ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  শুক্রবার ● ২৫ জুন ২০২১ ● ১১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  শুক্রবার ● ২৫ জুন ২০২১
শিরোনাম: নারী পাচারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : বিজিবি মহাপরিচালক       চুয়াডাঙ্গায় একদিনে শতভাগ করোনা শনাক্ত       বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে       রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রেকর্ড ১৮ জনের মৃত্যু       তিন পার্বত্য জেলার নিয়োগ কেন্দ্রীয় তত্বাবধানে       বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত প্রায় ১৮ কোটি        অপ্রতিরোধ্য এক যুগ      
প্রিন্ট সংস্করণ
রেমিট্যান্সে আরো প্রণোদনা আসছে
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
Published : Wednesday, 5 May, 2021 at 1:46 AM


আরো বেশি করে রেমিট্যান্স আনতে চায় সরকার। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠালে বর্তমানে দুই শতাংশ হারে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে তিন শতাংশ করা হবে। অর্থাৎ বর্তমানে কেউ ১০০ টাকা রেমিট্যান্স পাঠালে তাকে ১০২ টাকা দেওয়া হয়। আগামীতে তা এক টাকা বাড়িয়ে ১০৩ টাকা দেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছরে রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনার পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এই খাতে প্রণোদনা রয়েছে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে চার হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এতে প্রবাসীরা আরো বেশি করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হবে। আর এতে সমৃদ্ধ হবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামী ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় প্রণোদনা বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গত দুই অর্থবছরে এ খাতে প্রণোদনা দিয়ে আসছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে প্রণোদনা ছিল তিন হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা। এই অর্থ সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। প্রণোদনা দেওয়ার কারণে রেমিট্যান্স খাতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। অর্থনীতির অন্য খাতের অবস্থা কিছুটা নাজুক হলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ আমাদের সব আশা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে আট মাসেই বরাদ্দের সবটুকু ব্যয় হয়ে গেছে। তাই আমরা এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হবে চার হাজার কোটি টাকা।  
জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে প্রবাসীরা ২০৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিলে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে এপ্রিলে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেছেন, রমজান ও দুই ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে সবসময়ই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়। তবে এবারের প্রবৃদ্ধি অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের এপ্রিলে রেমিট্যান্সে বড় ধস এ বছরের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে হচ্ছে।   
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রবাসী আয় পাঠানোর নিয়াম-কানুন সহজ করা, নগদ প্রণোদনাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমুখী পদক্ষেপ রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের এ অর্জন দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের প্রত্যাশা এটি আরো বাড়বে। এ বিষয়ে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। কাউকে হয়রানি হতে হয় না, রেমিট্যান্স সময়মতো উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে যায়। যে কারণে এটি দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং বাড়তেই থাকবে।
এ দিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ৬৬ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে এক হাজার ৪৮৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৯ শতাংশের বেশি। সূত্র জানায়, এপ্রিলে দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটি একাই ৬০ কোটি তিন লাখ ডলার রেমিট্যান্স এনেছে। অগ্রণী ব্যাংক ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২০ কোটি ২৮ লাখ ও সোনালী ব্যাংক ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এনেছে।
রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
মূলত রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখিতার সূচনা হয় গত অর্থবছর থেকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সর্বপ্রথম রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনা ঘোষণা করে। যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স আসে তারাই রেমিট্যান্স প্রাপকদের দুই শতাংশ নগদ অর্থ দিয়ে দেয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে এই দুই শতাংশ প্রণোদনা ভর্ভুকি হিসেবে ব্যাংকগুলোকে দিয়ে দেওয়া হয়। শুধু সরকারি দুই শতাংশ প্রণোদনাই নয়, বেশ কয়েকটি ব্যাংক এই দুই শতাংশ প্রণোদনা অতিরিক্ত আরো এক শতাংশ অর্থ রেমিট্যান্স প্রাপকদের প্রদান করে আসছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের রেকর্ড ভেঙে ৪৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ রিজার্ভ। প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে ১১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান রিজার্ভ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রিজার্ভের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান; যা পাকিস্তানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
জানা গেছে, দেশের জিডিপিতে এই রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। বর্তমানে ১৭৪টি দেশে প্রায় এক কোটি ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। যাদের তিন-চতুর্থাংশ কর্মরত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। করোনা মহামারি শুরুর পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশের কর্মীদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমে এলে গত বছরের শেষ দিকে অনেক কর্মী আবার বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। রেমিট্যান্সের গতি ধরে রাখতে গত অর্থবছরে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার। ব্যাংকাররা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এখন অনেক ব্যাংক রেমিট্যান্সে সরকারের দুই শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি এক শতাংশ প্রণোদনা যোগ করে মোট তিন শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এছাড়া ঈদের আগে সাধারণত প্রবাসীরা বেশি করে রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। তবে সারা বছরই করোনার মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করেছে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কেবল দুবাই ও ইতালি থেকে রেমিট্যান্স আসা কমেছে। এছাড়া অন্যান্য দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বেড়েছে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব থেকে। তাছাড়া দেশে রেমিট্যান্স আহরণে ব্যাংকগুলোর মধ্যেও প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এক সময় রেমিট্যান্স আহরণে পিছিয়ে থাকা রূপালী ব্যাংক এখন রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে এক নম্বরে আছে। এই ব্যাংকটির রেমিট্যান্স আহরণ বেড়েছে ১২৯ শতাংশ। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় ইসলামী ব্যাংক, ১০২ শতাংশ এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৬১ শতাংশ।
রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামস-উল ইসলাম বলেন, আমাদের কিছুটা খরচ বাড়লেও আমরা ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্সে দুই শতাংশের সঙ্গে বাড়তি আরো এক শতাংশ প্রণোদনা দিতে চেষ্টা করছি। এটা আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধপথে দেশে আনতে উৎসাহ জোগাবে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, একটা বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে; রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে রিজার্ভ বেড়েছে ঠিক। কিন্তু আমদানি ব্যয় কমার ফলে রিজার্ভ বাড়ার একটি কারণ। এছাড়া গত তিন-চার মাসে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের মতো যে বিদেশি ঋণ-সহায়তা এসেছে সেটাও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। সে পরিস্থিতিতে যদি রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি ঋণ এখনকার মতো না আসে তখন কিন্তু রিজার্ভে চাপ পড়বে। এনএমএস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com