চিত্রপরিচালক আজিজুর রহমানের গ্রামের বাড়িতে চতুর্থ জানাজা। ছবি: সাইফ হাসান খান সৈকত
দেশবরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বগুড়ার আদমদীঘিতে বাদ জোহর ছুটির ঘণ্টা’খ্যাত এই নির্মাতার দাফন সম্পন্ন হয়। উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের সাঁতাহার ঈদগাহ মাঠে জানাযা শেষে পরে তাকে ওছিয়ত অনুযায়ী পারিবারিক গোরস্থানে মায়ের কবরে দাফন করা হয়। এ সময় বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, সান্তাহার পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, কাউন্সিলর আলাউদ্দিন প্রমুখ।
জানা যায়, ছুটির ঘণ্টা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক আজিজুর রহমান ১৯৩৯ সালের ১০ অক্টোবর আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের সাঁতাহার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় আহসানুল্লাহ ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাস ও ঢাকা সিটি নাইট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি চারুকলা আর্ট ইনস্টিটিউটে কমার্সিয়াল আর্টে ডিপ্লোমা করেন।
এফডিসিতে আজিজুর রহমানের কফিন খোলা হচ্ছে। ছবি: সালেকুজ্জামান চোধুরী রাজিব
১৯৫৮ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশামের সহকারী হিসেবে এ দেশ তোমার আমার চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এরপর আজিজুর রহমান আমৃত্য তাদের সঙ্গে ছিলেন।
মঞ্চে আজিজুর রহমানের ওপর স্মৃতিচারণে ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ও পরিচালক মতিন রহমান।
একক পরিচালক হিসেবে ১৯৬৭ সালের সাইফুল মুলুক বদিউজ্জামান দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু। এরপর তিনি নির্মাণ করেন ‘অশিক্ষিত’, ছুটির ঘণ্টা, মাটির ঘর, জনতা এক্সপ্রেস,সমাধান, ফুলেশ্বরী, মায়ের আঁচলম স্বীকৃতি, দিল, লাভ, ডাক্তার বাড়িরসহ ৫৩টি চলচ্চিত্র। ক্যারিয়ারজুড়ে সুপার হিট ছবির অন্যতম অগ্রজ পরিচালক হিসেবে সুনাম অর্জন করলেও জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত থেকেছেন চলচ্চিত্রের সোনালী সময়ের সর্বশেষ এই গুণী।
আজিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় তার দুই সন্তানের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছর ফেব্রয়ারিতে ফুসফুসে পানি চলে আসায় কানাডার একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চলছিল চিকিৎসা। ফুসফুসের সমস্যার কারণে এর আগেও কয়েক দফা ওই হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্মান না পেলেও পরিচালক সমিতির সহকর্মীদের স্যালুটে বিদায় নেন আজিজুর রহমান। ছবি সালেকুজ্ঝামান চৌধুরী রাজিব
করোনাকালীন অবসরে জলরং ব্যবহার করে প্রচুর ছবি একেঁছেন। জীবদ্দশায় আজিজুর রহমানের ইচ্ছা ছিলো নিজের একক একটি প্রদর্শনী করবেন। সে ইচ্ছা কানাডায় প্রচুর ছবি একেঁছেন- আজকালের খবরের বিনোদন প্রধানের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এমন ইচ্ছা ব্যক্ত করে গেছেন আজিজ।
আজিজুর রহমানের প্রতি সিনে জার্নালিস্ট আমরা ক’জনার শ্রদ্ধাঞ্জলী। ছবি সালেকুজ্জামান চৌধুরী রাজিব
গত ১৪ মার্চ সোমবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই আজিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
এরআগে রবিবার বিকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে তার মরদেহ দেশে এসে পৌঁছায়। মরদেহ পৌঁছানোর খবরে প্রিয় সহকর্মীকে দেখতে ছুটে আসেন বরেণ্য গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মেগাস্টার উজ্জল, ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জনা, চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়াও দীর্ঘদিন পর এফডিসিতে এসেছিলেন বাপ্পা রাজ ও সম্রাট।