ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ১৭ মে ২০২১ ● ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ১৭ মে ২০২১
শিরোনাম: প্রাথমিক স্কুলের ছুটি বাড়ল ২৯ মে পর্যন্ত       পদত্যাগ করলেন ডায়ানার সাক্ষাৎকার নেওয়া বিবিসির সেই সাংবাদিক       শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’       মহাকাশে সিনেমার শুটিং: প্রতিযোগিতা আমেরিকা-রাশিয়ার       গাজায় আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল       শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ মে খুলছে না       তিন দিনের রিমান্ডে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী      
প্রিন্ট সংস্করণ
‘ক্যাশ আউট’ ছাড়া অন্য অপশন বন্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Wednesday, 5 May, 2021 at 2:04 AM


প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘মায়ের’ মোবাইল থেকে প্রতারণা ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাকা পাঠানোর ১৫ দিনের মধ্যে শুধু টাকা তোলা ছাড়া আর কিছু করতে পারবেন না। এর আগে নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর প্রতারণার মাধ্যমে অভিভাবকদের ফোন করে টাকা তুলে নিয়ে গেছে প্রতারক চক্র। এ নিয়ে আজকালের খবরে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতারণা ঠেকাতে নতুন এ সিদ্বান্ত নিয়েছে সরকার।
জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী বলেন, প্রতারণা ঠেকাতে এবার নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকের মোবাইলে টাকা যাওয়ার পর ১৫ দিন পর্যন্ত তিনি এ টাকা শুধু ক্যাশ আউট (তুলতে পারবেন) করতে পারবেন। অন্য কাউকে টাকা পাঠানোর যত অপশন আছে সেগুলো এ ১৫দিন বন্ধ থাকবে। এতে প্রতারণা প্রায় শূন্যের কোটায় চলে আসবে দাবি করে তিনি বলেন, এই ১৫দিনের মধ্যে অভিভাবকরা তাদের টাকা ক্যাশ আউট করতে উৎসাহী করা হবে। সেজন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের সচেতনামূলক প্রোগ্রাম ও স্ক্রল প্রচার করা হবে। এছাড়াও অভিভাবকদের সচেতন করতে শিক্ষকদের একটি নির্দেশনা পাঠাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রাথমিকের এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি বিতরনে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হতো। এসব বন্ধ করতে সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইলে টাকা পাঠানো উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসে উপবৃত্তির টাকা ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘মায়ের’ মোবাইলে পাঠানো হয়। এরপরই শুরু হয় আরেক প্রতারণা। একটি চক্র দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিভাবকদের ফোন করে নগদের পিন নাম্বার, ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) জালিয়াতি করে ক্ষুদ্র শিক্ষার্থীদের টাকা হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে উপবৃত্তি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এ প্রতারণা ঠেকাতে নতুন এ কৌশল নেওয়া হয়েছে।
উপবৃত্তি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগেই ২০২০ সালের বকেয়া ছয় মাসের (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) উপবৃত্তি বিতরণ শুরু  হবে। একজনের টাকা অন্যজন প্রতারণা করে যাতে উঠাতে না পারে সেজন্য ‘ক্যাশ আউট’ ছাড়া বাকী অপশনগুলো বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ একজনের মোবাইল থেকে অন্যজনের মোবাইলে সেন্ট মানিসহ টাকা পাঠানোসহ অন্যসব অপশনগুলো বন্ধ থাকবে।
উপবৃত্তি প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, উপবৃত্তির টাকা ‘নগদ’ এর মাধ্যমে পাঠানো পর যারা প্রতারণা শিকার হয়েছেন বেশিরভাগই টাকা অন্য মোবাইলে সেন্ট মানি করা হয়েছে। অভিভাবকদের কাছ থেকে নগদের পিন নাম্বার, ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) জালিয়াতি করে টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারকদের কয়েকজনকে এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাও হয়েছে। কারা এসব প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে করা হচ্ছে তা তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে নগদের মাধ্যমে প্রথম কিস্তির টাকা মোবাইলে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই প্রতারকচক্র দেশের বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবকদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে ফোন দেওয়া শুরু করে। কখনো নগদের এজেন্ট, কখনো শিক্ষা কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষক পরিচয় দিয়ে পিন নাম্বার, ওটিপি বা উপবৃত্তির টাকা কম গেছে বলে তাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য চায়। আরো টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বলে ওটিপি চাওয়া হয়। অনেক অভিভাবক না বুঝে সব তথ্য প্রতারকদের দিয়ে দেন। এরপর অভিভাবকদের মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে  দফায় দফায় সভা করেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
এর আগে প্রতারণা ধরা পরার পর সবাইকে সর্তক থাকতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে দুই দফা চিঠি জারি করে উপবৃত্তি প্রকল্প। তাতে বলা হয়েছিল, যেখানেই প্রতারণার খবর পাওয়া যাবে, সেখানে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। এছাড়াও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা আরো বেশি করে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় নগদকে। এনএমএস।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com