ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ১৭ মে ২০২১ ● ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ১৭ মে ২০২১
শিরোনাম: প্রাথমিক স্কুলের ছুটি বাড়ল ২৯ মে পর্যন্ত       পদত্যাগ করলেন ডায়ানার সাক্ষাৎকার নেওয়া বিবিসির সেই সাংবাদিক       শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’       মহাকাশে সিনেমার শুটিং: প্রতিযোগিতা আমেরিকা-রাশিয়ার       গাজায় আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল       শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ মে খুলছে না       তিন দিনের রিমান্ডে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী      
প্রিন্ট সংস্করণ
বিধি-নিষেধেও প্রশিক্ষণ আয়োজন শিক্ষার
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Monday, 3 May, 2021 at 1:54 AM


করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস বন্ধ রয়েছে। কিন্তু জরুরি কোন কাজ না থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে আজ সোমবার ৫ মে থেকে আগামী ২২ মে সকাল ইন-হাউজ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। গতকাল রবিবার প্রশিক্ষণের অফিস আদেশ জারির পর এ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, অফিস খোলার পরে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হোক।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিভাগের ইন হাউজ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ব্যাচের প্রথম পর্বে ১৭ জন, দ্বিতীয় পর্বে ১৭ জন ও তৃতীয় পর্বে ১৬ জনসহ মোট ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ৩ মে থেকে আগামী ২২ মে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সচিবালয়ের পরিবহন পুলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণ দিবেন এ বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপ সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।
যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেগুলো হলো-সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, নোট লিখুন ও নথি উপস্থাপন কৌশল, নথির শ্রেণি বিন্যাস ও প্রয়োজনীয় নথি বিনষ্টকরন, চিঠি লেখা, চিঠি গ্রহণ এবং পরবর্তীতে এসব চিঠি বিতরনের পদ্ধতি, ভ্রমণ ভাতা ও বিভিন্ন প্রকার ভাতা ও চিকিৎসা সুবিধা ভাতা, জাতীয় ওয়েব পোর্টাল ও ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনা, বিভাগীয় মামলা ব্যবস্থাপনা ও গোপনীয় অনুবেদন লিখুন ও দাখিল।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে চলাচলে সরকারি বিধি নিষেধ চলছে। যা অগাামী ৫ মে পর্যন্ত চলবে। এ বিধি নিষেধের মধ্যে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বা আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। জরুরি কাজের জন্য কাউকে অফিস করতে হলে অফিসের নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এরমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ইন-হাউজ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। যা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্বয়ং প্রশিক্ষানার্থীরা।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কেউই অফিস করছেন না। কিন্তু  লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সবাইকে নিয়মিত অফিস করতে বাধ্য করছেন সচিব। কোন কাজ নেই তারপরও তাদেরকে অফিসে ডেকে এনে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। এরমধ্যে এ বিভাগের অভ্যন্তরীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছেন। তারা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। সুরক্ষার জন্যই সরকার বিধি নিষেধ জারি করেছে। এরমধ্যে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে কেউ আক্রান্ত হয়ে মারা গেল এর দায় দায়িত্ব কে নিবে? তারা আরো বলেন, অনেকে ঢাকার পাশ্ববর্তি জেলা থেকে অফিস করনে নিয়মিত। তারা সচিবাললের গাড়িতে নিয়মিত যাতায়েত করেন। লক ডাউনের মধ্যে তাদেরকে জোর করে অফিসে আনা হচ্ছে। এখন আবার প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। তাদের দাবি অফিস খোলার পরে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা  হোক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বলেন, যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেগুলো এক মাস পরে দিলেও সমস্যা হবে না। কিন্তু সচিব নিজের গায়ের জোরে লকডাউনের মধ্যেও আমাদরে এ প্রশিক্ষণে বাধ্য করছেন। যেখানে সরকারি সব অফিসে সাধারণ কাজ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে সেখানে এ ধরনের প্রশিক্ষণ তামাশা ছাড়া আর কিছুই না।  
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উন্নয়ন ) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ প্রশিক্ষণটি লকডাউনের আগেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করা যায়নি। এখন সুযোগ এসেছে তাই করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষণ দেবেন দুই পক্ষকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ প্রশিক্ষণের জন্য যাদের মনোনীত করা হয়েছে তারা খুবই গুরুত্বপুর্ণ শাখায় কাজ করেন। তাই এসব বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ থাকা খুবই জরুরি।
এর আগে ঢাকার পাশ্ববর্তি জেলা থেকে নিয়মিত অফিস করেন তাদেরসহ ১০ জনকে অফিসে না আসায় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।এনএমএস।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com