ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২১ ● ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২১
শিরোনাম: ৪৮ ঘণ্টা জ্বর না আসলে খালেদা জিয়া শঙ্কামুক্ত: চিকিৎসক       লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন নুর       মামুনুলের বিরুদ্ধে ঢাকায় ১৭ মামলা       ঢাকা ছেড়েছে অভিবাসী শ্রমিক বহনকারী চার বিশেষ ফ্লাইট       দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর       হেফাজত নেতা মামুনুল হক গ্রেপ্তার       সূর্যের আলোয় বেশি থাকলে করোনায় মৃত্যুঝুঁকি কম       
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্যে অনিয়ম-দুর্নীতি নজরদারীতেই দুদক
সাইফুল ইসলাম
Published : Sunday, 7 March, 2021 at 12:47 AM


অনিয়ম-দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যাবহারে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা স্বাস্থ্যের গুটিকয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে দুদক অনুসন্ধান এবং মামলা দায়ের করলেও রাগব-বোয়ালরা এখনো অধরা। দুদক বলছে, মাঝখানে করোনা মহামারির কারণে একটু স্থবির থাকলেও, সম্প্রতি আবারো কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে এই খাতের সন্দেহজনক ব্যক্তিদের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যাদের নামে মামলা করা হয়েছিল তাদের বেশিরভাগই উচ্চ আদলতের জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিশ্চিন্ত মনে। অন্যরাও এখন অনেকটাই প্তরপ্তরে।
দুদকের ভাষ্যমতে, ২০১৯ সাল থেকে অনুসন্ধান শুরুর পর স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৫ টির মত মামলা হয়েছে। আরো প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি মামলা রুজু হওয়ার প্রক্রিয়াধীন। দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী। শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।
২০১৯ সালে স্বাস্থ্য সেক্টরের দুর্নীতির অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওই বছরের  ৩১ জানুয়ারি দুদক স্বাস্থ্য খাতে যন্ত্রপাতি ক্রয়, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি কিংবা ওষুধ সরবরাহের ১১ পর্যায়ে দুর্নীতি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে ২৫টির মতো সুপারিশ জমা দিয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে দুদকের এই প্রতিবেদন তুলে দিয়েছিলেন দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান)  মোজাম্মেল হক খান। এর পর কিছুদিন দুদকের এই সুপারিশ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অধিদপ্তরে তোড়জোড় চললেও বাস্তবে  সেই তোড়জোড় বেশিদিন থাকেনি। এর পর  সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে কেনাকাটায় দুর্নীতি, অপ্রয়োজনে যন্ত্রপাতি কেনার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাত, নিম্মমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে তা বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত, টেন্ডার নিয়ন্ত্রনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের উপ পরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বাধীন টিম ২০১৭ – ২০১৮ এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের হিসেব অনুযায়ী দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে রীতিমতো থমকে যায়। শুধু দুই  অর্থ বছরেই বিপুল পরিমান অর্থ তছরুপের তথ্য পায় দুদক।
দুদকের তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী আবজাল-রুবিনা দম্পতির কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ থাকার তথ্যও মিলে। এরপর বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেনা কাটায় দুর্নীতির একের পর এক তথ্য পেতে থাকে। অনুন্ধাণ শেষে দুদক স্বাস্থ্যের তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী আবদাল দম্পতির সাড়ে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ থাকার তথ্য পেয়ে মামলা করে। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে কেনাকাটায় দুর্নীতির তথ্য পেয়ে মামলা করে। গত বছর পর্যন্ত দুদক ২৪ টির বেশি মামলা করেছে। এসব মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ অনেককেই আসামি করা হয়। কিন্তু আবদাল দম্পতি ছাড়া কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি দুদক। দুর্নীতির মামলার আসামিরাও বহাল তবিয়তে ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
দুদকের হিসেবে অনুযায়ী  ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে৩৭ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি অপ্রয়োজনী চিকিৎসা সামগ্রী কেনাকানার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্বাস্থ্যের তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী আবজাল তার স্ত্রী রুবিনা খানমসহ ১০ জনের নামে মামলা করে।এরপর  সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার নামে ১৯ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাতক্ষীরা হাসপাতালের সিভিল সার্জনসহ ৯ জনের নামে আরেকটি মামলা করে একই বছরের ৯ জুলাই।  একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার নামে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্য তাওহিদুর রহমানসহ নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। একই বছরের ১০অক্টোবর সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনার নামে  ছয় কোটি ছয় লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।  ২০২৯ সালের  ২৭ জুন  আবজাল দম্পতির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলা করে দুদক। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার নামে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, ঠিকদার আবদুল্লাহ আল মামুন সহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
সাতক্ষীরা ইনস্টিটিউট অব হেলথ  টেকনোলজি( আইএইচটি) যন্ত্রপাতি কেনার নামে ১১ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক। সাতক্ষীরা ম্যাটস এর যন্ত্রপাতি কেনার নামে নয় কোটি ৭৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকার বেশি আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক। কুড়িগ্রাম হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনার নামেও বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক। গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনার নামে ২৫ কোটি ছয় লাখ ৬৩  হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক।  শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনার নামে ৬৫ কোটি ৮২ লাখ ২১ হাজার টাকার বেশি আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক।  ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক।  রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০ কোটি টাকার নিম্মমানের যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগের প্রমাণ পায় দুদক। তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরেক অর্থ বছরে ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি কেনার নামে আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ পায় দুদক।  ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে ২৫ কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক।  নারায়নগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বেশি নিম্মমানের সরঞ্জাম কেনার প্রমাণ পায় দুদক।  ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২১ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার  টাকার বেশি অর্থ নিম্মমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, নোয়াখালি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল  সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মুনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়া,  সিলেট, গাইববান্ধার সিভিল সার্জন অফিসের মালামাল কেনার নামে  বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে দুদক। এছাড়া টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল বগুড়া দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, হাসপাতালের  যন্ত্রাপাতি কেনার নামে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে দুদক।  
দুদকের সুপারিশকৃত প্রতিবেদনে দুর্নীতির ১১ উৎস চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে-সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে কোনো নীতিমালা মানা হয় না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কর্মচারীরা একই কর্মস্থলে দীর্ঘ দিন কর্মরত থাকার কারণে স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে সংঘবদ্ধ চক্রে পরিণত হয়। যারা রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম চালানোর জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ না দিয়েই যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়, ফলে দীর্ঘকাল অব্যবহৃত থেকে তা নষ্ট হয়। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও যন্ত্রপাতি মেরামতের নামে অর্থ আত্মসাৎ হয়।
স্বাস্থ্যের দুর্নীতির অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিস্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারী থেকে অণুসন্ধান শুরু হয়ে এ পর্যন্ত ২৪ থেকে ২৫ টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় আসামিদের অধিকাংশ গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া এসব আসামিদের মধ্যে অনেকেই হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে জেল থেকে বের হয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ২০১৭- ১৮ এবং ২০১৮- ২০১৯  অর্থ বছরে কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ পায় দুদক। তখন দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। সেই অনুসন্ধানে দুদক  স্বাস্ব্য সেক্টরে ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস খুঁজে পায়। এ নিয়ে প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। কমিশন প্রতিবেদনের আলোকে ২৫ দফা সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠায়।  
দুদকের একটি সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মাস্কসহ চিকিৎসা সুরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ, ডা. সাবরিনাসহ অনেকেই গ্রেপ্তার হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওইসব ঘটনায়ও মামলা হয়। এছাড়া বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ গড়া, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ি চালক মালেক। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ড্রাইভার মালেকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। তার আগে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা আবজাল-রুবিনা দম্পতির লাগামহীন দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে দুদকের অনুসন্ধানে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রীর পিএসসহ অনেক প্রভাবশালীর ওপর নজর রাখে দুদক। তাদের অবৈধ সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে ।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের  যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে সম্পদের বিবরণী ইস্যু করা হয়েছে তারা হলেন- অধিদপ্তরের ইপিআই বিভাগের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. মজিবুল হক মুন্সি, তার স্ত্রী মিসেস রিফাত আক্তার, ইপিআই বিভাগের ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া, তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার, গাড়ি চালক মো. আব্দুল মালেক, তার স্ত্রী নার্গিস বেগম, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান, তার স্ত্রী বিলকিচ রহমান, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের স্টাফ নার্স রেহেনা আক্তার, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষক ইমদাদুল হক, তার স্ত্রী উম্মে রুমান ফেন্সী, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুজ্জামান, তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন, তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) কামরুল হাসান, তার স্ত্রী ডা. উম্মে হাবিবা, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের স্টেনোগ্রাফার কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম এছাড়াও সাবেক সহকারী প্রধান (নন মেডিক্যাল) বর্তমানে সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর কার্যালয়, বরিশাল বিভাগ মীর রায়হান আলী, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে রয়েছে দুদক তাদের মধ্যে রয়েছেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রশাসন-২) কবির আহমেদ চৌধুরী ও মো. হুমায়ুন কবীর, পরিচালক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী মো. তৈয়বুর রহমান, উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম, গাড়িচালক মো. শাহজাহান, স্টোর ম্যানেজার ইপিআই হেলাল তরফদার, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী রেজাউল ইসলাম, মহাপরিচালক দপ্তরের সহকারী প্রধান মো. জোবায়ের হোসেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা শাখার অফিস সহকারী খাইরুল আলম, চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী মো. ফয়জুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলীম। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষক মো. মজিবুর রহমান, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মুগদা মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষক আবদুল্লাহ হেল কাফি, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম, সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব সহকারী আব্দুল হালিম ও সুব্রত কুমার দাস, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সচিব মো. আনায়ার হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের স্টোর কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হাসেন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আব্দুল মজিদ, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতারের স্টোর কিপার সাফায়েত হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের স্টেনোগ্রাফার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক আনোয়ার হোসেন।
কমিশন ২০১৭ সালেই স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছিল। ২০১৯ সালের প্রারম্ভে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির (১১টি) উৎস ও তা নিয়ন্ত্রণে ২৫ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সংবলিত কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বাস্তবায়ন করা গেলে হয়তো স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির লাগাম কিছুটা হলেও টেনে ধরা সম্ভব হতো। স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মোজাম্মেল হক খান বলেন,   বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগেও কমিশন থেকে ২৫টির মতো মামলা দায়ের করা হয়। এসব  মামলায় সম্পৃক্ত ১৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট এসব অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি। এছাড়া বর্তমানে সাত থেকে আটটি মামলা পক্রিয়াধীন  এবং আরো ১০ অভিযোগ অনুসন্ধানে আছে। এনএমএস।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com