ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২১ ● ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২১
শিরোনাম: ৪৮ ঘণ্টা জ্বর না আসলে খালেদা জিয়া শঙ্কামুক্ত: চিকিৎসক       লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন নুর       মামুনুলের বিরুদ্ধে ঢাকায় ১৭ মামলা       ঢাকা ছেড়েছে অভিবাসী শ্রমিক বহনকারী চার বিশেষ ফ্লাইট       দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর       হেফাজত নেতা মামুনুল হক গ্রেপ্তার       সূর্যের আলোয় বেশি থাকলে করোনায় মৃত্যুঝুঁকি কম       
প্রিন্ট সংস্করণ
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতীয় দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Sunday, 7 March, 2021 at 12:43 AM


‘‘একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য কী দারুণ অপেক্ষা আর উত্তেজনা নিয়ে/লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে/ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে/‘কখন আসবে কবি’?/ ...শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে/রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে/অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন/.... কে রোধে তাহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?/গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তার অমর কবিতাখানি/এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।/সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।” দেশের স্বনামধন্য কবি নির্মলেন্দু গুণ রক্তক্ষরা একাত্তরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বহুল প্রতীক্ষিত শিহরণ-জাগানো কালজয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাকসংবলিত ঐতিহাসিক বর্জ্রকঠিন ভাষণের মুহূর্তটি এভাবেই তার কবিতায় তুলে ধরেছিলেন।
প্রথমবারের মতো এবার জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হবে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান এবং দেশব্যাপী জেলা-উপজেলায় ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আগামী দিনে বঙ্গবন্ধুর শোষণ-বঞ্ছনাহীন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জাতিকে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ থেকে ৫০ বছর আগের কথা। ’৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ একুশ বছর বঙ্গবন্ধুর যে ঐতিহাসিক ভাষণটি বাজানোর ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল, সময়ের ব্যবধানে স্বাধীনতার ডাকসংবলিত বজ্রকঠিন বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণটিই আজ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণের স্বীকৃতি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য দলিল। এ ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গৌরব-সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কী হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক দিনে:
স্বাধীনতার জন্য সারা দেশ থেকে ছুটে আসা পিপাসার্ত মানুষের ঢলে একাত্তরের এদিন রেসকোর্স ময়দানের চতুর্দিকে রীতিমতো জনবিস্ফোরণ ঘটে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে নারী-পুরুষের স্রোতে সয়লাব হয়ে যায় তখনকার ঘোড়দৌড়ের এই বিশাল ময়দান। বিকেল ৩টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ক্ষমতা হারায় সেদিনের রেসকোর্স ময়দান। রাজধানী ঢাকার চতুর্দিকে ভারি অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা রক্তচক্ষু নিয়ে প্রহরায়। আকাশে উড়ছে হানাদারদের জঙ্গিবিমান। মুক্তিপাগল বাঙালির সেদিকে ন্যূনতম ভ্রুক্ষেপ নেই। সবার শুধু অপেক্ষা তাদের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু কখন আসবেন।
গণমানুষের সেøাগানের মধ্য দিয়ে বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে জনসমুদ্রের মঞ্চে আসেন স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু। আকাশ কাঁপিয়ে স্লোগান ওঠে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। মঞ্চে দাঁড়িয়েই বিশাল জনসমুদ্রে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের বঙ্গবন্ধু সাফ জানিয়ে দেন, স্বাধীনতাকামী জনতাকে আর বুলেট-বেয়নেটে দাবিয়ে রাখা যাবে না। তাই বজ্রনির্ঘোষ কণ্ঠে রেসকোর্সের মাঠে তিনি আবৃত্তি করেন বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহ! এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
মুজিবের স্বাধীনতার ডাকে রক্ত টগবগিয়ে ওঠে মুক্তিপাগল বাঙালির। মুহূর্তেই উদ্বেল হয়ে ওঠে জনতার সমুদ্র। মুহুর্মুহু স্লোগানে কেঁপে ওঠে বাংলার আকাশ। নড়ে ওঠে হাতের ঝাণ্ডায় তাদের গর্বিত লাল-সবুজ পতাকা, পতাকার ভেতরে সোনালি রঙে আঁকা বাংলাদেশের মানচিত্র। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন- ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের কাছে অনুরোধ রইল ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো...’।
সেদিন বেতারে সরাসরি বঙ্গবন্ধু মুজিবের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি প্রচারের কথা থাকলেও তা করতে দেননি পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা। কিন্তু মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে শেখ মুজিবের নির্দেশ, ‘আজ থেকে কোর্ট-কাচারি, আদালত, ফৌজদারি আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষের কষ্ট না করে, সে জন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে, সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিক্সা, গরুরগাড়ি, রেল চলবে। ....সেক্রেটারিয়েট ও সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমি-গভর্নমেন্ট দপ্তর, ওয়াপদা- কোনো কিছুই চলবে না। ...আমরা ভাতে মারব, আমরা পানিতে মারব...আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’
বেতারে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ সম্প্রচার না করার প্রতিবাদে বেতারের বাঙালি কর্মচারী তাৎক্ষণিক ধর্মঘট শুরু করে। ফলে বিকেল থেকে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তবে গভীর রাতে তৎকালীন সামরিক কর্তৃপক্ষ ঢাকা বেতারে বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্সের ভাষণের পূর্ণ বিবরণ প্রচারের অনুমতি দেয়। পরদিন সকালে বঙ্গবন্ধুর সেই কালজয়ী ভাষণ দিয়েই ঢাকা বেতার কেন্দ্র পুনরায় চালু হয়।
স্বাধীনতার জন্য সারা দেশ থেকে ছুটে আসা পিপাসার্ত মানুষের তৃষ্ণা মিটল বঙ্গবন্ধুর মাত্র ১৯ মিনিটের অমর কবিতায়, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণে। এই একটি ভাষণেই নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেন বঙ্গবন্ধু। বিশ্বের ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রনায়ক বা নেতার স্বাধীনতার ঘোষণাপূর্ব এই ধরনের ভাষণ দেওয়ার নজির নেই। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার দিন থেকেই মূলত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার অঙ্কুরোদগম ঘটতে থাকে এ বাংলায়। বাঙালির নিজের দেশের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে এগোতে থাকে। কেননা একাত্তরের ৭ মার্চ জাতির পিতার কণ্ঠে ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা শোষিত-নির্যাতিত বাঙালি জাতিকে মুক্তির জন্য অস্থির-পাগল করে তুলেছিল। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের নিগড় থেকে মুক্তির তীব্র আকাক্সক্ষার উন্মাতাল সেই তরঙ্গ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শ্যামল বাংলার আনাচে-কানাচে।
বঙ্গবন্ধুর অমোঘ মন্ত্রে দীক্ষিত-প্রাণিত হয়ে কঠিন সংগ্রামে জীবনবাজি রেখে দেশ থেকে হানাদারমুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। শুধুমাত্র অদম্য মনোবলকে সম্বল করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নিরস্ত্র বাঙালি মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তানের আধুনিক সমরসজ্জিত, প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। মৃত্যুপণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুঃসাহসে দীপ্ত মুক্তিকামী বাঙালি একাত্তরের মাত্র নয় মাসে প্রবল পরাক্রমশালী পাক হানাদারদের পরাস্ত-পর্যুদস্ত করে ছিনিয়ে এনেছিল মহামূল্যবান স্বাধীনতা। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, দুঃসাহসিকতা আর আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি অর্জন করল নিজস্ব মানচিত্র, লাল-সবুজের পতাকা।
এ কারণেই ৭ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় গৌরবের দিন। আজো গৌরবদ্দীপ্ত হয়ে দিনটিকে বাঙালি জাতি গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কৃতজ্ঞ বাঙালি স্মরণ করে স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেছেন, ৭ মার্চ বাঙালি-জাতির মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, এর মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক। তিনি আরো বলেন, সরকার এ দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১-এর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের এ দীর্ঘ পথে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক দিকনির্দেশনা জাতিকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় নিজ-নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।   রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় নিজ-নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। ঐতিহাসিক ৭ মার্চে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

কর্মসূচি:
প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হবে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান এবং দেশব্যাপী জেলা-উপজেলায় ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয়ভাবে ও বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আজ রবিবার দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করবে। দলটির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকালে সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, নয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন। পরের দিন আট মার্চ সোমবার বিকাল তিনটায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা। সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলাসমূহের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচার করা হবে। এদিকে দেশের ৬৬০ থানায় একযোগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন করবে বাংলাদেশ পুলিশ। সেখানে স্মরণ করা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আজ রবিবার দেশের সব থানায় বিকাল ৩টায় একযোগে আনন্দ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও প্রীতিভোজের আয়োজন ও মিষ্টি বিতরণ করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই অনুষ্ঠানে যোগ দেবে। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্য ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রশাসনসহ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর হাতিরঝিল, আহসান মঞ্জিলসহ দুই সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে আতশবাজির আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। গতকাল শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতীয়ভাবে উদযাপন উপলক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রতিবারের মতো এবারও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সজ্জিত করছে। ঢাকা শহরের সকল প্রবেশ পথে (কমলাপুর রেলওয়েস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল) সজ্জিত করা হবে এবং তোরণ নির্মাণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ লেখা থাকবে।’
তিনি আরো বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়রের মাধ্যমে ঢাকা শহরের সকল এন্ট্রি পয়েন্টে সজ্জা ও  তোরণ নির্মাণ করা হবে। হাতিরঝিল, আহসান মঞ্জিলসহ প্রতিটি ওয়ার্ডে আতশবাজির আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে দুই মেয়রকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আতশবাজির আয়োজন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা ও উপজেলায় আলোকসজ্জাকরণ এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চ লেখা সম্বলিত তোরণ নির্মাণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত, অর্কেস্ট্রা, ডকুড্রামা, নৃত্যনাট্য ইত্যাদি থাকবে। এ দিবস উপলক্ষে ডকুমেন্টারি তৈরি করে প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শূন্য ঝুঁকি নিশ্চিত করে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করে দিবসটি উদযাপনের ব্যবস্থা নেবে এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করা হয় সেসব স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বিষয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে সব  মোবাইল অপারেটরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।এনএমএস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com