ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ২০ এপ্রিল ২০২১ ● ৭ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার  মঙ্গলবার ● ২০ এপ্রিল ২০২১
শিরোনাম: চট্টগ্রাম নগরীর চার এলাকাকে উচ্চ সংক্রমিত জোন ঘোষণা        গুমের ৯ বছর: ইলিয়াস আলীর অপেক্ষায় সিলেটবাসী       নির্বিচারে আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে: ফখরুল       করোনায় সব রেকর্ড ভেঙ্গে ১১২ জনের মৃত্যু       ৪৮ ঘণ্টা জ্বর না আসলে খালেদা জিয়া শঙ্কামুক্ত: চিকিৎসক       লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন নুর       মামুনুলের বিরুদ্ধে ঢাকায় ১৭ মামলা      
ভাষা, স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের রাজকথা
মোমিন মেহেদী
Published : Monday, 22 February, 2021 at 4:58 PM

ইতিহাস বলে- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম কবিতা রচনা করেন মাহবুবুল আলম চৌধুরী। তার রচিত ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতায় তৎকালীন ভাষা আন্দোলনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলার মানুষের বিদ্রোহ, ক্ষোভ, গ্লানি, হাহাকার, যন্ত্রণা, প্রতিবাদ, দাবি আদায়ের উচ্চারণ।

‘এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে/ রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়/ যেখানে আগুনের ফুলকির মতো/ এখানে যেখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ/ যেখানে আমরা কাঁদতে আসিনি।’

এমন অনবদ্য কবিতা ভাষা আন্দোলকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। সে বাংলা ভাষা আজ বৃহ্নলা ভাষায় রূপ নিচ্ছে। প্রতিনিয়ত এই ভাষার কাঁধে চেপে বসা বাংলিশসহ বিভিন্ন বিকৃত ভাষার আঘাতে জর্জরিত হচ্ছে প্রিয় বাংলাদেশ। অথচ এই ভাষাকে বুকে আগলে রেখে দেশবরেণ্য কবি শামসুর রাহমান, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, আবদুল গনি হাজারী, ফজলে লোহানী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আনিস চৌধুরী, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, জামালুদ্দিন, আতাউর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক এবং হাসান হাফিজুর রহমান নির্মাণ করেছেন বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাকবিতা। তা আমাদের জাতিকে নাড়া না দিলেও নাড়া দিচ্ছে বিজাতিয় সংস্কৃতি আর ভাষা আগ্রাসন। সেই আগ্রাসনের কবলে পরে বাংলা ভাষা, আমার মায়ের ভাষা, আমাদের মাতৃভাষা আজ অপমানিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।  

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির স্মৃতি এবং ২২ ফেব্রুয়ারি শফিউরের হত্যাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য শফিউরের পিতা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে; কিন্তু অত্যাচারী পাকিস্তানবাহিনী তা ধ্বংস করে দেয়। কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ এই ঘটনার প্রতিবাদে রচনা করেন ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ নামক কবিতা। এই কবিতায় কবি এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে অধিকার আদায় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। যেভাবে আজ আমাদের মিনার ভেঙেছে ঠিক একইভাবে আমরা ৪ কোটি পরিবার সংঘবদ্ধ হয়ে পরাশক্তির দেওয়ালকে চূর্ণ করব-

‘ইটের মিনার ভেঙেছে ভাঙুক/একটি মিনার গড়েছি আমরা/চার কোটি পরিবার।’

সেই চার কোটি পরিবার থেকে বেড়ে এখন ৩ গুণ যেমন হয়েছে, তেমনি বেড়েছে পরিধি। আর সেই পরিধিতে যেভাবেই হোক আলোর কথা ছড়িয়ে দিতে আমাদেরকে প্রেরণা হিসেবে বায়ান্নকে নিয়ে অপরাধ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে বিনয় আর ভালোবাসা-সাহসে। মনে রাখতে হবে- একুশের চেতনার জন্ম হয়েছিল এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে। জাতিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সুদীর্ঘ পথপরিক্রমার একপর্যায়ে ১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলার জনগণের অস্তিত্ব ও ভাগ্যকে জুড়ে দেয়া হয়েছিল কৃত্রিম ও সা¤প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে। তদানীন্তন পাকিস্তানে শতকরা ৫৬ জনের মুখের ভাষা বাংলা হলেও শতকরা ৭ জনের মুখের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ১৯৪৮ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা করা হয়। প্রতিবাদে গর্জে ওঠে পূর্ব বাংলা। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ধূমায়িত হতে থাকে পুঞ্জীভূত বিক্ষোভ। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১-র মধ্যে ক্রমে জোরালো হয়ে ওঠে বাংলা ভাষার মর্যাদা আদায়ের দাবি। তা পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল ইস্যু হয়ে ওঠে।

১৯৫২ সালের শুরুতে আন্দোলন প্রবল হয়ে উঠতে থাকে। ওই বছর একুশে ফেব্রæয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ ও সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত হয়। পাকিস্তান সরকার আন্দোলন দমন করার জন্য ১৪৪ ধারা জারির মাধ্যমে জনসমাগম, জনসভা ও মিছিল নিষিদ্ধ করে দেয়। ছাত্ররা সংগঠিতভাবে ১৪৪ ধারা ভাঙলে পুলিশ গুলি চালায়। শহীদ হন সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ নাম না-জানা অনেকে। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে সারা পূর্ব বাংলা। পরদিন সারারাত জেগে শহীদদের স্মরণে গড়া হয় শহীদ মিনার। পুলিশ তা ভেঙে ফেললে আবারও গড়ে ওঠে শহীদ মিনার। এ শহীদ মিনার একুশের শোক, সংগ্রাম ও শপথের প্রতীক। তা অসা¤প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও জাতিচেতনামূলক আন্দোলনের চালিকাকেন্দ্র হয়ে আছে আমাদের জাতীয় জীবনে।

১৯৫২ সালের সেই ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তায় জন্ম নিয়েছিল একুশের চেতনা। এই চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে আত্মত্যাগের বীজমন্ত্র। পরবর্তীকালে প্রতিটি গণআন্দোলনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনের ভেতর দিয়ে সেদিন পূর্ব বাংলার অধিকার-বঞ্চিত মানুষের প্রথম সংগঠিত সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। পরবর্তীকালে প্রতিটি গণআন্দোলনের প্রেরণাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ওই আন্দোলন।

ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সে সময়ে বাঙালির আত্মসচেতনতা ও আত্মপরিচয়ের যে উদ্বোধন ঘটেছিল তা-ই নানা আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে রূপ নিয়েছিল স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে। এরপর একুশের পথ ধরেই আমরা বারবার পেরিয়ে এসেছি সংকটের নানা আবর্ত। আর তাই একুশের চেতনাকে সামনে রেখে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে সবার আগে গড়ে তোলা প্রয়োজন নিজেদের মৌলিক অধিকার। আদৌ কি আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে পারি। প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির কারণে মুখোমুখি হতে হয় সীমাহীন নির্মমতার, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত ছুটতে হয় আমাদের রুটি-রুজির নিশ্চয়তা তৈরি করতে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির কারণে মাথা গোঁজার ঠাঁইহীন প্রায় অর্ধকোটি মানুষ যেমন খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করে, তেমনি ঠাঁইহীন-ভিটেমাটিহীন হয় প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির কারণে ঝরে যায় অসংখ্য শিক্ষার্থী বাড়ে বেকারত্ব প্রতিদিন প্রতিক্ষণ আর শিল্প-বস্ত্র-বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তো দুর্নীতির রাম রাজত্ব হয়ে আছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর শাহাদাত-এর পর থেকে আজ অবধি ধারাবাহিকভাবে। তাহলে বায়ান্ন, তাহলে ভাষা আন্দোলন-এর ফলাফল কি জিরো? অনেক অর্থে তা জিরো থাকলেও তাকে ফিরিয়ে আনতে একুশের চেতনার তাৎপর্য বহুমুখী। প্রথমত, বাঙালির জাতীয় চেতনাকে একুশ দিয়েছে স্ফটিকস্বচ্ছতা। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির ওপর যে জাতিগত শোষণ ও নিপীড়ন চালিয়েছিল তার বিরুদ্ধে জাতীয় চেতনায় সংগঠিত হতে একুশ আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের সচেতন, সক্রিয় ও প্রাণিত করেছে অসা¤প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক চেতনায়। একুশের চেতনা ক্রমেই পরিণতি লাভ করেছিল স্বাধীনতার চেতনায়।

দ্বিতীয়ত, বাঙালির জাতিসত্তার স্বরূপ আবিষ্কারে একুশের অবদান অসামান্য। ভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে সংকীর্ণ ধর্মাচ্ছন্নতাকে ছাপিয়ে উঠেছিল জাতিগত চেতনা। সেই চেতনা আমাদের এই মর্মে সচেতন করেছে যে, আমরা বাঙালি। আমরা জেনেছি, বাংলা ভাষা আমাদের অস্তিত্বের অঙ্গীকার, বাংলাদেশ আমাদের দেশ। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই আমরা ছেষট্টি, ঊনসত্তর ও একাত্তরে আমাদের আত্মপরিচয়, আমাদের ঠিকানা ও দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই করেছি। একুশের পথ ধরেই এসেছে স্বাধীনতা।

তৃতীয়ত, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির চেতনার বিকাশে একুশে ফেব্রুয়ারি যেন হাজার তারের বীণা। তাতে কত না সুর, কত না ঝংকার। একুশের এই বীণায় ঝংকৃত হয়েছে আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। একুশের ফসল আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর অনন্য গান : ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’। এ গান আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশে উজ্জীবনী মন্ত্রের প্রেরণা। একুশের সাংস্কৃতিক চেতনার ধারায় আমরা ক্রমে অর্জন করেছি দেশাত্মবোধক গানের সমৃদ্ধ সম্পদ।

গুণিজনদের গুণিকথায় এমন অসংখ্য যৌক্তিক উদাহরণ থাকলেও আমরা দেখেছি ছাত্র-যুব-জনতাকে কারা যেন নিজেদের স্বার্থরক্ষার নীল ষড়যন্ত্রময় করে আলোকে অন্ধকারে ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করেছে বারবার। আমাদের দরকার উত্তরণ, দরকার প্রকৃত অর্থেই আলোর কারিগর ভালোর কারিগরদের উত্তরণ চেষ্টা।  

একুশের চেতনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় যেমন ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তেমন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পেলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানাভাবে বাংলা ভাষাকে নস্যাৎ করার যখনই গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে তা প্রতিহত করেছে চেতনাময় আলোর মানুষেরা। একুশের চেতনার একটি বিশেষ বিষয় হলো- জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার বিস্তার। এর অর্থ শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষ বাংলা ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করবে; প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষায় বাংলা ব্যবহৃত হবে। উচ্চ আদালতেও বাংলা ভাষার প্রচলন হবে। বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। কিন্তু সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের এই আকাক্সক্ষা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে বাঙালির হাতেই বাংলা ভাষা উপেক্ষার শিকার হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ও অফিস-আদালতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনে ইংরেজি ভাষার দখলদারি ক্রমপ্রসারিত হচ্ছে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রমবিস্তার, সাধারণ শিক্ষায় ইংরেজি পাঠ চালু করার ফলে বাংলার গুরুত্ব ক্রমেই কমছে। অন্যদিকে বিশ্বায়নের প্রভাবে আমাদের মানসিকতায় বিদেশিয়ানার প্রভাব বাড়ছে। তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণে বিদেশি ভাষার আশ্রয় নেয়ায়, বিয়ে বা জন্মদিনের আমন্ত্রণপত্রে বিদেশি ভাষার ব্যবহারে, দৈনন্দিন বোলচালে বিদেশি বুলির মিশ্রণে, বিজ্ঞাপন ও বিজ্ঞপ্তিফলকে বিদেশি ভাষাকে প্রাধান্য দেয়ায়।

আমরা অনেকেই ভুলে যেতে বসেছি যে, সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে মাতৃভাষার উন্নতির রয়েছে অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র। আর সম্ভবত সেই কারণেই এ জায়গাটিতে আমাদের পিছুটান ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। আমরা অনেকেই ভুলে যাচ্ছি, বাঙালির পরিচয়ের মূলভিত্তি তার ভাষিক পরিচয়। ভুলে যেতে বসেছি, আর্থ-সামাজিক জীবনে বাংলা ভাষা যথাযথ গুরুত্ব না পেলে তার শক্তি ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাবে। এসব পিছুটান সত্তে¡ও আমাদের ভুললে চলবে না যে, একুশের চেতনাই আমাদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের প্রেরণা। মনে রাখতে হবে, ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতিবিজড়িত মহান একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আর আমাদের ইতিহাসের একটি রক্ত-রঙিন দিন নয়, এ দিন এখন পেয়েছে বিশ্বস্বীকৃতি। পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা। আমাদের জন্য এ এক অসামান্য গৌরব ও অনির্বাণ প্রেরণা।

একুশ আমাদের অহংকার; একুশ আমাদের প্রেরণার অজগ্র উৎস। এই উৎসকে কাজে লাগিয়ে আমাদের অধিকার আদায়ে আরো সোচ্চার হতে হবে। প্রতিহত করতে হবে অপরাধ-দুর্নীতি। সেক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে বায়ান্নর চেতনার বাংলাদেশে স্থির দ্রব্যমূল্য বাজার। নিশ্চিত করতে হবে বরকত-সালাম-জব্বার-এর ত্যাগের বিনিময়ে বাংলা ভাষার দেশে, স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের মৌলিক অধিকার।

মায়ের ভাষাকে রক্ষার পাশাপাশি সবাই মিলে চলুন নীতির সাথে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য নিবেদিত থাকি। তাহলে মৌলিক অধিকার রক্ষা হবে, ভাষাও পাবে শুদ্ধতা-সম্মান-শুভ্রতা।

মোমিন মেহেদী : কলামিস্ট


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com