ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ৩ মার্চ ২০২১ ● ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার   বুধবার ● ৩ মার্চ ২০২১
শিরোনাম: করোনা কেড়ে নিল প্রখ্যাত পপ শিল্পী জানে আলমের প্রাণ        হবিগঞ্জে এবার অস্ত্রের সন্ধানে বিজিবি, অভিযান চলছে       কূটনীতিকদের একহাত নিলেন হাছান মাহমুদ       দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম টিকাদান আজ       জয়শঙ্কর ঢাকা আসছেন বৃহস্পতিবার       সস্ত্রীক টিকা নিলেন ফখরুল       শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী অভিনেত্রী লিলি চৌধুরীর চির বিদায়      
মানুষের কল্যাণে কাজ করছে ‘জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রম’
আল আমিন খান সুমন, বাগেরহাট
Published : Saturday, 20 February, 2021 at 8:40 PM

স্থানীয় সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বাগেরহাটের জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রম। শুধু ধর্মের দোহাই দিয়ে উঁচু-নিচু শ্রেণির ধারণাকে পাল্টে দিতে প্রগতিশীল মানুষদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সাধু সমাজ। শিক্ষাবিস্তার, হতদরিদ্রদের আর্থিক সচ্ছলতা ও আর্থিক অসমতা দূর করে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে নানা উদ্যোগ। মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রণোদনা, অসহায়দের আর্থিক ও খাদ্য সহযোগিতা, স্বজনহারাদের থাকার ব্যবস্থা, কৃষকদের উপকরণ সহায়তাসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলার হালিশহর গ্রামের এই প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ারও প্রায় ২০ বছর আগে মানুষের সেবাদানের জন্য কার্যক্রম শুরু করেন বাখোরগঞ্জ গ্রামের বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী। প্রতিষ্ঠা করেন শ্রী হরি মন্দির। ভক্ত ও অনুরাগীদের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। হাজার হাজার ভক্ত-দর্শনার্থী আসতে থাকেন বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রতিষ্ঠিত হরিসভা মন্দিরে। প্রতিবছরই আয়োজন করা হতো ধর্মীয় মহোৎসব। স্থানীয় লোকজন ধর্মীয় আধ্যাত্মিক গুরু ও মতুয়া হিসেবে জানতেন বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী। স্ত্রী মতুয়া জ্ঞান দা দেবীকে নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের রীতিনীতি মেনে চলতেন। নিজের ভক্ত ও ভৃত্যদের মাঝে জ্ঞান বিতরণ করে যেতেন। তবে এসব কিছুই চলত অনানুষ্ঠানিকভাবে। এরই মধ্যে ২০০১ সালে বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী পরোলোকগমন করেন। পরে ২০১০ সালে মারা যান আধ্যাত্মিক গুরু বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামীর স্ত্রী মতুয়া জ্ঞান দা দেবী। বাবা-মা মারা যাওয়ার পরে মানবসেবা ও ভক্তদের দায়িত্ব পরে জ্ঞান-বিজয় দম্পতির ছেলে আনন্দ মোহন বিশ্বাসের ওপর। তিনিও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী মানুষের সেবা করা শুরু করেন। তবে মানবসেবা করতে গিয়েও নানা অপসংস্কৃতি ও রীতিনীতির ফাঁদে পড়ে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয় আনন্দ মোহন বিশ্বাসকে। সবকিছু উপেক্ষা করে ২০১৭ সালে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার জন্য বাবার নামে গড়ে তোলেন জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রম নামের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। 

সবকিছু উপেক্ষা করে ২০১৭ সালে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার জন্য বাবার নামে গড়ে তোলেন জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রম নামের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের জন্য তৈরি করেন সাধু সমাজ নামে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সনাতন ধর্মাবলম্বী যেকোনো মানুষ চাইলেই এই সাধু সমাজের সদস্য হতে পারেন। সাধু সমাজের সদস্য সংখ্যা এখন দুই হাজারের ওপরে। সাধু সমাজের সদস্যদের মধ্যে হিন্দু ধর্মীয় যে শ্রেণিবৈষম্য রয়েছে তা দূর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সাধু সমাজের সদস্যদের এগিয়ে নিতে কাজ করছেন জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রম।

প্রায় চার বছরের আনুষ্ঠানিক যাত্রায় জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রম প্রতিবছর দুই শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন পরীক্ষার ফরম ফিলআপের টাকা দিয়ে আসছেন। হালিশহর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে প্রতিবছর মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ বিতরণ ও আর্থিক সহযোগিতা করে থাকেন। কারিতাষ নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রমের পরিচালনায় রয়েছে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যেখান থেকে স্থানীয়দের অটো মোবাইল সার্ভিসিং, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ করার সুযোগ রয়েছে। হতদরিদ্র কৃষকদের উপকরণ সহযোগিতাও করা হয় জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রমের পক্ষ থেকে। হতদরিদ্র ও সন্তানহারা মায়েদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার জন্য রয়েছে জ্ঞান মন্দির নামের একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান। যেখানে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন অসহায় মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রমের এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য সোভা রানী মণ্ডল বলেন, জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রম একটি জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান। যেকোনো অসহায় মানুষকে এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উপকার করে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আনন্দ মোহন বিশ্বাস।

স্থানীয় গোপাল রায়, পিনাক মণ্ডল, চিত্তরঞ্জন মজুমদারসহ কয়েকজন বলেন, জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রম শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের মধ্যে আবধ্য নয়। এই প্রতিষ্ঠান এলাকার হতদরিদ্রদের সহযোগিতা ও শ্রেণিবৈষম্য নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল চাই।

স্থানীয় ঠাকুর দাস মণ্ডল বলেন, আমি সাধু সমাজের একজন সদস্য। আমরা সাম্যের সম্মানে বিশ্বাস করি। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রীয়, বৈষ্ণ ও শূদ্র এই চার শ্রেণির বেড়াজালে হায়ার কাস্ট (উচ্চবর্ণ), মিডিল কাস্ট (মধ্যবর্ণ), শিডিউল কাস্ট, লোয়ার কাস্ট (নিম্নবর্ণ) হিসেবে মানুষকে বিবেচনা করা হয়। নানা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হন তারা।

জ্ঞান বিজয় সেবাশ্রমের সভাপতি আনন্দ মোহন বিশ্বাস বলেন, আমরা সবাই একই স্রষ্টার সৃষ্টি। আমরা স্রষ্টার সৃষ্টিকে ভালোবাসি। মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষাবিস্তারে হতদরিদ্র মেধাবীদের আর্থিক সহযোগিতা, কৃষকদের চাষাবাদসহ প্রত্যেকটি কাজে সহযোগিতা করে থাকি। স্বজনহারা অসহায় মায়েদের জন্য রয়েছে আমাদের জ্ঞান মন্দির।

তিনি আরো বলেন, মানুষ হিসেবে সবাই সমান। সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক। প্রত্যেকের সমান সুযোগ পাওয়া উচিত। কিন্তু শুধু ধর্মীয় রীতিনীতির অজুহাত দিয়ে মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। আমরা সাধু সমাজের মাধ্যমে সেই শ্রেণিবৈষম্য দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। কিন্তু ধর্মের নামে কোনো মানুষের অধিকার হরণের রীতি মানি না। মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে সব মানুষকে সাম্যের সম্মান এনে দেওয়ার দাবি আমাদের।

আজকালের খবর/এএইস



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com