ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ১৭ মে ২০২১ ● ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ১৭ মে ২০২১
শিরোনাম: প্রাথমিক স্কুলের ছুটি বাড়ল ২৯ মে পর্যন্ত       পদত্যাগ করলেন ডায়ানার সাক্ষাৎকার নেওয়া বিবিসির সেই সাংবাদিক       শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’       মহাকাশে সিনেমার শুটিং: প্রতিযোগিতা আমেরিকা-রাশিয়ার       গাজায় আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল       শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ মে খুলছে না       তিন দিনের রিমান্ডে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী      
‘এ জার্নি বাই’ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
মোতাহার হোসেন
Published : Tuesday, 4 May, 2021 at 8:23 PM

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে বিশে^র উন্নত, উন্নয়নশীল, অনুন্নত প্রায় সকল দেশের স্বাস্থ্য, চিকিৎসার ভঙ্গুর ও দৈন্যদশা বিশ্ববাসীর সামনে ফুটে ওঠেছে। অপর্যাপ্ত হাসপাতাল, অপর্যাপ্ত শয্যা, অপর্যাপ্ত আইসিইউ, অক্সিজেনের সংকট সর্বত্র কমবেশি লক্ষ্য করা গেছে। করোনায় আক্রান্ত এবং তাদের স্বজনরা এই দৈন্যদশা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। বাংলাদেশও এই সময়ের স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা নিয়ে নানান মত রয়েছে। তবুও উন্নত বিশে^র অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোন কোন ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর কয়েকটি বিশেষায়াতি হাসাপাতালের পরিবেশ, রোগীদের চিকিৎসা-সেবায় অনন্য উজ¦ল দৃষ্টান্ত রয়েছে। এসব হাসপাতাল এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের ওপর রোগীদের আস্থা ও ভরসা বেড়েছে। অবশ্য হাসপাতালের চিকিৎসা, পরিবেশসহ নানা রকম অব্যবস্থার খবর প্রায়শই পত্রিকার শিরোনাম হতে দেখা গেছে। তবে তার সবটুকুই যে সত্য তা হলফ করে বলা যাবে না। কারণ কোন একটি হাসপাতালে রোগীর স্বাস্থ্য সেবা বাস্তবে কতটুকু রোগীবান্ধব তা একমাত্র চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনরা অনুধাবন করতে পারেন। নিজে যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স নিয়ে তথা ওই হাসপাতালের পুরো স্বাস্থ্যসেবাকে ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মাত্রায় উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারী রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিটিউট ও হাসাপাতালে ভর্তি হয়ে একটানা ৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১৮ দিনের চিকিৎসায় এ সম্পর্কে বিগত দিনের নেতিবাচক ধারনার অনেকটাই উল্টো চিত্র ফুটে ওঠেছে। কারণ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা যে কোন রোগী রোগ নিরাময়ের প্রত্যাশা নিয়েই ভর্তি হয়। এ ক্ষেত্রে মূমূর্র্ষু রোগী হলেও আশা করে  সুস্থ্য হয়ে ফিরবে বাড়ি। কিন্তু এ অবস্থায় কোন মুমুর্ষ রোগীও যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার স্বজনদের কাছে সেটা প্রত্যাশিত থাকে না। তারা বিক্ষব্ধ মর্মাহত হন এবং তাদের এরকম প্রতিক্রিয়া হওয়া স্বাভাবিক। 
ঢাকার শেরে বাংলানগরে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। এ হাসপাতালে হার্টের প্রায় সব ধরনের সর্বাধুনিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ইনস্টিটিউিট প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসায় ডা. আব্দুল মালিক ছিলেন মহীরূহের মতো। এ ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠার পেছনে তার অবদান অনেক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সময়কে ‘এ জার্নি বাই হৃদরোগ হাসপাতাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। দীর্ঘ এই জার্নিতে আমার চিকিৎসা সেবা চলে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দীনের অধীনে। তিনি শুধু একজন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞই নন, একই সাথে সুদক্ষ প্রশাসক, একজন মানবিক, উদার, রোগীবান্ধব, সেবায় অনন্য একজন চিকিৎসক। ক্যাথল্যাবে রোগীকে আন্তরিক ব্যবহার দিয়ে রোগীর মনে যাতে ভীতিকর, শঙ্কা না আসে সে জন্য গল্প করতে করতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে হার্টের রিং পরানোসহ সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন করার কৌশল সত্যিই ডাক্তার জামালের মানবিকতা, সেবার ও আন্তরিকতার বহি:প্রকাশ। তার সুদক্ষ নেতৃত্ব, সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা, প্রশাসনিকসহ যাবতীয় কার্যক্রম মনিটরিং, রোগীদের স্বাস্থ্যের হালনাগাদ খোঁজখবর একইসঙ্গে চলে। এখানে স্থান সংকুলান না হলেও বারান্দায় বেড দিয়ে আগত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে কেবিন, পেইং বেডসহ প্রতিদিন গড়ে এগার’শ থেকে বারশ এবং বহি:বিভাগে প্রায় হাজার রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। আগামি জুন নাগাদ সম্প্রসারিত ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে কেবিন, পেইং বেড, নন পেইং বেডসহ শয্যা সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৫০। বর্তমানে এখানে ৪৫০ ডাক্তার, প্রায় এক হাজার নার্স চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। 
হাসপাতালে খাবারের মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় নেতবাচক সংবাদ চোখে পড়ে। কিন্তু এ হাসাপাতালে খাবারের তালিকায় সকালে পাওয়া রুটি, জেলি, কলা, ডিম দুপরে ভাতের সাথে ডাল, সব্জি মাছ অথবা মুরগির মাংস, রাতে ডায়বেটিক রোগীর জন্য রুটি, ডাল, সব্জি মুরগির মাংস অথবা মাছ সঙ্গে বিস্কুট এক প্যাকেট। সাধারণ রোগীর জন্য রুটি ছাড়া ভাতের সঙ্গে উপরোক্ত  মেনু পরিবেশন করা হয়। সাধারণত বাসা বাড়িতে যেরকম তেল, মসলা দিয়ে মাছ-মাংস রান্না হয় হাসপাতালে রোগীর জন্য সে রকম হয় না। কাজেই  হাসপাতালের খাবারের স্বাদে কিছতা কমতি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে এ খাবারকে নিম্ন মানের বলা যাবে না।
২০১৯ সালের ২৫ জুলাই তিনি পরিচালক পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ হাসপাতালকে রোগীদের আস্থা, বিশ^াস ও অন্যতম ভরসার স্থলে পরিণত করতে নিত্য নতুন পরিকল্পনা, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং অধিক রোগীর সেবা দিতে পরিচালনা করছেন নতুন ভবন নির্মাণ কাজ। এ হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসা সেবায় নিবেদিত রয়েছেন একঝাঁক মেধাবী, দক্ষ, মানবিক, চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিয়োজিত টেকনেশিয়ান, প্যাথলজিস্ট। রাত দিন পালাক্রমে তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ পর্যায়ে পরিচালক ডা. মীর জামাল উদ্দীনের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। তার সহজ সরল, আন্তরিক, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সেবা সুলভ মানসিকতা, শত কাজের ব্যাস্ততার মধ্যেও রোগীর সেবা পরম ধর্ম, পবিত্রতম দায়িত্ব হিসেবে প্রতিটি কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সূচারুরুপে সম্পন্ন করার গৌরবও তার। ঠিক একই মানসিকতা, মানবিকতা ও সেবার ব্রত পালনে তিনি উজ্জীবিত করেছেন তার টিমের অন্য চিকিৎসক, নার্সসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা- কর্মচারির মধ্যে।
হাসপাতালের ৭ নং ওয়ার্ডের ৩১ নম্বর বেড়ে ১৮ দিবস রজনী চিকিৎসা গ্রহনকালে মনে হয়েছে পারিবারিক পরিবেশে বন্ধু-স্বজন বেষ্টিত হয়ে ছিলাম। রোগীর এ্যাটেনডেন্টস হিসেবে রোগীর সাথে তাদের নিকটজন থেকেছেন, অথবা প্রায়শই দেখা করতে এসেছেন। আমার স্ত্রী, ছেলে মেয়েসহ বন্ধু, সতীর্থ, আত্নীয়স্বজনের অনেকেই এসেছেন, কেউ কেউ থেকেছেন। এসময় এক রোগীর সাথে অন্য রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আলাপচারিতা, নিজেদের সুখ-দু:খ শেয়ার করা, রোগীর জন্য বাসা থেকে আনা ভাল খাবার, ফল, ফলাদি অন্য রোগীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়ার এক মহতী উদ্যোগে নিজেকে ধন্য মনে হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে কোন রোগী বা তার স্বজন কিছু কিনতে গেলে বেডের অন্য রোগীদের কিছু আনতে হবে কিনা জিজ্ঞেস করে তার ব্যবস্থা করা সত্যিই পারিবারিক পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। এ পর্যায়ে  ৩৪ নম্বর বেডের শ্রী স্বপন চন্দ্র দেবনাথ, ৩৬ নম্বরের মো: রিপন, ৩২  নম্বরের চিরকুমার মামুন কবীর হীরা, ৩৩ নম্বরের গিয়াস উদ্দিন (নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বন্ধুবর জাহাঙ্গীর আলমের ভগ্নিপতি। হাসপাতাল থেকে রিলিজের কয়েকদিন পর নিজ বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন)। এদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে বিদায় বেলায় একে অন্যকে বুকে জড়িয়ে ধরে বিদায়ের আবেগঘন দৃশ্য আপনজনকে বিদায় জাননোর কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে হয় যেন যেন এরা একে অন্যের কত আপনজন, কত কাছের মানুষ। হাসপাতালে একই সঙ্গে স্বজন পরিবেষ্টিত পরিবেশ সৃষ্টির অনন্য নজির এটি। এরকম স্বজন, অত্যন্ত আপনজনের ভূমিকায় এখানে ভর্তি, চিকিৎসা, বেড পাওয়া, ক্যাথল্যাবে নেয়া, সেখানে এনজিওগ্রাম ও হার্টের রিং পরানো শেষে সিসিইউতে স্থানান্তর পরবর্তীতে এখান থেকে রিলিজ হওয়া পর্যন্ত অত্র হাসাপাতালে কর্মরত সিনিয়র টেকনোলজিস্ট সর্বদা পরোপকারি সেলিম মোল্লার নিরন্তর শ্রম ও আন্তরিক উদ্যোগ আমাকে বিমোহিত করেছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে বর্তমান পরিচালকের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসম্মত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরো বেশি দৃষ্টি দেবেন। তাহলেই জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হবে। একই সঙ্গে দেশের হৃদরোগীদের আস্থা এবং ভরসার জায়গায় পরিণত হবে এই হাসপাতাল।
লেখক: সাংবাদিক, সাধারণ সম্পাদক-বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জা জার্নালিস্ট ফোরাম

আজকালেরখবর/টিআর



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com