ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২১ ● ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২১
শিরোনাম: ৪৮ ঘণ্টা জ্বর না আসলে খালেদা জিয়া শঙ্কামুক্ত: চিকিৎসক       লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন নুর       মামুনুলের বিরুদ্ধে ঢাকায় ১৭ মামলা       ঢাকা ছেড়েছে অভিবাসী শ্রমিক বহনকারী চার বিশেষ ফ্লাইট       দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর       হেফাজত নেতা মামুনুল হক গ্রেপ্তার       সূর্যের আলোয় বেশি থাকলে করোনায় মৃত্যুঝুঁকি কম       
প্রিন্ট সংস্করণ
নারীর স্বাবলম্বিতা বাড়ছে কমছে না শ্রম বৈষম্য
জাকির হুসাইন
Published : Monday, 8 March, 2021 at 1:20 AM


বর্তমানে বাংলাদেশে আগের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিসহ সব দিক দিয়ে স্বাবলম্বীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে নারী। গ্রামাঞ্চলের মানুষ যেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল, সেখানেও এখন এসেছে আমূল পরিবর্তন। যার মূলে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে নারীরা। বর্তমানের দেশের নারী ক্ষমতায়নে ঘটেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ে অধিষ্ঠিত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় বড় পদ, স্কুল, কলেজ, মেডিক্যাল ও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান পদ, বিচার বিভাগেরও প্রধান প্রধান পদে পুরুষের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন দেশের নারীরা। এমনকি দেশ পরিচালনায় আগের চেয়ে বর্তমানে আরো বেশি ক্ষমতায়ন হয়েছে নারীদের। এতো যখন আশার আলো, ঠিক তখনো দেশের অধিকাংশ নারী শ্রমিকরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে নিয়মিত। গার্মেন্ট থেকে শুরু করে অনেক কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখনো পুরুষের অর্ধেক মজুরি পাচ্ছেন। অথচ এই নারীরাই মহামারিকালে বাংলাদেশের ডাক্তার, নার্স, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব পর্যায়ের নারীরা গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ নারীরাই করোনাকে জয় করে নতুন সমতার বিশ্ব গড়ে তুলছে। ঠিক এমন অবস্থায় বিশে^র মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতাকে সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। আজ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার কাছ থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করবেন জয়িতারা।
এদিকে নারী দিবসের আগ মুহূর্তে কমনওয়েলভুক্ত দেশের সরকার প্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী তিন নারী নেতার একজন নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কমনওয়েলথ মহাসচিব পেট্রেসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ সামনে রেখে করোনাকালে অসাধারণ নারী নেতৃত্ব ও গভীর অনুপ্রেরণাদায়ী হিসেবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন, বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ঘোষণা করেন। কমনওয়েলথের মহাসচিব বলেন, ‘অনেক নারীর পাশাপাশি এই তিন নেতা আমাকে এমন একটি বিশ্বের আশা দিয়েছেন যা নারী-পুরুষদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করবে এবং আমাদের সার্বজনীন মঙ্গলের জন্য কাজ করবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম! স্বাধীনতার মাস ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সম্প্রতি প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করতে চলেছেন ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামী নারী তাসনুভা আনান শিশির। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি নিয়েছে দেশের অন্যতম সংবাদ মাধ্যম বৈশাখী টিভি। আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনের পর্দায় তার প্রথম সংবাদ বুলেটিন উপস্থাপন করবেন শিশির; যা দেশের ইতিহাসে এক  নজিরবিহীন দৃষ্টান্তই বটে! শিশিরের সঙ্গেই সেদিন প্রথমবারের মতো টিভির পর্দায় দেখা যেতে চলেছে আরেক রূপান্তরকামী নারীকে। তিনি নুসরাত মৌ। বৈশাখী টিভির ধারাবাহিক নাটক ‘চাপাবাজ’-এর একটি পর্বে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাকে; যা আজ রাত ৯টা ২০ মিনিটে সম্প্রচারিত হতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ক্রমাগত বাড়ছে এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে কাজের সুবাদে আজ নারীরা অনেকদূর এগিয়ে গেছেন। এ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার কারণে নারীর ক্ষমতায়নও হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নারী বিশেষ করে নারী শ্রমিকের জীবন আজও সমস্যায় জর্জরিত। অনেক নারী কাজ করছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানায়। কিশোরী ও মধ্যবয়সী নারীরা মফস্বল এবং প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসে যোগ দিচ্ছেন তৈরি পোশাক কারখানায়। ‘চাকরি খালি নাই’ সাইনবোর্ড ঝোলানো থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই পোশাক কারখানাগুলোর সামনে ভিড় দেখা যায় চাকরিপ্রত্যাশীর। কেউ যেন আর ঘরে বসে থাকতে চাইছেন না, কারও গলগ্রহ হয়ে থাকতে চাইছেন না। সবাই এখন চেষ্টা করছেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস তৈরি পোশাকশিল্প। প্রতি বছর রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০ ভাগ আসে এ খাত থেকে। দরিদ্র পরিবারের অনেক মেয়েই আগে বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন কিংবা দারিদ্র্য মেনে নিয়ে নির্ভর করতেন স্বামী বা বাবার আয়ের প্রতি। কিন্তু পোশাক কারখানাগুলো নারীকে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এসেছে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন। পোশাকশিল্পে কাজ করে তারা প্রতি মাসে গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারছেন। এ টাকার ওপরে পারিবারিক একটা নির্ভরশীলতাও তৈরি হয়েছে। হয়তো এ টাকা দিয়েই ছোটখাটো একটা ব্যবসা করেন পরিবারের একজন। ছেলেমেয়ে বা ছোট ভাই- বোনের লেখাপড়ার খরচও হয়তো অনেকে নিজের এই বেতনের টাকা থেকেই দেন। এভাবেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটা ইতিবাচক প্রভাব রাখছেন পোশাক কারখানার কর্মী তথা আমাদের দেশের নারীরা। অর্থনীতিতে নারীর অবদান বেড়েছে এ কথা অনস্বীকার্য। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও বেড়েছে নারীর স্বাধীনতা। বলাই বাহুল্য, সিদ্ধান্ত  গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীর কোনো স্বাধীনতা নেই। তবে যেসব মেয়ে বা নারী পোশাক কারখানায় কাজ করছেন, দেখা যাচ্ছে নিজের জীবনের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই এখন তিনি নিজে নিচ্ছেন বা নিতে পারছেন। তাছাড়া পারিবারিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ভূমিকা রাখছেন তারা। এটা বাস্তব সত্য যে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা অর্জনের ফলেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর এই স্বাধীনতা এসেছে। এ কথা অনস্বীকার্য, সব দিক দিয়েই অনেকদূর এগিয়ে গেছেন আমাদের দেশের নারীরা।
একটা হিসাবে দেখা গেছে, গ্রামীণ কৃষিকাজের প্রায় ৪৬ শতাংশই নারীরা সম্পাদন করে এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ২১টি ধাপ এরমধ্যে ১৭টি ধাপে কাজ করেন নারীরা। এবং ফসল তোলার কাজের সঙ্গে ৬৮ শতাংশ নারী যুক্ত। এ তো গেল কৃষিকাজের হিসাব। এছাড়া এসব নারী বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। যে মেয়ে ছিল বাবা-মার বোঝা, অনেক ক্ষেত্রে সেই মেয়েই আজ পরিবারের আয়ের উৎস।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধায় ই-কমার্সের মাধ্যমে নগরসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারী উদ্যোক্তাদের বিপ্লব ঘটেছে। রান্নাবান্নার কাজের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে অনলাইনে ব্যবসা করে সংসারের আর্থিক সচ্ছলতায় ভূমিকা রাখছেন এসব নারী উদ্যোক্তারা। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাতে নারীদের এ বিপ্লব ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থা এখন অনেকটাই অনলাইন নির্ভর। মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সেই নির্ভরতা পুরোপুরি প্রকাশ্যে এনেছে। এখন ঘরে বসে অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা করা যাবে। এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে বিক্রি না করে অনলাইনে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বা ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারছেন তারা। এতে বেকার ছেলেদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্যের ন্যায্য দামও পাচ্ছেন। নারী উদ্যোক্তারা বলছেন, করোনাকালে অনলাইনে পণ্য বিক্রির যে অভ্যাস ও আস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে অন্যদেরও স্মার্টফোন, ই-কমার্সে আগ্রহ বাড়ছে। গ্রামের কৃষক ও নারীদের মধ্যে দিনদিন ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রায়হানা শামস্ ইসলাম বলেন, বিগত কয়েক দশকে বিজ্ঞানে নারীর প্রশংসনীয় অগ্রগতি হয়েছে। চতুর্থ শতাব্দীর গণিতবিদ হাইপেশিয়া, বিশ শতকের পদার্থবিজ্ঞানী মারি কুরিসহ আরো অগুনতি পথিকৃতের উত্তরসূরি আজকের নারীরা। বিজ্ঞানে নারীর অবস্থান ও অবদান আরো শক্তিশালী হবে, নারীরা তাদের বিজ্ঞান সক্ষমতা আরো কার্যকরভাবে বিশ্বের কাজে লাগাতে সক্ষম হবেন এমন আশা আজ মোটেই কোনো দুরাশা নয়! যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী সে দেশের বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৪৩ শতাংশ পেশাজীবী হলেন নারী। ইউরোপিয়ান কমিশনের তথ্যসূত্রে ইউরোপে ৪২ শতাংশ পিএইচডিধারী হলেন নারী। নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যান।
ইউনেস্কো বলছে, সারা বিশ্বে বিজ্ঞানে গবেষকদের এক-তৃতীয়াংশ নারী। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া এদিক দিয়ে অগ্রণী অবস্থায় আছে। এখানে প্রায় ৫০ শতাংশ নারী গবেষক ফিল্ডে। ইরান ও আরব দেশগুলোও খুব ভালো অবস্থানে আছে। তুলনায় যদি জাপানকে বিবেচনা করি, এ সংখ্যা মাত্র ২৫ শতাংশ। এখানে বলে রাখা ভালো, বিজ্ঞান ক্ষেত্রে নারীদের যে পরিসংখ্যান, তা অনেকটাই লাইফ সায়েন্স বা মেডিসিনের কল্যাণে। এ শাখাগুলোতে নারীদের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। বিপরীতে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং বা কম্পিউটার টেকনোলজিতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো অনেক অপ্রতুল। বেশি গণিত-ঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোতে মেয়েদের সংখ্যা এক-পঞ্চমাংশ মাত্র। একটা পুরুষবাচক মানসিক ইমেজ বিরাজ করে গণিতঘন বিষয়কে ঘিরে। এর প্রতিফলন আমরা সর্বোচ্চ স্তরেও দেখতে পাই। পদার্থবিজ্ঞানে এযাবৎ নোবেল পেয়েছেন মাত্র চারজন নারী। গণিতের সর্বোচ্চ পুরস্কার বলে খ্যাত ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন একজন মাত্র নারী, ইরানের মারিয়াম মির্জাখানি। সেই তুলনায় রসায়নে সাতজন ও মেডিসিনে নোবেল জিতেছেন ১২ জন। কোভিড-১৯ গবেষণায় যারা শীর্ষ ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে নারীরা অন্যতম। ড. কেজমিকিয়া করবেট ও ড. ওজলাম টুরেসি এমন দুটি নাম। সাধারণভাবে যদি বলি, স্কুল পর্যায়ে বাংলাদেশে জেন্ডার প্যারিটি ইনডেক্সের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। গত দুই দশকে মেয়েদের সেকেন্ডারি স্কুল এনরোলমেন্ট আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এখন মেয়েদের সংখ্যাই (৫৪ শতাংশ) ছেলেদের চেয়ে বেশি। এসএসসিতে মেয়েদের পাসের হারও ছেলেদের তুলনায় ভালো।
আমাদের পঞ্চগড় প্রতিনিধি সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম জানান, পঞ্চগড়ে পাথর শিল্পের প্রাণ নারী শ্রমিকরা। নদী ও সমতল ভূমি থেকে পাথর তোলার পর বাছাই করাসহ পার্শ্ববর্তী ভারত ও ভুটান থেকে আনা বিশালাকৃতির পাথর ভাঙ্গার কাজের জন্য নারী শ্রমিকরাই একমাত্র ভরসা। কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কম থাকায় পাথর ব্যবসায়ীরা এসব কাজের জন্য নারী শ্রমিকদেরই বেশি প্রাধান্য দেয়। অথচ উদয়াস্ত পরিশ্রম করে এখনো পুরুষদের সমান মজুরি পাচ্ছেন না পঞ্চগড়ের নারী পাথর শ্রমিকরা। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়েও বেশি কাজও করে থাকেন তারা। কিন্তু তাদের পারিশ্রমিক পুরুষদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। পঞ্চগড়ে একজন পুরুষ শ্রমিক সারা দিন কাজ করে পান ছয়শ’ টাকা থেকে সাতশ’ টাকা সেখানে একজন নারী শ্রমিক পান তিনশ’ টাকা থেকে চারশ’ টাকা। প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের নিয়ে অনেক কথা হয়। কিন্তু এসব নারী শ্রমিকদের কথা কেউ বলেন না। এসব নারী শ্রমিককে পেটের তাগিদে এই দিনেও কাজে নামতে হয়। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলাতেও পাথরের সাইডে কাজ করে কম-বেশি ৫০ হাজার পাথর শ্রমিক।  শুধু তেঁতুলিয়ায় কম-বেশি প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক পাথরের কাজের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর প্রায় অর্ধেকের বেশি নারী শ্রমিক। পুরুষ শ্রমিকরা মূলত পাথর উত্তোলনের কাজ করে থাকে। পাথর বাছাই ও মেশিনে ভাঙানোর কাজ বেশি করে নারী শ্রমিকরা। পুরুষ শ্রমিকরা বিভিন্ন অজুহাতে কাজে ফাঁকি দিলেও নারী শ্রমিকরা শতভাগই তাদের কাজে মনোযোগী থাকে। তবে অধিকাংশ নারী শ্রমিকের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। রোদ-বৃষ্টিতে বসার মতো কোনো জায়গা নেই, নেই টয়লেটের ব্যবস্থাও। অনেক নারী শ্রমিক তাদের শিশু সন্তানকে সাথে করে আনলেও তাদের থাকার মতো কোনো ব্যবস্থাও থাকে না। স্থানীয় নারী নেত্রী আকতারুন নাহার সাকি বলেন, নারী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য কোনোভাবে কাম্য নয়। নারীরা পুরুষদের সমান করা করে অর্ধেক মজুরি পায়। আমরা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি তারা যেন নারী শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী আট ঘণ্টা কাজ করে সঠিক মজুরি দেন। এর চেয়ে বেশি কর্মঘণ্টার জন্য সে হারে মজুরি প্রদান করেন।
এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার আলোকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত নারীর শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই বিশেষজ্ঞরারা নারীকে সাইবার সন্ত্রাস ও উগ্রবাদী আগ্রাসন থেকে রক্ষা এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর নারী বিরোধী প্রচারণা বন্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান। এনএমএস।








সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com