তু লেখক যেন কোনো উত্তর দেবে না এমনই প্রতিজ্ঞা করে বসে আছেন। ক্ষেন্তি-সহায়হরি-অন্নপূর্ণার জীবন তো বাংলার মানুষের জীবন, বাংলার মানুষের করুণ কাহিনী, বাংলাদেশে হাজার বছরের লাঞ্চণা-গঞ্জনার ইতিহাস, যা বিভূতিভূষণ নিপূঁণ কলমের আঁচড়ে তুলেছেন দক্ষ জহুরীর মতো।

আজকালের খবর/আরইউ









Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft