ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ২১ জানুয়ারি ২০২১ ● ৮ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার  বৃহস্পতিবার ● ২১ জানুয়ারি ২০২১
শিরোনাম: ভারতের উপহারের করোনা টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে       ঢাকার মোতালিব প্লাজায় অগ্নিকাণ্ড       মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিলেন বাইডেন       এটি আমেরিকানদের দিন: বাইডেন       ইতিহাস গড়ে শপথ নিলেন বাইডেন-কমলা       বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান শুরু       চট্টগ্রামের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দুয়েক দিনের মধ্যে: হানিফ      
প্রিন্ট সংস্করণ
দুর্নীতির থলেতে টান পড়ায় তাপসের প্রতি ক্ষোভ: সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Tuesday, 12 January, 2021 at 1:06 AM, Update: 12.01.2021 1:11:11 AM


ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে (ব্লক-২) দুর্নীতির থলে ধরে টান দেওয়ায় বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ায় সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুইটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে তাপসের পক্ষে। গতকাল সোমবার এই মামলা দায়েরের আগের দিন মেয়র তাপস সাঈদ খোকনের নামোল্লেখ না করে বলেন, তার (সাঈদ খোকন) বক্তব্য মানহানির শামিল। তারও আগে সাঈদ খোকন বর্তমান মেয়র তাপসের নামোল্লেখ করে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগমূলক বক্তব্য রাখেন।
গতকাল সোমবার ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে দায়ের করা মানহানি মামলার একটিতে বাদী কাজী আনিসুর রহমান, অন্য মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. সারোয়ার আলম। এদিকে মামলা হওয়ার পর গতকাল বিকাল ৩টায় সাঈদ খোকন বলেন, তাপসের মানসম্মানের বাজারমূল্য কত? মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণী পেলে জানতে পারব। আইনি মোকাবিলার পাশাপাশি রাজপথে দেনা-পাওনার হিসাব হবে, ইনশাআল্লাহ।
বাদী অ্যাডভোকেট মো. সারোয়ার আলম মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামি সাঈদ খোকন গত শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা মধ্যে জাতীয় ঈদগাহ গেটের সামনে ফুলবাড়িয়া মার্কেটের উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে তার বক্তব্যে বলেন, ‘তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন, আমি তাকে বলব রাঘবোয়ালের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। কেননা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম তার নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। তারপর চুনোপুঁটিদের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। অথচ তিনি উল্টো কাজ করছেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তাপস ডিএসসিসির শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন।’
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘গত রবিবার আসামি সাঈদ খোকনের এই বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যােগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ব্যারিস্টার শেখ ফলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করে আসামি সাঈদ খোকন দণ্ডবিধি আইনের ৫০০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’ অভিযোগে বাদী বলেন, ‘মামলার বাদী গত রবিবার বিকাল ৫টায় শাহবাগ থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করতে চাইলে থানা কর্তৃপক্ষ এজাহার না দিয়ে আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন। এমতাবস্থায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৫০০ ধারায় অপরাধ আমলে গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে জেলহাজতে আটক রাখার জন্য আবেদন করছি।’
এদিকে মামলা হওয়ার পর বিকাল ৩টায় সাঈদ খোকন বলেন, তাপসের মানসম্মানের বাজারমূল্য কত? মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণী পেলে জানতে পারব। আইনি মোকাবিলার পাশাপাশি রাজপথে দেনা-পাওনার হিসাব হবে, ইনশাআল্লাহ।
এর আগে গত শনিবার রাজধানীর কদম ফোয়ারার সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সাঈদ খোকন বলেছিলেন, তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন। এই টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তিনি লাভ করেছেন এবং করছেন। অন্যদিকে অর্থের অভাবে করপোরেশনের গরিব কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মেয়র তাপস সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯, দ্বিতীয় ভাগের দ্বিতীয় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৯ (২) (জ) অনুযায়ী মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলছেন। আমি তাকে বলব, রাঘববোয়ালের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করুন। তারপর চুনোপুঁটির দিকে দৃষ্টি দিন।
সাঈদ খোকন বলেন, ফুলবাড়িয়া মার্কেটে সিটি করপোরেশন যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে, সেটা নিয়ে আমি আগেও বলেছি এটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। কারণ আদালত কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে, ব্যবসায়ীদের বৈধকরণের আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমরা করপোরেশনের বোর্ড সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আলোচিত মার্কেটগুলোর নকশা সংশোধন ও বকেয়া ভাড়া আদায়সাপেক্ষে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ নকশা সংশোধন করে এবং রাজস্ব বিভাগ সাত থেকে আট বছরের বকেয়া ভাড়া আদায় করে ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি দেয়।
সাবেক মেয়র এই উচ্ছেদকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলেন, আমরা আশ্চর্যের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, বিনা নোটিশে দক্ষিণ সিটি অবৈধ উচ্ছেদের মাধ্যমে বুলডোজার দিয়ে হাজার হাজার বৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দিল। ফলে হাজার হাজার দোকান মালিক ও কর্মচারী সপরিবারে পথে বসে গেল। আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র হিসেবে এই অবৈধ উচ্ছেদের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
অন্যদিকে গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর মানিকনগর এলাকার স্লুইসগেট ও পাম্প হাউস পরিদর্শনে গিয়ে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সাংবাদিকদের জানান, সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন। শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ১৭ মে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়। সেখানে মার্কেটসংক্রান্ত কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে। সংবাদকর্মীরা সবাই সেগুলো অনুসন্ধান করে বের করেছেন। সেখানে বিভিন্নভাবে টাকা লেনদেন হয়েছে। যাদের সঙ্গে টাকা লেনদেন হয়েছে, যারা লেনদেন করেছেন, তারাই অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, আমরা ডিএসসিসির পক্ষ থেকে অথবা আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবেই কোনো অভিযোগ আনিনি। যেসব ব্যবসায়ী ও দোকানদারের অবৈধ দখলে জায়গাগুলো ছিল, তারা অর্থ লেনদেন করেছেন। এখন তিনি পুরো দোষ আমার ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। সেটা আমি মনে করি খুবই অনভিপ্রেত। শুধু আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। সাঈদ খোকনের বক্তব্যকে মানহানিকর উল্লেখ করে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। তাপস বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বক্তব্য মানহানিকর। আমি তার বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছি। তাপস বলেন, ‘তিনি নিজে চুনোপুঁটি দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকার করেছেন। আর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্যই এটা মানহানিকর হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে পারি।
মামলাটি প্রসঙ্গে সাঈদ খোকন বলেন, সবাই বলেন, বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দেলোয়ার হোসেন দেলুকে দিয়ে এসব নোংরামি করাচ্ছেন। এতে তার ও দলের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। সাঈদ খোকনের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম সুমনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
জানা গেছে, সাঈদ খোকন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। তিনি পুরান ঢাকার অন্যতম ব্যক্তিত্ব মাজেদ সর্দারের নাতি। বাবা মোহাম্মদ হানিফের হাত ধরেই সাঈদ খোকন রাজনীতিতে নামেন। তিনি আওয়ামী লীগে নাম লেখান ১৯৮৭ সালে ওয়ার্ড শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। ১৯৯৯ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০৪ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। সর্বশেষ তিনি মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তার বদলে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে।
আওয়ামী লীগের সূত্র মতে, নগরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করতে না পারা, বিভিন্ন সময়ে বেফাঁস মন্তব্য, মশা নিধনে ব্যর্থতা ও নগরবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারা ইত্যাদি কারণে দলীয় মনোনয়ন পাননি খোকন। তবে সাঈদ খোকনের দাবি, তিনি কখনো কর্তব্যে অবহেলা করেননি। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, মেয়র হিসেবে সাঈদ খোকন অনেক কাজ করেছেন। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তার আরো কাজ করার সুযোগ ছিল। তবে কিছু বেফাঁস কথাবার্তা তাকে সমালোচিত করেছে।
আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী সূত্র জানায়, সাঈদ খোকন মেয়র হিসেবে পুরো একটি টার্ম দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এসময় ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ও বেফাঁস কিছু মন্তব্যের কারণে অনেকবার নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয়েছেন খোকন। এছাড়া, দলীয় রাজনীতিতেও কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন তিনি, যেটা ক্ষমতাসীন দলের ইমেজকে নষ্ট করেছে। এছাড়া, মেয়র হিসেবে খোকন নগরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। মূলত এসব কারণেই তাকে বাদ দিয়ে ডিএসসিসির মেয়র পদে এবার নতুন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
চলতি বছরের ২৫ জুলাই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এক অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাকে ‘গুজব’ বলে অবহিত করেন মেয়র খোকন। তিনি বলেন, মশা নিয়ে রাজনীতি কাম্য নয়। সাড়ে তিন লাখ আক্রান্তের যে তথ্য এসেছে সেটি কাল্পনিক তথ্য। ছেলেধরা আর সাড়ে তিন লাখ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত একই সূত্রে গাঁথা।’ মেয়রের এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলের ভেতরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর আগে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর আজিমপুরের পার্ল হারবাল কমিউনিটি সেন্টারের পাশে কর্মী সমাবেশ ডাকে আওয়ামী লীগ। তার পাশেই ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন পাল্টা কর্মসূচি দেন। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়ায় কে বা কারা সমাবেশস্থলের সামনে সিটি করপোরেশনের ট্রাক ভর্তি করে ময়লা রেখে যায়। ওই ঘটনার জন্য মেয়র সাঈদ খোকনকেই দোষারোপ করা হয়। এসময়  মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মেয়র খোকন। এ নিয়েও দলীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
এ কারণে হঠাৎ করে বিধ্বংসী মেজাজে সামনে এলেন সাঈদ খোকন। নজিরবিহীনভাবে অভিযোগ করলেন নিজ দল থেকে নির্বাচিত মেয়রের কার্যক্রম নিয়ে। যা রীতিমতো বিস্মিত করেছে সাধারণ মানুষকে। কেন এমন করলেন সাঈদ খোকন? কোনো কিছু না পাওয়ার যন্ত্রণাই কি মূল কারণ? সরকারি কোনো পদ-পদবিতে তিনি নেই। সর্বশেষ নগরপিতা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে হারিয়েছেন মেয়র পদও। আর এ কারণেই কি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন মেয়র হানিফপুত্র? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে সামনে আসছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগর কর্তৃপক্ষের কোনো কাজ নিয়ে সাঈদ খোকনের অভিযোগ থাকলে তিনি তা দলীয় ফোরামে তুলতে পারতেন। বলতে পারতেন প্রধানমন্ত্রীকেও। কিংবা সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারতেন এ নিয়ে। কিন্তু তা না করে মানববন্ধন ডেকে যেভাবে তিনি প্রকাশ্যে বর্তমান মেয়রকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টিও আলোচনা এসেছে। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিরোধীদের চেয়েও বেশি বিরোধিতায় সরব হয়ে কী বোঝাতে চাইছেন খোকন? যদিও ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান নগরপিতা ফজলে নূর তাপস বলছেন, এসব সাঈদ খোকনের ব্যক্তিগত অভিমত। এটি কোনো গুরুত্ব বহন করে না। ‘ব্যক্তিগত আক্রোশের’ কোনো বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়াটাও সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।                                                                   এনএমএস।
 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com