ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ● ১২ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার  সোমবার ● ২৫ জানুয়ারি ২০২১
শিরোনাম: ক্যারিবীয়রা হোয়াইটওয়াশ, ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের       চট্টগ্রামের ভোটে কোনো ঘটনার দায়ই ইসি এড়াতে পারে না : ইসি মাহবুব       ফেব্রুয়ারিতে সব মাদরাসা খোলার প্রস্তুতি       যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে করোনাকালীন কড়াকড়ি পুনর্বহাল করবেন বাইডেন       ২৫ শতাংশ কমিয়ে এসএসসির সিলেবাস প্রকাশ       করোনায় দেশে আরও ১৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬০২       তিস্তার পানি দেয় না, টিকা দিচ্ছে, এত দরদ : রিজভী      
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ মাসে অর্ধশতাধিক খুন
মোজাম্মেল চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
Published : Thursday, 26 November, 2020 at 4:37 PM

পারিবারিক কলহ, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ৬ মাসে অর্ধশতাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। কখনো নিজ বাড়ির খাটের নিচ থেকে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আবার কখনো প্রতিপক্ষের লোকজনকে বাড়ির আঙ্গিনায় ফেলে দল বেঁধে ধারালো অস্ত্রসহ নানা কায়দায়  হত্যা করা হয়েছে। কোন কোন সময় সড়ক, মহাসড়ক ও জলাশয়ে মিলেছে মরদেহ।

জানা গেছে,  চলতি বছরের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অর্ধশত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসকল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক পৃথকভাবে মামলা হলেও অনেক আসামি এখনো রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গড়িমসি এবং খুনের মত ঘটনায় সমাজপতিদের হস্তক্ষেপে আপসের কারণেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। তাই বেপরোয়া হয়ে উঠছে অপরাধীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর লামা বায়েক গ্রামের জোড়া খুন অন্যতম। গত ২৯ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয় ইশান ও মনির নামের দুই যুবক। গত দেড় মাসে এই হত্যা মামলায় মাত্র ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

নিহত ইশানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সন্তান হারিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ মা আকলিমা আক্তার ও বাবা মিজানুর রহমান। তারা কিছুতেই তাদের সন্তানের এই নির্মম পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না। পুত্র শোকে কাতর হয়ে বার বার মূর্ছা যান নিহত ইশানের মা আকলিমা আক্তার। এ সময় তিনি বিলাপ করতে করতে বলেন, ছেলেই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। অনেক শ্রম, অনেক প্রচেষ্টা দিয়ে তাকে লালন করেছি। আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তারা এখনো মুক্ত আকাশের নিচে ঘোরা ফেরা করছে। আর আমরা কষ্টে দিন পার করছি। আসামিদের হুমকি ধামকিতে আমার এখন আতংকে রয়েছি।

নিহত ইশানের বাবা মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের এতদিন পার হলেও আসামিদের ধরা হচ্ছে না। আসামিরা প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিচ্ছে। কখন কি ঘটে যায় তা বলতে পারি না। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, সরাইলসহ জেলার ৯টি উপজেলাতেই এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২টি জোড়া খুন, ব্যাংক ডাকাতি চেষ্টায় খুনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বেওয়ারিশ মরদেহও উদ্ধার করা হয়। প্রত্যেকটি ঘটনায় মামলাও হয়েছে। এতে শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি  করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ সকল মামলার সঙ্গে জড়িত অনেক হোতাকে আইনের আওতায় আনলেও মামলার অধিকাংশ আসামি রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।   

অপরাধের ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ও তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের গড়িমশির কথা উল্লেখ করে জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য আবদুন নূর বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে সামাজিক অস্থিরতাসহ খুন বাড়ছে। যথাযথ আইন প্রয়োগের অভাবে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তিনি একা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায় না চাপিয়ে সমাজে অপরাধ বন্ধ করতে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজপতিসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান।  

জেলার প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, একটি খুনেরও সঠিক বিচার হয় না। কোন খুনের ঘটনা বিচারের প্রক্রিয়ায় গেলেই এক শ্রেণীর সমাজপতি বা গোষ্ঠীর নেতারা শান্তি রক্ষার নামে হত্যার মত ঘৃণ্য ঘটনার আপোস করতে উঠে পড়ে লাগে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। তিনি বলেন, কোন খুনের আপোস নয়, বরং খুনের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।  

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শফিউল আলম লিটন বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরো গতিশীল করতে হবে। কারণ একটা অপরাধ সংঘটিত হবার সঙ্গে সঙ্গে তা দমন করা গেলে কেউ আরেকটি অপরাধ করতে সাহস পাবে না। আপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা গেলেই অপরাধীরা অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডগুলো পারিবারিক কলহ, দলীয় কিংবা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ দ্রুত তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণসহ হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগ রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনেছে। এছাড়াও সামাজিক অপরাধ রোধে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ চলছে।
 আজকালের খবর/এসএম


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com