একথা সর্বজনবিদিত যে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যাংকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। ব্যাংক সাধারণ জনগণের আমানত ও সঞ্চয়ের জিম্মাদার। সাধারণত ব্যাংক একটি সুনির্দিষ্ট নীতি কাঠামোর আওতায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়। দক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই যথাযথ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে পারে। এজন্য ঝুঁকির সংস্কৃতি অনুধাবন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সুশাসন নিশ্চিত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে আলাদা গাইডলাইন তৈরি করা জরুরি। অর্থনৈতিক ও আর্থিক পুনরুদ্ধারে ব্যাংক খাতের সুসংগঠিত কার্যপ্রস্তুতি প্রয়োজন। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করোনা-সংক্রান্ত অর্থনৈতিক ও আর্থিক কার্যক্রমে ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায়ও মনোযোগ দিতে হবে।
এজন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা, সম্ভাব্য অবকাঠামোগত পরিবর্তনে প্রস্তুতি নেওয়া, ঋণ ব্যবস্থাপনার ঝুঁকির দিকগুলোর পদ্ধতি সংস্কার আনা, বর্তমান ও সম্ভাব্য তারল্য ব্যবস্থাপনার দিকগুলো পর্যালোচনা করা, প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার, অর্থনীতিতে তারল্য বাড়াতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নেওয়া, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সব কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ে দেখভাল করা, সব পর্যায়ে শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াতে কাজ করা প্রয়োজন। ব্যাংকিংখাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে এর মধ্যে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দিক বিবেচনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ খুলেছে। বোর্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি, নির্বাহী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা এরই মধ্যে কাজ করছে। ব্যাংকের সব ধরনের ঋণে ঝুঁকি থাকে, তা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করতে হবে ব্যাংকারদের। তবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রথম কাজ হলো ব্যাংকারদের ঝুঁকি চিহ্নিত করা। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সূচক তৈরি করে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ঋণ প্রদানে ঝুঁকিগুলো খুঁজে বের করতে হবে। ব্যাংকিংখাতে ঝুঁকিকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং দক্ষতার সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জরুরি। ঝুঁকির ক্ষেত্রে নিজেকে সচেতন হতে হবে।
ব্যাংকারদের নিজ দায়িত্বেই ঝুঁকি চিহ্নিত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। এতে শিল্প, কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি অর্থনীতির চালিকাশক্তি ব্যাংকখাতও সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়েছে ব্যাংকগুলোর ওপর। এতে করোনাপরবর্তীতে অর্থনীতিকে সচল করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণ ও আদায় করতে হবে। এই সময় খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, মুনাফা কমে যাওয়াসহ নানা ধরনের সংকটে পড়বে ব্যাংক খাত। এ সব ঝুঁকি সক্ষমতার সঙ্গে মোকাবিলায় বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ব্যাংকখাতে উচ্চপর্যায়ের ‘কোভিড-১৯ ঝুঁকি মোকাবিলা কমিটি’ গঠন করার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা। ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে হলেও এখনই তারল্য সংকট হবে না। তবে ভবিষ্যতে নানা সংকট হতে পারে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের কোভিড-১৯ ঝুঁকি মোকাবিলার কমিটি করতে হবে। এ ছাড়া সরকারকেও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।
অর্থনীতিকে সচল করতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ভবিষ্যতে অনেক পরিবর্তন আসবে জীবন যাপনে। বিশেষ করে অর্থ ব্যবস্থাপনায়। ব্যাংককে টিকে থাকতে হলে একটি পরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে। ব্যাংকখাতের সঙ্গে অর্থনীতির সব খাত জড়িয়ে পড়ছে। এজন্য ব্যাংক সমস্যায় পড়লে সব খাত সমস্যায় পড়বে। প্রণোদনার প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিয়ে আদায় করতে হবে। তাই সঠিক গ্রাহক নির্বাচন করে ঋণ প্রদান চ্যালেঞ্জিং। এতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঘোষিত প্রণোদনা বাস্তবায়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এখন দেখা দরকার দেশের ব্যাংকগুলো এই অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবে কি না।
এক গবেষণায় উঠে এসেছে ৬৮ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের বাঁচাতে হবে। তাদের ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আসতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে দেশের ব্যাংকখাত এমনিতেই প্রতিকূল অবস্থায় আছে। নয় শতাংশ সুদ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ব্যাংকের আয় কমে গেছে। তাই ব্যাংকের বিষয়গুলোও দেখতে হবে। সিএসআর বাস্তবায়নসহ ব্যাংকের আয়ে করহার পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব অফিস বন্ধ থাকলেও করোনা ঝুঁকির মধ্যে ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে এখন জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংকারদের মনোবল ধরে রাখতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ইচ্ছায় ঋণ বিতরণ করা হয়। অনেক সময় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কোনো সম্মতি থাকে না। এরপরও ঋণ বিতরণ হয়। এভাবে পর্ষদের চাপে বিতরণ করা ঋণই পরে খেলাপি হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকলেও আরএমডির কিছুই করার থাকে না। ফলে ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ। বাংলাদেশে ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত বিভাগটি পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সে কারণেই দিনের পর দিন বাড়ছে খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি এবং অ্যাডভান্স ডিপোজিট রেশিও বা ঋণসীমা লঙ্ঘন। দেশের ব্যাংকিং খাতে আগে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যকর ছিল না। ধীরে ধীরে ধারণাটি তৈরি হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে ব্যাংকিংখাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে। ব্যাংকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া অনেকটা ভূমিকম্পের আগে নিজেদের প্রস্তুত করে নেওয়ার মতো। সে কারণে প্রত্যেক ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব নীতিমালা থাকা উচিত।
বিভাগটিকে অটোমেশনের আওতায় আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞ লোক দিয়ে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই। রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইচ্ছা না থাকলেও অনেক সময় পরিচালনা পর্ষদের অনুমতিতে ঋণ দেয় ব্যাংক। এক্ষেত্রে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত কোনো কাজে আসে না। শুধু রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি থাকলে সব সমস্যার সমাধান হবে না। সবার আগে কর্মীদের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন প্রয়োজন। যেহেতু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না, তাই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের দায়ী করা ঠিক হবে না। ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি বিভাগ নয়, শীর্ষ ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থা- সব পক্ষ মিলে একত্রে কাজ করতে হবে। ঝুঁকিভিত্তিক ঋণ কমিয়ে ক্ষুদ্রঋণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কোভিড-১৯ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির সর্বস্তরে একটি সমন্বিত ঝুঁকির পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এ মহামারীর ঢেউ বারবার আছড়ে পড়ার কারণে পৃথিবীর সর্বত্র এবং সর্বক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত ও অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওমিক্রন এক্ষেত্রে অতিসাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার ঢেউ তৈরি করেছে। কোভিড-১৯-এর কারণে অর্থনীতি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে যে বাধা-বিপত্তি ও বিপর্যয় তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে সব ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব আর্থিকখাতে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। ব্যাংকখাত বা সর্বোপরি আর্থিক খাত কোভিড-১৯-এর প্রথম ঢেউয়ের সময়ই ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এবং এরপর অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও সেই বিপর্যয়ের ধাক্কা এখনো পুরোপুরি সামলে ওঠা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এ রকম পরিস্থিতিতে ব্যাংকখাতকে টিকিয়ে রাখা এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন ইতিবাচক কৌশল ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি অর্থনীতির জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ সারা পৃথিবীর সামনে অত্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর ছিল। আমাদের অর্থনীতি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রায় সব ধরনের আর্থিক সহায়তার জন্য অনেকটা এককভাবেই আমরা ব্যাংকখাতের ওপর নির্ভরশীল। আর এ কারণেই মহামারীর প্রথম ঢেউয়ের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখার জন্য যেসব এবং যে মাত্রায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, তাতে দেশের ব্যাংকগুলোকে বেশ দায়িত্বশীলতা ও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। সব ধরনের ঋণের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের যে সংশ্লিষ্টতা, তা ব্যাংক কার্যক্রমের তাত্ত্বিক পরিভাষা থেকে ভিন্ন। বাংলাদেশের ব্যাংকখাতে সামগ্রিকভাবে অর্থায়ন পরিস্থিতি এবং এ খাত থেকে যে পরিমাণ প্রত্যাশা-এ দুয়ের মধ্যকার ব্যবধান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। আমরা এখন পর্যন্ত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারিনি, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে ব্যতিক্রম নয়। এ রকম পরিস্থিতিতে ‘এন্টারপ্রাইজ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ বা ‘সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ হচ্ছে সবচেয়ে সময়োপযোগী ও কার্যকরী পন্থা, যা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করতে পারে। এ ব্যাপারে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নেতৃত্ব প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।
‘সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’র অংশ হিসেবে একটি চৌকস দল নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ, পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নেতৃত্বকে অবগতকরণ এবং এসবের ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিশ্লেষণমূলক কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে। পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নেতৃত্ব অনেক বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করবে। কোভিড -১৯-এর প্রথম ঢেউয়ের পর বেশকিছু ব্যাংক এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে ব্যাংকখাতে স্থিতিশীল অবস্থা আনার জন্য এ ধরনের কার্যক্রম চলমান রাখা অত্যন্ত জরুরি। সঙ্গে প্রয়োজন বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিনিয়োগ। কোনো সন্দেহ নেই যে ডিজিটাল প্লাটফর্ম নিশ্চিত করা ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার একটি প্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। এ রকম নাজুক একটি সময়ে এ খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সহজ নয়। এক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। আর সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার ঝুঁকি ও পরিচালনগত ঝুঁকি, যা মোকাবেলা না করলে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হবে। বিনিয়োগ করতে হবে নতুন পরিস্থিতিতে কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী জনবল তৈরিতেও। এ অবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি ও আর্থিক সামর্থ্যরে ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক ও অংশীদারি পক্ষগুলোর কাছে স্বচ্ছ থাকা জরুরি। ব্যাংকখাতে ঝুঁকিগুলো চিহ্নিতকরণ ও প্রকৃত ক্যাপিটাল বা মূলধনের পরিমাণ নিরূপণ এবং যথেষ্ট পরিমাণ সংরক্ষণ করে আগামী দিনের সম্ভাব্য বিপদ মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার বিকল্প নেই।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ও কলাম লেখক।
আজকালের খবর/আরইউ