মোশতাক পতনের চার বছর পরও কোনো মন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কবর দেখতে যাননি
সোহেল সানি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৩, ৭:৫১ পিএম
খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা মনুষ্যত্ববোধ এতটাই হারিয়ে ফেলছিলেন যে, তারা ক্ষমতাচ্যুতির চার বছর পরও বঙ্গবন্ধুর কবরটি দেখতে পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ায় একটিবার পা ফেলেননি, রুহের মাগফেরাত কামনা করে  জিয়ারত-তো পরের কথা।

আবার তারাই কিনা পুনরুজ্জীবন পাওয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রথম সারির নেতা হয়ে বসলেন। আরে খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির গদিতে বসে তার  মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বলেছিলেন, ‘আপনারা কেউ লাশের সঙ্গে টুঙ্গিপাড়া যেতে চাইলে যেতে পারেন।’ কিন্তু ভ্রুকুটি করেছেন সকলেই, কেউ লাশের সঙ্গে যাননি বরং বঙ্গভবনে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছিলেন খুনি ফারুক-রশিদের কাছে চেষ্টা-তদবিরে, পছন্দসই দফতর হাতিয়ে নিতে। ১৯৭৫ সালের ২৬ আগস্ট  ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করা হয় মন্ত্রিসভার সর্বসম্মতিক্রমেই। মোশতাকের আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করে বৈঠকে বাহবাও কুড়ান। তিনি বঙ্গবন্ধুরও আইনমন্ত্রী ছিলেন।

মোশতাকের মোসাহেবি এমনভাবে শুরু হয় যে, দেশে জাতীয় পাখি আছে, জাতীয় ফুল আছে, জাতীয় ফল আছে, একটা জাতীয় টুপি থাকা দরকার। অতএব একটা জাতীয় টুপির পক্ষে মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললো। গাঢ় ছাই রঙের কিস্তি টুপি যে টুপিটা খন্দকার মোশতাক পরিধান করেন। ২৬ আগস্টের ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তক্রমেই সংসদ ভবনসহ সমস্ত সরকারি দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধু ছবি নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভা গঠনের আট দিনের ব্যবধানে ২৩ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, এম মনসুর আলী, এএইচএম কামরুজ্জামান ও আব্দুস সামাদ আজাদকে। ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন জিল্লুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ ও গাজী গোলাম মোস্তফা। এর পরপরই গ্রেপ্তার করা হয় আমির হোসেন আমু এবং মোজাফফর হোসেন পল্টুকে। এসব গ্রেপ্তার নিয়েও কী মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য মুখ খুলেছিলেন? রাষ্ট্রপতি মোশতাক কী গ্রেপ্তারের আগে তার মন্ত্রীদের পরামর্শ নেননি?

বঙ্গবন্ধু সরকারের তথ্যমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী তার ‘রাজনীতির তিনকাল’ গ্রন্থে  লিখেছেন, ‘একদিন খন্দকার মোশতাক আমাকে ইফতারের দাওয়াত দিলেন। ইফতারের পর বললেন, তোমাকে আমার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তুমিও যদি দেশের রাষ্ট্রপতি হও তাহলে তোমারও দেশ পরিচালনার জন্য ৫০ জন লোক লাগবে। জবাবে বললাম, মোশতাক ভাই আপনি তো বলেছেন আওয়ামী লীগ করবেন। তাই আমাকে দলের জন্যই রাখেন। সরকারে টানার দরকার নেই।’

১৯৬৬-১৯৭২ আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতি ইঙ্গিত করে বঙ্গভবনের সভায় বলেছিলেন, ‘যেভাবে নেতা-কর্মীদের নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে, তাতে দল করবেন কাদের নিয়ে? খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় টিকে যাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রিসভার সদস্যদের একরকম পূর্ণ আস্থা যে  অর্জন করে ফেলেছিলেন, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না। বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বাধীন  আকষ্মিক সামরিক অভ্যুত্থানে  রাষ্ট্রপতিত্ব চলে না গেলে,  মোশতাক আওয়ামী লীগকেই সংগঠিত করতেন এবং সেই আওয়ামী লীগে সক্রিয় থাকতেন তার আশীর্বাদপুষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। ৮৩ দিনের মাথায় মোশতাক রাজত্বের অবসান ঘটবে সেটি বোধকরি, মন্ত্রিসভার সদস্যরা   আঁচ করতে পারেননি। এজন্য তারা  মন্ত্রীত্ব নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করে অগ্রসরমান হওয়ার বুদ্ধিটা মোশতাককে মন্ত্রীরাই দিয়েছিলেন।

এজন্য মোশতাক রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে দুই সপ্তাহের মাথায়  পহেলা সেপ্টেম্বর বাকশাল আদেশ বাতিল করেন। কিন্তু সুচতুর মোশতাক সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু যে  রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করেন, সেটি ঠিকই বহাল রাখেন। খুনি রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জেনারেল এম এ জি ওসমানীও এক্ষেত্রে প্রভাবিত করেন। 

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া নৌ ও জাহাজ চলাচল মন্ত্রী জেনারেল ওসমানী ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় ব্যবস্থার বিরোধিতা করে সংসদ সদস্য পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তখনো বাকশাল হয়নি। রাষ্ট্রপতির আদেশে বাকশাল গঠিত হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ প্রায় একমাস পরে বাকশাল কাঠামো ঘোষণা করেন। যারা বঙ্গবন্ধুর বাকশালকে উত্তমপন্থা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিলেন, দেখা গেল সেই তারাও বাকশাল রহিত করে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে সাফাই গাইলেন।

উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী ও মন্ত্রী কামরুজ্জামানকে বশ মানাতে ব্যর্থ হন মোশতাক। বাকশালের সাধারণ সদস্যও ছিলেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তাকে বশ করা যাবে ভেবে বঙ্গভবনে উপরোক্ত তিন নেতার সঙ্গে তাকেও ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সরকারের যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দিয়েই। কৃষিমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, তথ্যমন্ত্রী কোরবান আলী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ছাড়া বঙ্গবন্ধুর বাকশাল মন্ত্রিসভার সকলেই মোশতাকের মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর বাকশাল মন্ত্রিসভার বাইরে ছিলেন এমন সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে শেখ আবদুল আজিজ, মোল্লা জালাল উদ্দীন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী, ড. মফিজউদ্দিনকে মোশতাক মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক ১ সেপ্টেম্বর বাকশাল রহিত করে ৩ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। ১৯৭৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতি মোশতাক ১৯৭৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের অধিবেশন ডাকেন। নিয়মানুযায়ী জাতীয় সংসদের  স্পিকার আব্দুল মালেক উকিলের  সভাপতিত্বেই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গাজীপুরের ময়েজউদ্দিন আহমদ, কুমিল্লার অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ও ঢাকার শামসুল হক বঙ্গবন্ধু হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন। ৬ নভেম্বর ক্ষমতা হারানোর কারণে খন্দকার মোশতাকের আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবনের সুযোগ হয়নি। তিনি ডেমোক্রেটিক লীগ নামে একটি দল গঠন করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে পল্টন ময়দানে তার জনসভায় কে বা কারা অতর্কিত সাপ ছেড়ে দেয় এবং ঘটে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা। ৯ জন এতে মারা যায়। ১৯৯৬ সালের ৫ মার্চ মোশতাক মারা যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মোশতাকের নাম থাকলেও কোন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর নাম ছিল না, বরং তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবনের পর  সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নেতৃত্বলাভ করেন। পরে স্পীকার আবদুল মালেক উকিলের হাতে চলে যায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। আব্দুর রাজ্জাক কারাগারে বসে সাধারণ সম্পাদক হন। মালেক উকিল আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান শেষে লন্ডনে যাত্রা বিরতিকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করার পরও আবদুল মালেক উকিল কি করে আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছিলেন তার জবাব কে দেবেন?  ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় সংসদ গঠিত হলে মোশতাকের নৌ জাহাজ চলাচল মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। মোশতাকের মন্ত্রীদের মধ্যে এলজিআরডি মন্ত্রী  ফণিভূষণ মজুমদার, স্বাস্থ্য মন্ত্রী আব্দুল মান্নান ও খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল মোমিন প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগে শীর্ষ অবস্থানেই ছিলেন আমরণ। মোশতাকের মন্ত্রী  সোহরাব হোসেনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির শীর্ষে অবস্থান করেন।
অপরদিকে, মোশতাকের অর্থমন্ত্রী ড. আজিজুর রহমান মল্লিক, শিক্ষামন্ত্রী ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী মোশতাকের পতনের পর নিস্ক্রিয় হয়ে যান। মোশতাকের পরিকল্পনা মন্ত্রী  হয়েছিলেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী। তিনি বঙ্গবন্ধুর বাকশাল মন্ত্রিসভারও সদস্য ছিলেন। আব্দুল মালেক উকিলকে কাউন্সিলে সভাপতি ঘোষণা করায় মিজানুর রহমান চৌধুরী পাল্টা    আওয়ামী লীগ গঠন করেন নিজে সভাপতি ও অধ্যাপক ইউসুফ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে। পরে আওয়ামী লীগ (মিজান) নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে অধ্যাপক ইউসুফ আলী বিএনপিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রি হন। এরশাদের জাতীয় পার্টির মন্ত্রী হন এই ইউসুফ আলী। মিজান চৌধুরী এরশাদের ডাকে জনদলের মহাসচিব এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হন। এরশাদ কারারুদ্ধ হলে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। শেষ জীবনে পাল্টা জাতীয় পার্টি করলেও নির্বাচনে অযোগ্য হন আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ায়।

আওয়ামী লীগ (মিজান) ছেড়ে অধ্যাপক ইউসুফ আলী চলে যাওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক হন বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান। পরে তিনি আওয়ামী লীগে ফিরে প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছিলেন। কিন্তু শেষজীবনে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হলেও পরাজিত হন।  আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর রাজনীতি থেকেই হারিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু সরকারের নৌ জাহাজ চলাচল মন্ত্রী জেনারেল এম এ জি ওসমানী মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাকে সমর্থন দেয়!

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দেওয়ান ফরিদ গাজী আওয়ামী লীগে ফেরেন। বিএনপিতে পাড়ি জমিয়ে কেএম ওবায়দুর রহমান মন্ত্রী হন এবং পরে দলটির মহাসচিব হলেও বহিষ্কার হন।  মৃত্যুর আগে বিএনপিতে ফিরে এলেও   মন্ত্রীত্বলাভে ব্যর্থ হন। প্রয়াত  রিয়াজুদ্দিন আহমেদ ভোলা মিয়া বিএনপি জাতীয় পার্টি দুদলই করেন। মন্ত্রী ছিলেন। নূরুল ইসলাম মঞ্জুর বিএনপিতে যোগ দিলেও অবস্থান পাননি কখনোই। জাতীয় পার্টিতে দাপুটে নেতা ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ছিলেন এরশাদের উপপ্রধান মন্ত্রী। ডা. ক্ষিতীশ চন্দ্র মন্ডল আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছিলেন। তাহের উদ্দিন ঠাকুর হারিয়ে যান রাজনীতি থেকেই। নূরুল ইসলাম চৌধুরীর বেলায়ও ঘটেছে তাই। প্রয়াত সৈয়দ আলতাফ হোসেন ন্যাপে ফিরেছিলেন। মোসলেম উদ্দিন খান ও মোমেন উদ্দিন আহমেদও মোশতাকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। রাজনীতির মূলস্রোতে আর অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারেননি।  মোশতাক মন্ত্রিসভার কেউ বেঁচে নেই।

১৯৭১ সালে মুজিব নগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোশতাক পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন গঠনের চক্রান্তের দায়ে অভিযুক্ত হন। হারান মন্ত্রীত্ব। আর সেই মধুর প্রতিশোধ নেন ’৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে মোশতাক বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ‘দেশের সূর্য সৈনিক’ হিসেবে অভিহিত করেন। আওয়ামী লীগ একুশ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন ক্ষমতায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা হত্যার বিচার কার্য শুরু করে। ভাগ্যিস মোশতাক তার আগেই মারা যান। পুলিশ পাহারায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণে মোশতাকের লাশ এনে নামাজে জানাজা করতে চাইলেও গণবিক্ষোভের মুখে সম্ভব হয়নি। কুমিল্লার দাউদকান্দির দশপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে মোশতাককে দাফন করা হয়। সব কবরে নামফলক থাকলেও নেই মোশতাকের কবরে। মোশতাকের ছেলে ইশতিয়াক আহমেদ থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর দুই মেয়ে শিরিন সুলতানা ও ডা. নাজনীন সুলতানা যুক্তরাজ্যে। তারা জনরোষের ভয়ে বাড়িতে আসছেন না। পরিত্যক্ত এখন সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা মোশতাকের বাড়িটি।

আগেই বলেছি খন্দকার মোশতাক ২১ বছর বাড়ির চার দেয়ালে বন্দী ছিলেন। দুরারোগ্যে ভুগতে ভুগতে ’৯৬ সালের ৫ মার্চ মারা যান। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মোশতাক আসামি হলেও মৃত বলে আদালত তার নাম বাদ দেয়। যদিও মরণোত্তর বিচারেরও সুযোগ ছিল।
অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মাজারকে ঘিরে আজ কতশত মানুষের প্রার্থনা। তিনি বঙ্গবন্ধু শুধু নিজ স্বদেশে নয়, জাতিসংঘের মূল্যায়নে ‘বিশ্ববন্ধু’। আর তার কন্যা পার করতে চলেছেন ক্ষমতার কুড়ি বছর। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। সর্বোপরি স্মার্ট বাংলাদেশের পথে অগ্রসরমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।

সোহেল সানি : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ইতিহাস গবেষক।
আজকালের খবর/আরইউ








সর্বশেষ সংবাদ
মার্কিন শ্রমনীতি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি করতে পারে: পররাষ্ট্র সচিব
স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা-হয়রানি
একদিনে দশটি পথসভা, উঠান বৈঠক ও একটি জনসভা করেন সাজ্জাদুল হাসান এমপি
নতুন বছরে সুদহার বাড়ছে
শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
রাজপথের আন্দোলনে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে: মুরাদ
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকায় ইসলামী ব্যাংক
হাইকোর্টের ৫২ বেঞ্চ গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি
নতুন বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ইতিহাসের মহানায়ক: একটি অনন্য প্রকাশনা
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft