ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ২১ এপ্রিল ২০২১ ● ৮ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার   বুধবার ● ২১ এপ্রিল ২০২১
শিরোনাম: আগস্ট- সেপ্টেম্বরের আগে টিকা রপ্তানি করতে পারবে না ভারত: আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের       হেফাজতের আশার গুড়ে বালি: অসুস্থতার ভান       খালেদা জিয়ার শরীরে ব্যথা নেই, ২-৩ দিন পর ফের পরীক্ষা       বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালু        রাশিয়া বাংলাদেশে করোনা টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে: মোমেন       ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প       লকডাউনে যুবকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা সেই এসআই ক্লোজড      
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকায় প্রতারক চক্রের থাবা
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Wednesday, 31 March, 2021 at 2:15 AM, Update: 31.03.2021 2:29:02 AM


ডাক বিভাগের  ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণকৃত প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকায় থাবা বসাচ্ছে প্রতারক চক্র। তারা অভিভাবকদের ফোন করে নগদের পিন নাম্বার, ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) হ্যাক করে টাকা তুলে নিচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) দুই দফা নির্দেশনা জারি করেছে। কিন্তু তাতেও থামছে না জালিয়াতি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান না নিয়ে সরকারের উপবৃত্তি বিতরণের সুফল বঞ্চিত হবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা।
গত মাসে নগদের মাধ্যমে প্রথম কিস্তির টাকা শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইলে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই প্রতারকচক্র দেশের বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবকদের মোবাইল নাম্বর সংগ্রহ করে ফোন দেওয়া শুরু করে। কখনো নগদের এজেন্ট, কখনো শিক্ষা কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষক পরিচয় দিয়ে পিন নম্বর, ওটিপি বা উপবৃত্তির টাকা কম গেছে বলে তাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য চায়। আরো টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বলে ওটিপি চান। অনেক অভিভাবক না বুঝতে সব তথ্য প্রতারকদের দিয়ে দেয়। এরপর অভিভাবকদের মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে চক্রটি।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ পৌরসভার কলাতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেনের মা সুফিয়া খাতুন জানান, উপবৃত্তির টাকা আসার কিছুক্ষণ পরই নগদ’র কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একজন লোক ফোন করেন। তিনি কত টাকা পেয়েছেন তা জানতে চান। টাকার পরিমান বলতে না পারলে পিন নম্বর জানতে চায়। পিন নাম্বার বলার পর তার হিসাব থেকে তিন মাসের উপবৃত্তির পুরো টাকা চক্রটি তুলে নিয়েছে।
প্রতারণার শিকার অভিভাবকরা জানান, নগদের হিসাবে টাকা আসার কিছুক্ষণ পরই শিক্ষকের পরিচয় দিয়ে ফোন করে মেসেজে আসা নম্বরটা দিতে বলে। সরল বিশ্বাসে অভিভাবকরা তা দিয়ে দেন। পরে মোবাইল নিয়ে দোকানে টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন হিসাবে কোন টাকা নেই। প্রতারকরা প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও নগদের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে নম্বর জেনে নিচ্ছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নগদ সার্ভারে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের মায়ের মোবাইল নম্বর এন্ট্রি করা হয়। সেই নাম্বারে গত বছরের এপ্রিল, মে ও জুন এ তিন মাসের কিস্তির টাকা পাঠানোর হয়। এরপর প্রত্যেক অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে নগদ অ্যাকাউন্ট চালু করতে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সেট করার পর অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়। পরবর্তীতে অভিভাবকরা পিন নাম্বার দিয়ে উপবৃত্তির টাকা ক্যাশআউট করতে পারছেন। কিন্তু এ টাকা ক্যাশআউট করতে গিয়ে অভিভাবকরা মোবাইল দোকানের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এ সুযোগে কেউ কেউ টাকা আসেনি বলেও টাকা তুলে নেয়। অভিভাবকরা পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারে তার টাকা উঠানো হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কোন অভিভাবকের পিন নাম্বার প্রতারক চক্র একবার জেনে গেলে পরবর্তীতে যত টাকাই তার হিসাবে জমা হোক তারা তুলে নিতে পারবে। সম্প্রতি বগুড়া, পাবনা, নাটোরে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা বেশি ঘটেছে। এ চক্রটি সনাক্ত করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও প্রকল্প কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, একটি চক্র সংঘবন্ধভাবে এ প্রতারণা করছে।
উপবৃত্তি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পিন এবং ওটিপি হ্যাক হওয়ার পিছনে মূল কারণ; অভিভাবকরা নিজেরা না করে দোকান বা অন্য কারো মাধ্যমে নগদ হিসাব খুলেছে। এছাড়া নগদ শুরুতে অনেক মানুষের হিসাব অটো খুলে দিয়েছে। ফলে এসব অভিভাবকদের পিনও অটো হয়েছে। যে কারণে অভিভাবকরা নম্বর জানতো না। জানলেও হয়তো ভুলে গেছে। পরবর্তীতে উপবৃত্তির টাকা তোলার সময় পিন নম্বর উদ্ধার করতে গিয়ে অন্যের সহযোগিতা নিয়েছে। তারাই মূলত এ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী আজকালের খবরকে বলেন, প্রতারণার বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানিয়েছি। এছাড়া সকলকে সর্তক থাকতে কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতারক চক্র উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবর জানার পরপরই আমরা নগদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। জেলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সবাই পিন ও ওটিপির ব্যাপারে সর্তক থাকতে বলেছি।
প্রকল্প থেকে এ পর্যন্ত দুই দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যেখানেই প্রতারণার খবর পাওয়া যাবে সেখানে সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে। সারাদেশের শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, জিটুপি পদ্ধতিতে ২০২০ সালের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের মাসের উপবৃত্তি টাকা পাঠানোর পর কিছু প্রতারক চক্র নগদের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে সুবিধাভোগী অভিভাবককের কাছ থেকে মোবাইলে পাঠানো ম্যাসেজের ওটিপি ও পিন নম্বর নিয়ে সব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কোথাও কোথাও হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও অভিভাবকদের সচেতনতার কারণে পারেনি। আরো বলা হয়েছে, অভিভাবকদের টাকা তোলার জন্য এজেন্টদের পিন নম্বর দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে এজেন্টরাও টাকা তছরূপের সুযোগ থাকে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের যেন কোন অবস্থায় পিন ও ওটিপি নগদের প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়ার ব্যক্তির কাছে না দেয় সেজন্য সব স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবকদের অনুরোধ করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অনেক অভিভাবক ডিজিটাল লেনদেনের কিছুই জানেন না। তারা শুধু মোবাইল ডায়াল ও রিসিভ ছাড়া কিছুই করতে পারেন না। পিন নম্বর ও ওটিপি কিভাবে বের করতে হয় এবং সেট করতে হয় তার কোন ধারণা নাই তাদের নেই। বাধ্য হয়ে তারা এজেন্ট কিংবা অন্য কারো সাহায্য নেন। এ সুযোগে এজেন্ট ও প্রতারক চক্র তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতনামূলক প্রচারণার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এছাড়াও অনলাইন, এলাকাভিত্তিক মাইকিং, সচেতনামূলক সভা ও লিফলেট বিতরণ করে অভিভাবকদের সচেতন করার মত দিয়েছেন শিক্ষকরা। এনএমএস।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com