ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  শুক্রবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২০ ● ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার  শুক্রবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২০
শিরোনাম: মা-বাবার পাশেই মহানায়কের চির ঘুম       চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আলী যাকের       দেশে করোনায় আরও ২০ জনের মৃত্যু       ‘ভ্যাকসিন এলে জনগণ যাতে সহজেই পায়, প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে’       করোনায় মারা গেলেন সুদানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহদি       সপরিবারে করোনা আক্রান্ত বরকত উল্লাহ বুলু       হোয়াইট হাউসে প্রথম ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা নিয়োগ পাচ্ছেন      
ফুড মেডিসিনের পরেই লুব্রিকেটিং ওয়েল গুরুত্বপূর্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Saturday, 21 November, 2020 at 7:40 PM

ফুড মেডিসিনের পরেই লুব্রিকেটিং ওয়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি মানসম্মত না হলে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাবে। কুলিং কম হবে অনেক সমস্যা হতে পারে। দেশে লুব্রিকেটিং ওয়েলের বাজার খুব ছোট। তারপরেও এখনে এলপিজি, সিমেন্টের মতো কামড়াকামড়ি চলছে। অনেকে নিম্নমানের ওয়েল আমদানি করছে। রেগুলেটর কোম্পানি এই ব্যবসায় প্রবেশ করায় নানা সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। ভেজাল ও মানহীন পণ্য বিক্রি হচ্ছে এই সেক্টরে। এ বিষয়ে সরকারকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। শনিবার এক ওয়েবিনারে এমন মতামত তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এমজেএল লুব্রিকেন্টের পরিচালনা বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ফুড মেডিসিনের পরেই লুব্রিকেটিং ওয়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভালো না হলে ইঞ্জিন বসে যাবে। কুলিং কম হবে অনেক সমস্যা হতে পারে। সরকার কেনো এদিকে নজর দিচ্ছে না তা বোধোগম্য নয়। আমাদের এলপিজি, সিমেন্টসহ সবজায়গায় কামড়াকামড়ি চলছে। প্রত্যেকটি শিল্পে এটি ঢুকে গেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে রেগুলেটর নিজে ব্যবসায় ঢুকে গেছে। লুব্রিকেটিং ওয়েল সেক্টরের একই সমস্যা দেখছি। স্টান্ডার্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো ল্যাবরেটরি নেই।

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের এডিটর মোল্লাহ আমজাদ হোসেন ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, লুব্রিকেন্ট ওয়েলের চাহিদা ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন, মার্কেট সাইজ পাঁচ হাজার কোটির টাকার মতো। ছোট্ট মার্কেট, কিন্তু দুনিয়ার এমন কোনো জ্ঞাত ব্রান্ড নেই যা পাওয়া যায় না। অনেক আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডের লুব তৈরি হচ্ছে দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব। বাংলাদেশের বাজার আমদানি নির্ভর হলো কেনো তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এখানে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভেজাল ও মানহীন পণ্য বিক্রি। অনেক সময় বেজড ওয়েলের চেয়েও কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। শিল্প এবং ট্রান্সপোর্টকে সুস্থ রাখতে লুব্রিকেন্ট জরুরি। দুনিয়াশুদ্ধ ল্যাব শেয়ারিং কালচার চালু রয়েছে। আমাদের এখানেও এটি হতে পারে।

এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কনসালটেন্ট এডিটর প্রকৌশলী খন্দকার সালেক সুফী বলেন, বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডগুলো আপডেট করা হয়নি। তিনটি রেগুলেটরের মধ্যে একটি নিজে একজন বিক্রেতা। বিএসটিআই মান সেট করে দিতে পারে। সাব-স্ট্যান্ডার্ড কেউ আনলে পুলিশিং করতে হবে।

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বাজারের যে চাহিদা দুই কোম্পানি সাপ্লাই দিতে পারে। এ কথা সত্য নয়, যে আমদানির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা দরকার। বিপিসি আমদানি করে বাজারজাত করছে। এটি না করে রয়েলিটির মাধ্যমে এসব বাজারজাত করতে পারে। 

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ খালেদ বলেন, ১৯৯৭ সালে ২টি, কারখানা ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে প্লান্ট রয়েছে ১৫টি, আরও ৩টি আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্ডার ইনভয়েসে এনে. মার্কেটে কারসাজি রয়েছে। এখন ট্যারিফ ভ্যালু করা হয়েছে ২ হাজার ডলার। আমাদের নিজেরা আড়াই হাজার ডলার দিয়ে আমদানি করছি। অনেক সময় দুবাই থেকে আমাদের প্রোডাক্ট এনে কমদামে বিক্রি করছে। অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে মার্কেটে টিকতে না পেরে। তিনি বলেন, সরকার রিসাইকেল ওয়েলের জন্য তিনটি ব্যান্ডিং প্লান্টকে অনুমোদন দিয়েছে। এর বাইরে ভুইফোড় ৩০টি মতো রয়েছে। তারা জাহাজ, পাওয়ার প্লান্ট, ট্রান্সফরমার ওয়েল এক ড্রামে রেখে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে রেখে দিচ্ছে। জমে গেলে ওপর থেকে বিক্রি করছে। এতে কোয়ালিট থাকছে না, মেশিন লাইফটাইম হারাচ্ছে। ব্যবহৃত ওয়েল ওনারা ওপেন টেন্ডারে বিক্রি করছেন। দেশের স্বার্থে রিসাইকেল ব্র্যান্ডের কাছে বিক্রি করা প্রয়োজন। রেগুলেটরি বডি বিইআরসি ঠুটো জগন্নাথ, তাদের না আছে লোকবল না আছে ল্যাবরেটরি।

বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. বায়েজিদ কবীর বলেন, নিজস্ব কাঁচামাল নেই লুবের। এই সেক্টরের বড় সমস্যা। নতুন নতুন টেকনোলজি আসছে, স্ট্যান্ডার্ডগুলো সেভাবে আপডেট করা হয়নি। কাস্টমস থেকে কিছু টেস্টিংয়ের জন্য আসে। এটি অনেকটা অনুরোধে ঢেঁকি গেলানোর মতো। অনেকগুলো আউট গ্রেডেড হয়ে গেছে। মাকের্টে কিছু লো-গ্রেডেড লুব্রিকেন্ট রয়েছে। প্রোপার ওয়েতে কালেক্ট করে রিসাইকেল করা গেলে ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এতে দুইভাবে উপকার পাওয়া যাবে, এক ফরেনকারেন্সি সেভ হবে, অন্যদিকে নিম্নমানের প্রোডাক্ট কমে যাবে।

এমজেএল লুব্রিকেন্ট’র সিইও মুকুল হোসেন বলেন, হায়ার ভ্যালু ব্র্যান্ডের ড্রামে লোকাল ব্র্যান্ডের লুব করা হচ্ছে। এখানে কালো টাকা সাদা করার জন্য বিনিয়োগ হচ্ছে। বিপিসি, বিএসটিআই ও বিইআরসি, নখদন্তহীন বাঘ। ট্রেস্টিং করার মতো দক্ষতার অভাব রয়েছে। বুয়েটে রেজাল্ট ভিন্ন আসে। আমরা এখনও ১৯৫৭ সালে রয়ে গেছি। কতগুলো রিটেইলার একত্র হয়ে এলসি খুলছে। যা ঘোষণা করছে পরীক্ষায় সেই মান পাওয়া যাচ্ছে না।

ইশতিয়াক বলেন, সেলস এন্ড মার্কেটিংয়ে আছি পনের বছর ধরে। যারা প্রোডাক্টগুলো আনছে যারা আনছে সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য। কোয়ালিটির বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

আজকালের খবর/এএইস


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com