ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ১৭ মে ২০২১ ● ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ১৭ মে ২০২১
শিরোনাম: প্রাথমিক স্কুলের ছুটি বাড়ল ২৯ মে পর্যন্ত       পদত্যাগ করলেন ডায়ানার সাক্ষাৎকার নেওয়া বিবিসির সেই সাংবাদিক       শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’       মহাকাশে সিনেমার শুটিং: প্রতিযোগিতা আমেরিকা-রাশিয়ার       গাজায় আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল       শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ মে খুলছে না       তিন দিনের রিমান্ডে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী      
প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদ কেনাকাটায় ভিড়: স্বাস্থ্যবিধি উধাও
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
Published : Saturday, 1 May, 2021 at 2:00 AM


আজ রমজানের আঠারোতম দিন। এরই মধ্যে রাজধানীর শপিংমলে ঈদের কেনাকটা জমে উঠেছে।  প্রচণ্ড গরমে দিনের বেলায় ঘর থেকে কম বের হচ্ছেন মানুষ। কেউ কেউ আসলেও কিনছেন কম। বিকালে ক্রেতা-দশনার্থীদের উপস্থিতিতে জমে উঠছে ঈদ বাজার। তবে বেশিরভাগ ক্রেতাই শিশুদের জন্য কেনাকাটা করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার থেকে এবারের ঈদের আনুষ্ঠানিক কেনাকাটা শুরু হলো। সামনের দিনে কেনাকাটা আরো বেশি জমবে বলেও জানান তারা।
এদিকে দোকানপাট-শপিংমলে ভিড় বাড়ায় উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই মার্কেটগুলোতে গত কয়েকদিনের তুলনায় বেশি মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। এছাড়াও বেশিরভাগ মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনাগুলো মানার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ ছিলেন উদাসীন।
বিধি-নিষেধের মধ্যে গত সোমবার দোকানপাট খুলে দেওয়ার পর মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় কম থাকলেও শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তবে সেটা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গণপরিবহন কম থাকায় ক্রেতারা মার্কেটে আসতে পারছেন না। এছাড়াও ঈদে মানুষ গ্রামে ফিরতে পারবে কি-না তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে কেনাকাটা অন্যান্য বারের চেয়ে কম হচ্ছে।
গতকাল রাজধানীর মৌচাক, বেইলি রোড, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সব মার্কেটেই কম-বেশি ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। আর এ ভিড়ে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেকেই। এখনো বেশিরভাগ মার্কেটে নেই জীবাণুনাশক টানেল, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিংবা মাস্ক পরিধানে তদারকির করার কোনো ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউমার্কেটের ভেতরে নিচতলায় ক্রেতাদের চাপ বেশি। ফলে একজন থেকে আরেকজনের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। দোকানগুলোতেও কোনো ধরনের ব্যারিকেড কিংবা পদচিহ্ন দিয়ে দূরত্ব নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়নি।
নিউমার্কেটে প্রবেশের ফটক মোট চারটি। চারটি ফটকেই জীবাণুনাশক স্প্রে করার অবকাঠামো আছে কিন্তু একটিও সচল নয়। নিউমার্কেটে অনেক দোকানিকেও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে চলতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মোজাফফর হোসেন বলেন, প্রতিটি দোকানকে বলা আছে, মাস্ক ছাড়া কেউ এলে তাদের কাছে পণ্য বিক্রি না করতে। ক্রেতাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দোকানদারদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া আছে।
একই ধরনের বক্তব্য প্রায় বিভিন্ন মার্কেটের মালিক সমিতির। তবে সব মার্কেটেই ঘুরে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দোকানেই কোনো হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নেই। মার্কেটে অধিকাংশ ক্রেতার মুখে মাস্ক  নেই । বিক্রেতাদের অনেকের মাস্ক থুতনিতে নামানো । ক্রেতাদের চেয়ে বিক্রেতাদের মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা কম দেখা গেছে।  
মাস্ক নেই কেন এমন প্রশ্ন করলে অধিকাংশ দোকানিই মাস্ক আনতে ভুলে যাওয়ার কথা বলেন। কেউবা পাশেই রাখা মাস্ক দেখিয়ে বলছেন, সারাদিন পরে ছিলাম। মাত্র খুলে রেখেছি ক্রেতা নেই বলে।
এদিকে মুখের মাস্ক নামিয়েই শাড়ি কেনার জন্য দর-দাম করছিলেন সুমি ইসলাম। জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মাস্ক এভাবে রাখলে ঝুঁকি আছে জানি। কিন্তু মার্কেটের ভেতরে খুব গরম। সব সময় মুখে মাস্ক রাখা যায় না। মাঝে মাঝে একটু নামিয়ে বাতাস নিচ্ছি। একই অবস্থা মৌচাক মার্কেটের। চারটি গেটের মধ্যে সামনের প্রধান গেটে শুধু জীবাণুনাশক টানেল লাগানো রয়েছে। তবে এর থেকে ভালো অবস্থা বেইলি রোডের শপিংমলগুলোর। সেখানে ট্যানেলের পাশাপাশি ক্রেতারা ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে তাপমাত্রা মাপার বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করার ব্যবস্থা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমিতির বক্তব্য হচ্ছে, জীবাণুনাশক নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ আছে। অনেকে ওই জীবাণুনাশক স্প্রের ট্যানেলের মধ্য দিয়ে যেতে চান না। আবার অনেকে প্রবেশের সময় মাস্ক পরে ঢুকে, পরবর্তীতে খুলে ফেলছেন।
ঈদ উপলক্ষ্যে ভালো প্রস্তুতিও নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দোকান সাজিয়েছেন নতুন নতুন পোশাক-পরিচ্ছদে। তবে, তাদের সব হিসাব পাল্টে যাচ্ছে চলমান লকডাউনে। অনেকেই রয়েছেন পুঁজি হারানোর শঙ্কায়। বিক্রেতা বলছেন, গণপরিবহন চলছে না তাই লকডাউনে বেচাবিক্রি নেই। রমজান কেন্দ্রীক টার্গেট থাকলেও শঙ্কা রয়েছে তাদের মনে। ঈদ উপহারে বরাবরই মোবাইলসহ ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের কদর থাকলেও এবার এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা মতো ক্রেতা নেই এসব দোকানেও।
গতকাল রাজধানীর একাধিক শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটা করতে ছুটছেন ক্রেতারা। ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে ফুটপাতেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। মার্কেটে আসা মানুষের মধ্যে আগের থেকে এখন মাস্ক পরার প্রবণতা বেড়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবী হাসিব বলেন, সবাই (ক্রেতা-বিক্রেতা) তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না। দোকানে প্রবেশের আগেই সবাই স্যানিটাইজার ব্যবহার করছি। ঈদ আমাদের বড় একটি উৎসব। ঈদে মানুষের আয়োজন থাকবেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কিছু করতে হবে। এনএমএস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com