স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত হওয়া চাই
রাশেদুজ্জামান রাশেদ
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০২২, ৬:২০ পিএম
বাংলাদেশের অভ্যুদয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন হয় স্বাধীনতা। বাঙালির স্বপ্নের স্বাধীনতা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান বাঙালির স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্বাধীন বাংলার রূপকার জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বজ্রকণ্ঠে তার উচ্চারণ, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। দুঃখের বিষয় আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু শোষণমুক্তির ভাষণ আমাদের অন্তরে বহমান। ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হারানো মহান মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়েছে। কেমন আছে বাংলাদেশ? কোন পথে বাংলাদেশ? তিনি মুক্তির সংগ্রাম ও স্বাধীনতার সংগ্রামের ডাক দিয়ে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে শোষণমুক্তির জন্য সংগ্রামে পাঠিয়েছিলেন। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি পেয়েছে স্বাধীনতা। বিজয় ছিনিয়ে আনার রাষ্ট্রনায়ক তিনি। কিন্তু তিনি ভিনদেশির কাছে পরাজিত নয়, পরাজিত  হয়েছিলেন নিজ দেশের শত্রুর কাছে। তার জীবন কেঁড়ে নিয়েছে নিজের দেশের হায়নাদের দল। 

আজ তিনি নেই কিন্তু তার ডাক দেওয়া স্বাধীনতা কেমন আছে? আজ তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো এমন দেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হতেন এটাই স্বাভাবিক। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দামে মানুষের নাভিশ্বাস। খাবার অভাবে অপুষ্টিতে ভোগে দেশের মানুষ। পথে-ঘাটে চোখে পড়ে ছিন্নমূল মানুষ ভিক্ষার থলি নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। প্রচণ্ড শীতে কিংবা প্রচণ্ড গরমে জরাজীর্ণ শরীর নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করে। এদের অনেকের মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই। অসুখ-বিসুখে টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসাটুকুও পায় না। টাকা যার শিক্ষা তার এই নীতির কাছে পথহারা শিশু থেকে মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জিম্মি। তার মানে শিক্ষা যে মৌলিক অধিকার তা থেকেও বঞ্চিত। বেকারত্বের অদৃশ্য কারাগারে দিন যাপিত হচ্ছে অগণিত তরুণ-তরুণীর। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে আছে তরুণ-তরুণীরা। স্বাধীন দেশে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির আশায় আত্মহত্যার মতো ঘৃণীয় পথ বেছে নেয়। যার ফলে আত্মহত্যাকারীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

সারা দেশে নারী-শিশু ধর্ষণের ঘটনা প্রতিদিনের খবর। যত দিন যাচ্ছে ততই যেন নির্যাতন, হত্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাহাড়ে-সমতলে, ঘরে-পথে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলে-কারখানায় থেকে শুরু করে ঘরে বাইরে যেকোনো জায়গায় দিনে কিংবা রাতে নারীরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। রাজপথে মিছিল ও সমাবেশ চলে। বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলে নারী নির্যাতনকারীদের বিচার চাই। 

শিক্ষাখাত থেকে শুরু করে চিকিৎসাখাত সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিতে দেশ ভরে গেছে। যার উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি রিজেন্ট সাহেদের ‘কারবার’, স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় ‘মিঠু চক্রের’ বিপুল দুর্নীতি, যুবলীগের ক্যাসিনো সম্রাট-খালেদের তেলেসমাতি, নরসিংদীর পাপিয়া-কাণ্ড, ফরিদপুরের দুই ভাইয়ের দিনকে রাত রাতকে দিন করার ক্ষমতাবাজির বিষয়সহ বালিশ-কাণ্ড, নারিকেল গাছ-কাণ্ড, কয়লা-কাণ্ড, লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ-কাণ্ডসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির বিষয় দেখতে দেখতে দেশের জনগণ আজ দুর্নীতিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনেই নিয়েছে। 

আর অন্যদিকে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) একটি যৌথ জরিপে জানানো হয়েছিল, দেশে করোনাকালে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। সেই সাথে করোনা কালেও নতুন কোটিপতি বেড়েছে ১৭ হাজারের বেশি।

স্বাধীনতা ৫০ বছর এসে বাংলাদেশ যখন ধনী গরিবের বৈষম্য হয় পিরামিড আকারে তখন স্বাভাবিকভাবেই অতীতের লড়াই সংগ্রাম স্মৃতি চারণ করতে হয়। এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর বাঙালি জাতির পরমবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন সংগ্রাম বিশ্লেষণ করে শিক্ষা নিতে হয়। তিনি ১৯৪৮ সালে মাতৃভাষার দাবিতে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বসহ ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ৬-দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় সবই হয়েছিল তার নেতৃত্বে। স্বাধীনতার জন্য যিনি ৪৬৭৫ দিন কারাগারে ছিলেন। তার নেতৃত্বে স্বাধীনতাই ছিল জাতি হিসেবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। কিন্তু আজ সেই স্বাধীনতা কোথায়? নারী শিশু নির্যাতন কবে বন্ধ হবে? রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি কবে হবে? কৃষক তার কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য কবে পাবে? শ্রমিক তার ন্যায্য মজুরি কবে পাবে? মানুষ তার কথা বলা ও ভোটাধিকার কবে পাবে? শোষণমূলক দেশ গড়ার প্রত্যয়ের স্বপ্ন তো দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। 

সারা বিশ্ব যেখানে গতিশীল সেখানে রাজধানী ঢাকায় মানুষের গতি ক্রমেই থেমে যাচ্ছে কারণ ঢাকা বিশ্বে শীর্ষ দূষিত নগরী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। জীবিকার জন্য সাধারণ মানুষ দিনান্ত পরিশ্রম করেও সংসারের চাকা সচল রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। পুঁজিবাদী উন্নয়নের ফলে সামাজিক দুর্দশায় তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলো। সমাজে সর্বস্তর গ্রাস করছে ধর্মান্ধ। যার ফলে দেশে বাড়ছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। দেশে অতিশয় উন্নয়নের নিচে চাপা পড়ছে স্বাধীনতার চেতনা। সেই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও আজ হারাতে বসেছে। এর থেকে জনগণের প্রকৃত মুক্তি চায়। ফলে পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্যের বন্ধ করতে হবে। জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র সংবিধানের চার মূলনীতির মাধ্যমে দেশ চালাতে হবে। পুঁজিবাদের চক্রান্ত সমাজ-রাষ্ট্রে বৈষম্য সৃষ্টি করা বন্ধ করতে হবে।

লেখক : কলামিস্ট।
আজকালের খবর/আরইউ








সর্বশেষ সংবাদ
নান্দাইল পৌর সদরে এক রাতে তিন বাসায় চুরি
শিক্ষাবিদ নূরুল ইসলাম ভাওয়ালরত্নের ইন্তেকাল
নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত র‌্যাব: ডিজি
বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন মারা গেছেন
২০২৩ হোক অগ্রযাত্রার আরেকটি বছর: সজীব ওয়াজেদ জয়
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কাজী নজরুল ইসলাম ও বাংলা গান
এভাবে চলে যেতে নেই
পরীমনির জীবনটা আমার জীবনের মতো: তসলিমা
কেউ আক্রমণ করলে ছাড় দেবো না: কাদের
২০২৩ হোক অগ্রযাত্রার আরেকটি বছর: সজীব ওয়াজেদ জয়
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft