ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ● ১২ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার  সোমবার ● ২৫ জানুয়ারি ২০২১
শিরোনাম: চট্টগ্রামের ভোটে কোনো ঘটনার দায়ই ইসি এড়াতে পারে না : ইসি মাহবুব       ফেব্রুয়ারিতে সব মাদরাসা খোলার প্রস্তুতি       যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে করোনাকালীন কড়াকড়ি পুনর্বহাল করবেন বাইডেন       ২৫ শতাংশ কমিয়ে এসএসসির সিলেবাস প্রকাশ       করোনায় দেশে আরও ১৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬০২       তিস্তার পানি দেয় না, টিকা দিচ্ছে, এত দরদ : রিজভী       মেয়র আতিকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার শুনানি মঙ্গলবার      
জলাবদ্ধতা নিরসন
খালের পানি সরানোর দায়িত্ব পাচ্ছে সিটি করপোরেশন
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Thursday, 26 November, 2020 at 7:06 PM

সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। দুর্ভোগে পড়েন প্রায় দুই কোটি মানুষ। আর এ নিয়ে হৈ চৈ শুরু হলেই ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে শুরু হয় বাকযুদ্ধ। সিটি করপোরেশন বলে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের দায়িত্ব ওয়াসার। আবার ওয়াসা বলে কাজটি সিটি করপোরেশনের। গত ৩০ বছর ধরেই চলছে এ সঙ্কট। এবার তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
 
ঢাকার রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসার অধীনে থাকা সব খাল ও নালা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে ন্যস্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও গঠন করে দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই মেয়র জলাবদ্ধতা থেকে রাজধানীবাসীকে মুক্তি দিতে নতুন করে অঙ্গীকার করেছেন। তারা নবযুগের সূচনা করতে চান।
 
আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলো ঢাকা ওয়াসার পরিবর্তে সিটি করপোরেশনের অধীনে দেওয়ার বিষয়ে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন।

এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় করা যায় সেজন্য টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিমকে কমিটির আহ্বায়ক এবং উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ উর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটিতে দুই সিটি করপোরেশনের চারজন করে আটজন এবং ওয়াসার চারজন প্রতিনিধিও থাকবেন। টেকনিক্যাল কমিটি এক মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেবে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ঢাকা ওয়াসা বিভিন্ন সময় বলেছে, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব সংস্থাটির নয়। এই প্রেক্ষিতে পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে বিভিন্ন সময়।

বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, স্থানীয় সরকারের সিনিয়র সচিব হেলালউদ্দিন আহমদ ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা অনেক পুরোনো দিনের সমস্যা। জনগণের পাশে থেকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে জনগণকে রক্ষার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। আমরা খালগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে ফ্রিজ, টিভি, জাজিমসহ অনেক কিছুই পেয়েছি। খালের দুই পাশ দখল হয়ে গেছে। কালসীর ৬০ ফুটের খাল এখন পাঁচ ফুট পাওয়ার কথা জানিয়ে উত্তরের মেয়র বলেন, খালগুলো উদ্ধার করে দুই পাশে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেইনসহ যুগোপযোগী করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা নিরসনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৯৮৮ সালে জনস্বার্থ প্রকৌশল বিভাগ এ দায়িত্ব (পানি নিষ্কাশন) সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা না দিয়েও ওয়াসাকে দেওয়া হয়। সেই থেকে আজ অবধি প্রায় ত্রিশ বছরের ঊর্ধ্বে ঢাকাবাসী দুর্ভোগে নিমজ্জিত রয়েছে। আজকের এই সিদ্ধান্তে আমরা একটা নব সূচনা করতে পারছি। আমি আশাবাদী আমরা অচিরেই ঢাকাবাসীকে এর সুফল পৌঁছে দিতে পারব। এটি সিটি করপোরেশনের একটি বাড়তি দায়িত্ব হল কিনা জানতে চাইলে তাপস বলেন, ঢাকাবাসী নির্বাচনের মাধ্যমে তারা দুজন নেতাকে নির্বাচিত করেছেন। সেই ম্যান্ডেটের কারণে এই সাহস করেছি যে, ঢাকাবাসীকে এ সমস্যা থেকে সমাধান দেবো। সকল প্রতিকূলতা নিয়েই এ বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছি।

তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসার কোনো ব্যর্থতা দেখেন না এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান। তিনি বলেন, একাজ সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার জন্য অনেকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা নেয়নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা নয়।
 ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্লানিং বিভাগ শিক্ষক ড. সারওয়ার জাহান বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অপরিকল্পিত উন্নয়ন হচেছ। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক ড্রেনেজ সিস্টেম অর্থাৎ খাল বিল পুকুড় যা ছিলো তা ভরাট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পানি তো যেতে হবে কিন্তু সে সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রাকৃতিক সিস্টেম যেহেতু ধ্বংস হয়ে গেছে তাই কৃত্রিম সুযোগ তৈরি করতে হবে পানি যাওয়ার। তার মতে, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে পানি নষ্কাশনের জন্য। কিন্তু তাদের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই।

২০১৭ সালে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পর ধানমন্ডি এলাকা পরিদর্শনে এসে ডিএসসিসির তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘জলাবদ্ধতার দায় ঢাকা ওয়াসার।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য একটি সভায় তিনি ওয়াসাকে একটি ব্যর্থ সংস্থা হিসেবেও অবহিত করেন। একই সময়ে উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক বলেছিলেন, তার হাতে কোনও ক্ষমতা বা জাদু নেই যে, এই দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হবে।

দুই মেয়রের এমন মন্তব্যের পর ওই  বছরের ১৬ জুলাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত জলাবদ্ধতা নিরসনের আন্তঃবিভাগীয় এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ছিলেন তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

সভায় ওয়াসা এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর কোনও দেশে যারা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে, ময়লা পানি তাদের দায়িত্বে থাকে না। এমনকি বাংলাদেশের অন্য শহরগুলোতেও। শুধু ঢাকা শহরেই ব্যতিক্রম।’

ওই বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়াসাকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে এই দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু মন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত দুই সিটি করপোরেশন মেনে নিলেও আইনি জটিলতায় পড়েন তারা। এরপর ওই বছরের ১ আগস্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং নারায়ণগঞ্জের সিটি মেয়রদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আক্তারকে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন আইন সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করে দেন। কিন্তু সেই আইন এখনও সংশোধন হয়নি।
আজকালের খবর/এসএম


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com